Alexa সূরা বাকারা: ১১৮-১৪৩ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা

সূরা বাকারা: ১১৮-১৪৩ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা

পর্ব-৫

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৮ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৯ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আমরা এখানে সূরা বাকারার ১১৮-১৪৩ নাম্বার আয়াতসমূহের উল্লেখযোগ্য শানে নুযুল (আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট) তুলে ধরছি-

আরো দেখুন>>> সূরা বাকারা: ১০৩-১১৫ নম্বর আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা  পর্ব- ৪

وَقَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ لَوْلاَ يُكَلِّمُنَا اللهُ
অর্থ : যারা কিছু জানে না তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোনো নির্দশন কেন আসে না, এমনিভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরুপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয়ই আমি উজ্জল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি। তাদের জন্য যারা প্রত্যয়শীল। (আয়াত-১১৮)।

শানে নুযুল : একবার মক্কার কাফেররা রাসূল (সা.)- কে বলল, আপনি যে আল্লাহর রাসূল এই কথা আল্লাহ কেন আমাদেরকে সরাসরি বলে দিচ্ছে না? অথবা কোন নিদর্শন/ প্রমাণ কেন নাজিল হচ্ছে না ? তাদের এই কথার জওয়াবে উক্ত আয়াত নাজিল হয়।

إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ.
(হে নবী) নি:সন্দেহে আমি আপনাকে সত্যসহ এভাবে প্রেরণ করেছি আপনি (জান্নাতের) সুসংবাদ দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে ভয় দেখাবেন। যেসব লোক স্বেচ্ছায় জাহান্নামের পথ অবলম্বন করবে তাদের ব্যাপারে আপনাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। (সূরা বাকারা : ১১৯)।

শানে নুযুল : কাফের মুশরিকদের ঈমান আনয়নে অনীহা ও দ্বীনে হকের বিরোধিতার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে চিন্তান্বিত হয়ে পড়েন। তখন আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দিয়ে বলেন, হে রাসূল! আমি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ হেদায়েতের পথযাত্রীদের প্রতি বেহেশতের সুসংবাদদাতা ও হেদায়েত বিমূখ কাফিরদের প্রতি দোজখের ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি। এ হেদায়েত পৌঁছে দেয়াই আপনার দায়িত্ব। কে হেদায়েত গ্রহণ করছে বা করছে না তার হিসেব রাখা আপনার দায়িত্ব নয়। আর দোজখবাসীদের ব্যাপারে আপনি জিজ্ঞাসিতও হবেন না।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পরলোকগত পিতা-মাতা সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকেন যে, তারা কোথায় অবস্থান করছেন, বেহেশতে না দোজখে? এ বিষয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তার শিকার হয়ে পড়েন। তখন আল্লাহ তায়ালা উক্ত আয়াত নাজিল করে তাকে এরূপ চিন্তা করতে বারণ করে দেন।

وَلَن تَرْضَى عَنكَ الْيَهُودُ وَلاَ النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ
অর্থ : ইহুদি ও খৃষ্টানরা কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন, বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাংখাসমূহের অনুসরণ করেন, ওই জ্ঞান লাভের পর যা আপনার কাছে পৌঁছেছে। তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারাকরী ও সাহায্যকারী নেই। (আয়াত-১২০)

শানে নুযুল : এ আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে মুফাসসিরগণ লিখেন, মদিনার ইহুদি ও নাজরানের নাসারা মনে প্রাণে চাইত যে, রাসূল (সা.) যেন তাদের কেবলা অনুসরণ করেন। যখন বাইতুল্লাহকে কেবলা বানিয়ে দেয়া হলো তখন তাদের মন ভেঙ্গে গেল। তারা যে আশা করেছিল রাসূল আমাদের ধর্ম অনুসরণ করবেন সে আশাও ভেঙ্গে গেল তখনই এই আয়াত নাজিল হয়।

الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ أُوْلَئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ
অর্থ : আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে আর যারা তা অবিশ্বাস করে তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্থ।  (আয়াত-১২১)।

শানে নুযুল : এই আয়াতটি নাজিল হয় নাজ্জাসীর কিছু সাথীদের ব্যাপারে যারা মূলত আহলে কিতাব ছিল। তারা হাবসা থেকে রাসূল (সা.) এর দরবারে আসেন এবং মুসলমান হয়ে যান। তাদের ব্যাপারে এই আয়াতটি নাজিল হয়।

وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُواْ
অর্থ : যখন আমি কাবাগৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স্থল ও শান্তির স্থান করলাম আর তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাজের জায়গা বানাও এবং ইব্রাহিম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী অবস্থানকারী ও রুকু সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (আয়াত ১২৫)।

শানে নুযুল : এই আয়াত সম্পর্কে বুখারী শরিফে বর্ণিত আছে, ওমর (রা.) একদা রাসূল (সা.)-কে বললেন, হে রাসূলুল্লাহ! মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানিয়ে নিলে ভালো হত তখন এই আয়াত নাজিল হয়। তাই তো ওমর (রা.) বলেন আমার তিনটি সিদ্ধান্ত আল্লাহর সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে গেছে। (১) আমি রাসূল (সা.) এর কাছে মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান বানানোর আবেদন করেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান ঘোষণা করেন। (২) আমি রাসূল (সা.)-কে বলেছিলাম, আপনার বিবিদের কাছে ভারো মন্দ উভয় ধরণের লোক যায় অতএব, তাদেরকে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলার নির্দেশ দিলে ভালো হয় তখন এই পর্দার আয়াত নাজিল হয়। (৩) যখন রাসূল (সা.) এর বিবিরা আত্মমর্যাদার দাবী করল তখন আমি বললাম عسى ربه انه তখন আল্লাহ তায়ালা হুবহু আমার কথাটি নাজিল করেন।
 
وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلاَّ مَن سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا
অর্থ : ইব্রাহিমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি যে ব্যক্তি নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই তিনি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভ্ক্তূ। (আয়াত : ১৩০)।

শানে নুযুল : এ আয়াতটি শানে নুযুল সম্পর্ক মুফাসসিরগণ লেখেন যে, একবার হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) তার দুই ভাতিজা সালামা এবং মুহাজিরকে এই বলে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন দেখ, মুহাম্মাদ (সা.) সত্য নবী এবং কোরআন সত্য কিতাব আর তোমরা ইহাও জান যে, তাওরাতের মধ্যে শেষ নবীর সম্পর্কে ভবিষ্যতবানী করা হয়েছে। অতএব, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করবে না? তাদের ব্যাপারেই এই আয়াত নাজিল হয়।
 
أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاء إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ
অর্থ : তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয় যখন তিনি সন্তানদের বললেন, আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলল, আমরা তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব। তিনি একক উপাস্য। (আয়াত : ১৩৩)।

শানে নুযুল : এই আয়াতের শানে নুযুল সম্পর্কে মুফাসসিরীনে কেরাম লেখেন, একবার ইহুদীরা বলতে লাগল যে, হজরত ইয়াকুব (আ.) ইন্তেকালের সময় তার সন্তানদেরকে ইহুদি হওয়ার ওসিয়ত করেছিলে। তাদের এই অমূলক দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এই আয়াত নাজিল হয়।

وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُواْ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ.
অর্থ: আর এই (ইহুদি ও খ্রিস্টানরা) মুসলিমদেরকে বলে, ‘তোমরা ইহুদি অথবা খ্রিস্টান হয়ে যাও। সঠিক পথ পাবে।’ বলে দাও, ‘না, (আমরাতো) বরং ইব্রাহিমের দ্বীনের অনুসরণ করছি যিনি সঠিক পথে ছিলেন। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, যারা আল্লাহর সঙ্গে শিরক করত।’ (আয়াত-১৩৫)।

শানে নুযূল : প্রচলিত ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মে শিরক থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ তারা মিল্লাতে ইব্রাহিমের পালনীয় খৎনা, হজ্জ ইত্যাকার কোনো কোনো কাজ করার কারণে নিজেদেরকে মিল্লাতে ই্রিাহিম অনুসারী বলে মনে করত। তেমনিভাবে মুশরিকরাও এ ধরনের কিছু কাজের জন্য নিজেদেরকে ইব্রাহিম (আ.) এর অনুসারী হওয়ার দাবি করত। তাই ইহুদি ও নাসারাদের সঙ্গে আরব মুশরিকদেরও প্রতিবাদে বলা হলো, তোমাদের ও হজরত ইব্রাহিমের মধ্যে যখন শিরক ও তাওহীদের পার্থক্য রয়েছে। যখন কেবল কোনো কোনো আনুষ্ঠানিক কার্য পালন করেই তোমরা কি মিল্লাতে ইব্রাহিমের দাবি করতে পার? এ প্রসঙ্গে এ আয়াত নাজিল হয়।

صِبْغَةَ اللهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدونَ.
অর্থ: (হে মুসলিমগণ বলে দাও :) ‘আমাদের ওপর তো আল্লাহ তাঁর রঙ লাগিয়ে দিয়েছেন। আর কে আছে যে আল্লাহর চেয়ে উত্তম রঙ লাগাবে। আমরা শুধু তাঁর ইবাদত করি।’ (আয়াত-১৩৮)।

শানে নুযুল : খ্রিস্টানরা পুত্র-সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিবসে হলুদ বর্ণের পানিতে গোসল করায়। একে তারা বাপ্তাইজম বা বাপ্তাইষ্ট করা বলে। আর বলে সে এবার খাঁটি খ্রিস্টান হয়ে গেছে। খ্রিস্টানদের ওই কুসংস্কারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে অনুষ্ঠানের যথার্থতা কী? কারো যদি রং ধারণ করতে হয়, তবে সে যেন আল্লাহর রং ধারণ করে। এ ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়।

قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ.
অর্থ: বলো : ‘আল্লাহ সম্পর্কে কি তোমরা আমাদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও। অথচ তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং (কথা হচ্ছে) আমাদের আমল আমাদের জন্য আর তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমরা তো আমাদের ইবাদত শুধু তাঁরই জন্য পালন করি।’ (আয়াত-১৩৯)।

শানে নুযুল-১ : ইহুদিরা মুসলমানগণকে বলত যে, আমরা প্রথম আহলে কিতাব, আমাদের কেবলাও তোমাদের কেবলা হতে পূর্বের। অতএব, বনী ইসরাঈল ব্যতীত আরবদের মধ্য হতে কোনো নবী হতে পারে না। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি নবী হতেন, তবে আমাদের মধ্য হতেই হতেন। তাদের উল্লিখিত ধারণা বাতিল করার জন্য উল্লেখিত আয়াতটি নাজিল হয়।

২। একবার ইহুদীরা মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে বলল, আমরা প্রথম কিতাবওয়ালা, আমাদের কেবলা সবচেয়ে পুরাতন সুতরাং আরব থেকে কোনো নবী হতে পারে না। যদি মুহাম্মাদ নবী হত তাহলে আমাদের বংশ থেকেই হত। তখন এই আয়াত নাজিল হয়।

سَيَقُولُ السُّفَهَاء مِنَ النَّاسِ مَا وَلاَّهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُواْ عَلَيْهَا قُل لِّلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ يَهْدِي مَن يَشَاء إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ.
অর্থ:  এখন এই নির্বোধরা বলবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টা কি যা (মুসলমানদেরকে) এই কিবলা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে উৎসাহিত করছে। যেদিকে তারা এখন পর্যন্ত মুখ ফেরাতো। আপনি তাদেরকে বলে দিন পূর্ব এবং পশ্চিম সবই আল্লাহর। তিনি যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে সরল হেদায়েতের পথ দান করেন। (আয়াত-১৪২)।

শানে নুযূল : উল্লিখিত আয়াত দ্বারা রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘গায়েব’ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। মক্কায় অবস্থানকালে কাবা শরিফের দিকে ফিরে মুসলমানগণ নামাজ আদায় করতেন। হিজরতের পর বায়তুল মাকদিসের দিকে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়। এভাবে ষোল বা সতের মাস অতিক্রমের পর পুনরায় কাবা শরিফের প্রতি প্রত্যাবর্তনের হুকুম প্রদান করা হয়। এই শেষ নির্দেশের পর মক্কার ও মদিনার অমুসলিম সমাজ যে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য করবে সে সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পূর্বেই তাঁর নবীকে জানিয়ে উল্লিখিত আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (তাফসীরে বায়জাবী, তাফসীরে জালালাইন)।

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ.
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে তিনি তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দিবেন। মূলত আল্লাহ মানুষের ওপর প্রভূত সহনশীল, অত্যন্ত মেহেরবান। (আয়াত-১৪৩)।

শানে নুযূল : কেবলা পরিবর্তনের পর মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে হুয়াই ইবনে আখতারসহ অন্যান্য ইহুদিরা মুসলমানদের বলতে শুরু করে, ‘হে মুসলমানগণ! আমাদের কেবলা যদি সঠিক না-ই হয়ে থাকে আর যদি কাবা ঘরই প্রকৃত কেবলা হয়ে থাকে, তবে ইতপূর্বে যারা বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে নামাজ পড়েছে এবং মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের পরিণতি কী হবে? তারা কী জান্নাত পাবে, না জাহান্নামে যাবে? তাদের এরূপ প্রশ্নে মুসলমানদের মনেও সংশয় দেখা দেয়। তখন তাদের সংশয় নিরসনের জন্য আল্লাহ তায়ালা আলোচ্য আয়াতাংশটি অবতীর্ণ করেন।
চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে