সুুপারির খোল থেকে প্লেট-ট্রে

সুুপারির খোল থেকে প্লেট-ট্রে

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৩ ২৮ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২০:২০ ২৮ এপ্রিল ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রামের রাস্তা ঘাটে সুপারির খোল দেখেননি এমন লোক হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবেনা। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সুপারির খোল দিয়েও নতুন কিছু করা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছেন এক উদ্যোক্তা। ঝরে যাওয়া পাতা থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে প্লেট-বাটি, ট্রে। দামে সাশ্রয়ী ও বৈচিত্রময় এসব প্লেট-বাটি, ট্রে। কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য এতে ব্যবহার করা হয়না। ফলে পরিবেশবান্ধব এ পণ্যটি ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এ প্লেট ও ট্রেগুলি। পরিবেশ বান্ধব এ উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনার ইমরান হোসেন। ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার এ উদ্যোগের নানা তথ্য। 

মো. ইমরান হোসেনের জন্ম টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার ঝাটিবাড়ি গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে খুলনায় তার বেড়ে ওঠা। খুলনা সেন্ট যোশেফ হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও সুন্দরবন আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন ইমরান। চাকরিও করেন কয়েক জায়গায়। কিন্তু মন বসেনি চাকরিতে। তার ইচ্ছা উদ্যোক্তা হবেন। খুঁজতে থাকেন কি পণ্য উৎপাদন করা যায়। হঠাৎ করেই তার মনে হয় সুপারির খোল দিয়ে কিছু করা যায় কিনা। 

খুলনা অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে সুপারির চাষ হয়। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে বেড়াতে ভারত যান তিনি। সে সময় ইমরান লক্ষ্য করেন তামিলনাড়–তে এই খোল দিয়ে তৈরি পণ্য ভালো সাড়া ফেলেছে। ভাবতে লাগলেন দেশে এ রকম কোন উদ্যোগ নেয়া যায় কিনা। যে ভাবনা, সেই কাজ। 
দেশে ফিরে সুপারির খোল খোঁজ করতে থাকেন খুলনা, বাগেরহাট আর পিরোজপুরে। প্রচুর পরিমানে সুপারির খোল সংগ্রহ করেন তিনি। 

২০১৭ সালে চেন্নাই থেকে সুপারি থেকে বাসন তৈরির মেশিন কিনেন ইমরান। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ভাগা গ্রামে বাংলাদেশে প্রথম এ ধরনের বাসন তৈরির কারখানা স্থাপন করেন তিনি। সেই সঙ্গে ব্রাইট এরিকা (Bright Areca) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। www.brightareca.com এই ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ পরিবেশ বান্ধব এই সুপারির খোলের পণ্য কিনতে পারবেন। 

ইমরান বলেন, ঝরে যাওয়া পাতা দিয়ে শতভাগ পরিবেশ বান্ধব পণ্য শুধু আমার আয়ের উৎস হবে না পরিবেশ রক্ষায়ও ভ‚মিকা রাখবে। এক সময় প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মানুষ এই পণ্য ব্যবহার করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই উদ্যোক্তা। আর এটি শিল্প হিসেবে দাঁড়ালে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। 

ইমরান বলেন, পুঁজির সংকটতো আছেই। এই কাজে আমার পাশে এসে দাঁড়ায় সহিদুল ইসলাম টুকু নামে এক বড় ভাই। আর একজন তামিল লোক তার ফেক্টরিতে আমাকে এবং আমার কাছের এক বন্ধুর ট্রেনিং এর ব্যবস্থা কওে দেয়। এই পণ্যের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী ইমরান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বড় আকারে করতে চাই এবং পরিবেশ বান্ধব আরো কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। এখন সুপারির পাতা নষ্ট হচ্ছে কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ বিক্রির উদ্দেশ্যেই সুপারির খোল বাগান থেকে ঘরে এনে রাখবে। 

বর্তমানে কারখানাটিতে কাজ করছেন ১৫ জন। আর্থিক সহায়তা পেলে কারখানার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান ইমরান হোসেন। চার ধরনে প্লেট ও ট্রে উৎপাদন হচ্ছে কারখানাটিতে। ১০ ইঞ্চির গোল প্লেট, ১০ ইঞ্চি চৌকোনা প্লেট, ৬ ইঞ্চির সমান চৌকোনা এবং সাড়ে ৫ ইঞ্চি গভীর চৌকোনা-এই চার আকৃতির পরিবেশ বান্ধব পণ্য তৈরি হচ্ছে ইমরানের কারখানায়। সামনে সুপারির খোলের আরো নতুন ধরণের পণ্য আনবে ব্রাইট এরিকা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে