Alexa সূরা তহার আলোকে নবীদের আদর্শ (পর্ব- ৪)

সূরা তহার আলোকে নবীদের আদর্শ (পর্ব- ৪)

হাবীবুল্লাহ সিরাজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৫ ১৫ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৫ ১৫ আগস্ট ২০১৯

পবিত্র কোরআনুল কারিম (ফাইল ফটো)

পবিত্র কোরআনুল কারিম (ফাইল ফটো)

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর ও সফল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন নবী-রাসূলগণ। তাদের চরিত্র মাধুর্যের সংস্পর্শে মানুষ পেয়েছে শান্তি ও মুক্তির পথ। তাদের সেই সুন্দর চরিত্রের বর্ণনা রয়েছে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে। 

মহান আল্লাহ তাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, তাদের ভেতরে মনুষ্য চরিত্রের সকল ভালো দিকগুলোর সমাবেশ ঘটিয়েছেন। একেক জন নবী ছিল আদর্শ ভদ্র ভব্য সভ্য মোহনীয় চরিত্রের স্থায়ী পিরামিড। তাদের ব্যবহারে কোনো শত্রুও অভিযোগ উঠাতে পারেনি, তাদের আচরণে সমাজের কেউ কষ্ট পায়নি। তাদের চলাফিরায় কোনো পথিক দুঃখবোধ করেনি। তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ক্রেতা বিক্রেতাও সমালোচনা করতে পারেনি। তাদের হাসিতের কেউ বিদ্রুপের রেশ পায়নি। তাদের চলনে বলনে কথনে শয়নে স্বপনে কেউ আহত হয়নি। তবে হ্যাঁ, অনেকে আহত হয়েছে; যাদের আহত হওয়াটাও সুন্দর চরিত্রের দাবি ছিল। নবীদের সেই চরিত্রগুলো কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য সুন্দরভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। 

সূরা তহায় নবীদের আদর্শ সম্পর্কে বলা হয়েছে, 
. مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى
তরজমা: আমি তোমার ওপর কোরআন এজন্য নাজিল করিনি যে, তুমি কষ্ট ভোগ করবে (সূরা তহা : আয়াত নম্বর ২)।

৩৯ নম্বর গুণ: কিয়ামুল লাইল ও মোজাহাদা মেহনত

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিয়ামুল লাইল (রাত্রে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ইবাদত করা) কষ্ট মোজাহাদা দেখে আল্লাহর পক্ষ হতে এই সান্তনার বাণী এসেছে যে, আল্লাহ আপনাকে কষ্টে ফেলতে চান না তারপরও রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে দ্বীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। এটা তো সকল আম্বিয়াদের সর্বকালের সুন্নত। রাতের বেলা ঘুম ছেড়ে জায়নামাজে ইবাদতে কাটানো নেককারদের অভ্যাসরীতি। রাসূলুল্লাহ এর কিয়ামুল লাইল এতো দীর্ঘ হতো যে, তেলাওয়াতে পারার পর পারা শেষ হয়ে যেতো, পাদ্বয় ফুলে যেতো।  

إِذْ رَأَى نَارًا فَقَالَ لأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى
তরজমা: যখন সে এক আগুন দেখতে পেয়ে তার পরিবারবর্গকে বলেছিল, তোমরা এখানে থাক। আমি এক আগুন দেখেছি, সম্ভবত আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু জ¦লন্ত অংগার নিয়ে আসতে পারব কিংবা সে আগুনের কাছে আমি পথের দিশা পেয়ে যাব। (সুরা তহা : আয়াত নং ১০)

৪০ নম্বর গুণ সর্বদা সত্য ও হক অনুসন্ধান করা:

ব্যাখ্যা: সর্বদা সত্য ও হক তালাশে লিপ্ত থাকা। সিরাতে মুসিতাকিমের যাত্রী হয়েও নিরাপত্তা ও স্থায়ীভাবে এর ওপর আপদমস্তক লেগে থাকার জন্য দোয়া করা। উচ্চ মর্যাদার জন্য অনুসন্ধানের এই যাত্রা অব্যাহত রাখা। সামান্য সময়ের জন্যও তা ছেড়ে না দেয়া। সমস্ত মানুষের উপকারের জন্য সত্য অনুসন্ধান করা মানবতার এই সফর সত্য সন্ধানের পথে থাকা আজীবন।

إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لا إِلَهَ إِلاَّ أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلاةَ لِذِكْرِي
তরজমা: নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই সুতরাং আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। (সুরা তহা : আয়াত নং ১৪)

৪১ নম্বর গুণ: ইবাদতে সময় কাটানো:

ব্যাখ্যা: বান্দার জীবন অতিবাহিত করার পদ্ধতি হবে ইবাদতে সময় ব্যয় করা। কোনো লোভ লালসা ভয় ভীতি ইবাদত থেকে তাকে ফেরাতে পারবে না। বন্দেগীতে সময় কাটানোই জীবনগর্বের মূলমন্ত্র। কেননা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তারই ইবাদত শোকরগোজারে মত্ত থাকার জন্য। ওই জীবন জীবন নয়, যা বেহুদা কাজে লিপ্ত থাকে। আল্লাহর নেককার বান্দারা আল্লাহর ইবাদত থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। আল্লাহর আনুগত্য থাকায় তাদের দুনিয়াবী কাজও ইবাদতে পরিণত হয়ে যায়। কেমন জানি তাদের পূর্ণ জীবনই ইবাদতে কেটে যায়। 

৪২ নম্বর গুণ আল্লাহর জিকিরে ইখলাস: 

ব্যাখ্যা: আল্লাহর খালেস বান্দা জিকির করে। সর্বদা জিকিরে থাকে। অন্যেদেরকে জিকিরে উৎসাহ দেয়। জিকির করিয়ে দেয়। এমনটা করা তাদের ফরজ (আবশ্যক) কাজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। আমলের মান মর্যাদা বাড়া না বাড়া ইখলাসের নিয়তের ওপর নির্ভর করে। নামাজের হুকুম একারণে যে; বান্দা দুনিয়ার ব্যস্ততা ছেড়ে দিয়ে বারবার আল্লাহর স্মরণে বা জিকিরে ফিরে আসবে। যেন সে কখনো দুনিয়ার ব্যস্ততায় আল্লাহর জিকিরে স্খলন না ঘটে। একারণে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দ্বারা বান্দাকে পরীক্ষা করা হয় সে কী আল্লাহকে ভুলে গেছে না ভুলে নাই? এটা থার্মমিটার যার দ্বারা ঈমানের গরম মাপা হয়। তবে মূল বিষয় ঠিক রাখা যে, শুধুমাত্র ফরজ পালনে না আসা বরং মা’শুকের জিকিরে সাধ সৃষ্টি করা আর এই অবস্থা সৃষ্টি শুধুমাত্র সম্ভব ইখলাসের দ্বারা নামাজ শুধু জিকিরের একটি ওসিলা বা পদ্ধতি একারণে ঘোষণা হয়েছে,

فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ () الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
অর্থাৎ: ধ্বংস ওই সব নামাজীদের জন্য যা তাদের নামাজে উদাসীন (সূরা মাউন : আয়াত নম্বর ৪)।

إنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى
তরজমা : নিশ্চয় কিয়ামত অবশ্যই আসবে আমি তা [তার সময়] গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের প্রতিফল লাভ করে। (সূরা তহা : আয়াত নম্বর ১৫)।

৪৩ নম্বর গুণ: কিয়ামতকে সর্বদা স্মরণে রাখা এবং কিটবর্তী জানা: 

ব্যাখ্যা : কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার জ্ঞান এবং বেশি বেশি স্মরণ করা নবীদের গুণ। এর ফলাফল এই হয়, মানুষ দায়িত্বহীনতা থেকে বেঁচে যায়। দায়িত্ব কর্তব্যের করণীয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। যখন কিয়ামতের কথা বার বার স্মরণ হয় তখন আল্লাহর শাস্তির ভয়ে গোনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করে আর পুরস্কারের লোভে নেককাজ ও সৎ কাজের উপর আগ্রহশীল হয়ে উঠে। কিয়ামতের অধিক স্মরণ পৃথিবী ধ্বংসশীল এবং বিনাশের বিশ্বাস দৃঢ় করে। দুনিয়াকে ছোট করে দেয়। এভাবে কিয়ামতের অধিক স্মরণ আখেরাতকে নিজের কেন্দ্রীয় বস্তু বানিয়ে নেয়। দুনিয়া ও দুনিয়ার উপকরণের দিক থেকে দৃষ্টি উঠে যায় আর দুনিয়ার দিকে তাকায় না। 

اِذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغ
তরজমা: এবার ফেরআউনের কাছে যাও সে অবাধ্যতায় সীমা লঙ্ঘন করেছে (সুরা তহা : আয়াত নম্বর ২৪)।

৪৪ নম্বর গুণ: ফিরআওনিয়াত (তাওহিদ বিরোধী রাজশক্তি) ধ্বংসে তৎপর হওয়া:

ব্যাখ্যা: নিজের জীবনের সব শুদ্ধতা দক্ষতা শক্তিবল কুফরী নিজাম রীতিনীতি, মানব রচিত জীবনব্যবস্থা স্তব্ধ করার কাজে ব্যয় করা। ফেরআউন একটি ব্যক্তির নাম নয়, ফিরআউনিয়াত একটি জীবন ব্যবস্থা একটি সমাজ ব্যবস্থার নাম। প্রত্যেক যামানায় প্রত্যেক দেশেই আছে ছিল থাকবে।  এমন ব্যবস্থার শিকড়সহ উপড়ে ফেলার জন্য নবীগণ আজীবন সংগ্রাম সাধনা চেষ্টা করেছেন; যেন মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে বের করে আল্লাহর গোলামীতে লাগিয়ে দেয়া যায়। এভাবে দুনিয়ায় একটি ন্যায় ও ইনসাফী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা; যাতে শুধুই আল্লাহর আইন চলবে বাতিল রাষ্ট্রে তাকওয়ার দাবী করা যা তাকওয়ার চেষ্টা করা মিথ্যা ধোঁকা ছাড়া ভিন্ন কিছুই না। 
যে নষ্ট সন্ত্রাসী জমিনে ফাসাদ সৃষ্টিকারীর মাথা উঠাতে চায় তার মাথা ভেঙ্গে দেয়ার হুকুম দেয়া হয়েছে। আল্লাহর বান্দাগণ মিথ্যা ধোঁকার উপর প্রতিষ্ঠিত বাতিল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা নিজেদের জন্য সুভাগ্য মনে করে। এর জন্য জুলুম নির্যাতন নিপীড়ন নিষ্পেষণ হত্যা গুম ও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে নবীওয়ালা লোকদের কোনো দ্বিধা নেই। 

আয়াত নম্বর ২৫
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
তরজমা: মুসা বলল, হে আমার প্রতিপালক আমার বক্ষ খুলে দিন। (সূরা তহা: আয়াত নম্বর ২৫)।

২৫ নম্বর গুণ: আল্লাহর থেকে বক্ষ খুলে দেয়ার দোয়া করা: 

ব্যাখ্যা : হজরত মুসা (আ.) আল্লাহ কাছে বক্ষ উন্মোচন তথা খাঁটি বুঝ দানের দোয়া করতেন। বক্ষ উন্মোচন তথা খাঁটি বুঝ দানের এবং মাসায়েল হলো হয়ে যাওয়ার দ্বারা আল্লাহর পথ পেয়ে যাওয়া। এর এটা আল্লাহর পক্ষ হতে অনেক বড় নিয়ামত। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়া করা। কেউ খালেস নিয়তে এই দোয়া করে সে এই নিয়ামত থেকে বিরত হবে না। 

وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
তরজমা: আমার কাজ সহজ করে দিন। (সূরা তহা: আয়াত নম্বর ২৬)। 

৪৬ নম্বর গুণ: কাজের ভালো পরিণতির জন্য দোয়া করা:

ব্যাখ্যা : জানা কথা কাজের সফলতা ও শুভ পরিণতি আল্লাহর কাছে দোয়া সাহায্য মদদ ছাড়া পাওয়া যায় না। কাজ যাই হোক, কম হোক বেশি হোক, ছোট হোক বা বড় হোক, যদি আল্লাহর নুসরত সামিলে হাল হয়ে যায় তাহলে কাজ সহজ অতিদ্রুত সুন্দরভাবে করা যায়। কঠিন থেকে কঠিন কাজ হয়ে উঠে সহজ ও হালকা। আল্লাহর রহমত নুসরত না পাওয়া গেলে সহজ কাজও কঠিন হয়ে যায়। আল্লাহর সাহায্য সরাসরি ফেরেস্তারা করেন।

يَفْقَهُوا قَوْلِي
তরজমা: যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে (সুরা তহা : আয়াত নং ২৮)

৪৭ নম্বর গুণ: সকলের বোধগম্য কথা বলা:

ব্যাখ্যা : হজরত হারুন (আ.) সহজ শুদ্ধ ও প্রাঞ্জল্যভাষায় কথা বলতেন যা সকলের কাছে স্পষ্ট মনে হতো। লোকেরা সহজে তার কথা বুঝতে পারতো। প্রতিজন মানুষের বুদ্ধি শিক্ষা এমন থাকে না যে, সে সুক্ষ গভীর রহস্যপূর্ণ কথা বুঝে যাবে। একারণে আকল ও বুঝের দাবি হলো, এমনভাবে কথা বলা, যা সহজ শুদ্ধ বোধগম্য হয়, যেন সকলের হৃদয় ওই কথা প্রভাব সৃষ্টি করে। আম্বিয়াদের কথা বলার ঢং ছিল সহজলভ্য এবং উপস্থিতি ভঙ্গি ছিল আকর্ষণীয়, যা অন্তরের ওপর পূর্ণ মাত্রায় কাজ করে। একারণে মক্কার কোরাইশ মুশরিকরা চাইতো না যে, কেউ না মুহাম্মাদের কাছে যাক আর না তার কথা শুনুক। কেননা তাঁর কথায় এমন প্রভাব ও সহজলভ্যতা ছিল যে-ই শুনতো সে-ই কথা বুঝে যেতো এবং তার আশেক বনে যেতো। নবীদের কথাবার্তা থেকে এই শিক্ষালাভ করা যায় যে, অন্যকে বুঝানোর জন্য উত্তম পন্থা জানা জরুরি। কেননা অন্যের মাঝে নিজের চিন্তাভাবনা সৃষ্টি করা অনেক বড় কাজ। তাই উত্তম কথা সুন্দর উপস্থাপনা জরুরি। অন্যথায় অন্যেকে কথা বলা বেকার হয়ে যাবে। সুতরাং কথা এমন হওয়া চাই যা প্রভাব বিস্তারকারী এবং সহজ সরল ও সুষ্পষ্ট। 

وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي
তরজমা: এবং তাকে আমার কাজে শরীক বানিয়ে দেন (সুরা তহা : আয়াত নং ৩২)

৪৮ নম্বর গুণ : আপন ভাই, বন্ধু-বান্ধবদেরকে নিজের কাজে শরীক করা:

ব্যাখ্যা : হজরত মুসা (আ.) হজরত হারুন (আ.)-কে নিজের নবুওয়াতী কর্মে শরীক করার এবং তার থেকে সাহায্য নেয়ার জন্য দরখাস্ত করেছেন। আমরা এই ঘটনা থেকে এই শিক্ষা নিতে পারি যে, উত্তম কাজ কর্ম একাকী করার পরিবর্তে নিজের আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবদেরকে শরীক করা। অন্যকে কাজে নেয়ার দ্বারা কাজে শক্তি আসে, কাজ দ্রতগতিতে উত্তমরূপে সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে দীনে কাজকর্মে কৃপণতা ও বখিলতার সঙ্গে কাজ করলে ফলদায়ক হয় না, দ্বিতীয়ত কেউ এমন করতে চাইলে তাকে বলা- চলো ভাই, এই কাজ আমি পারি আমি শিখাবো। গুরুত্বপূর্ণ কাজে চেষ্ট সাধনায় নিজে মত্ত থাকার পাশাপাশে নিজের আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের শরীক করার চেষ্টা করা।

كَيْ  نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا
তরজমা যাতে আমরা বেশি পরিমাণে আপনার তাসবীহ পাঠ করতে পারি (সূরা তহা : আয়াত নম্বর ৩৩)।

৪৮ নম্বর গুণ : জিকির ব্যাপকতা চাই

ব্যাখ্যা : প্রচুর পরিমাণ আল্লাহর জিকির করা। পথের বালুসহ সমস্ত বস্তু মাটি জমিন আল্লাহর জিকির করে। আমরা তা টের পাই না। তারা তাদের নিজস্ব ভাষায় নিজস্ব অনুভূতি দ্বারা জিকির করে। কিন্তু মানুষদেরকে হুকুম দেয়া হয়েছে, সকলকে জানিয়ে জিকির করার, মুখে উচ্চারণ করে জিকির করার। এমনিভাবে তার অপরাপর অঙ্গ-প্রতঙ্গও জিকির করবে পৃথিবী সমস্ত বস্তু-ই জিকিরে মাশগুল থাকে। কিন্তু তার জানা যায় না, বুঝা যায় না, কিন্তু মানুষকে হুকুম দেয়া মুখে জিকির করার, অথচ সেই মানুষ জিকির করে না। 

وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا
তরজমা: এবং বেশি পরিমাণে আপনার যিকির করতে পারি (সুরা তহা : আয়াত নং ৩৪)

৫০ নম্বর গুণ : আল্লাহর নামের জিকির চাই প্রচুর: 

ব্যাখ্যা : আল্লাহর জিকির বেশি পরিমাণে স্বাতন্ত্র্য গুণের দাবি রাখে। সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির চাই। দাঁড়িয়ে হোক বা বসে হোক, চলন্ত অবস্থায় হোক বা মুকাম অবস্থায় হোক। মোটকথা আল্লাহর জিকির থেকে বিরত না থাকা অলীদের গুণ। আল্লাহর ওলিদের এমন আলোচনা বা সভা হয় না যা জিকির থেকে মুক্ত। আল্লাহর দরবার থেকে কোনো সভা-সমিতি বা সেমিনার ততক্ষণ পর্যন্ত বরখাস্ত হয় না যতক্ষণ তাতে জিকির থাকে। ঈমানদার তো আল্লাহকে গভীরভাবে ভালোবাসে। যার সঙ্গে গভীর হয় তার ভালোবাসার দাবি হয় সদাসর্বদা তার স্মরণে ডুবে থাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে