সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ 

সুনামগঞ্জে শিশু তুহিন হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৬ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:২৯ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নৃশংসভাবে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়া হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলামসহ তিনজন সাক্ষ্য দেন। 

এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়া অন্য দুইজন হলেন- পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হস্তলিপি বিশারদ মো. আবদুর রহিম ও মো. আহসানুল করিম। এ পর্যন্ত মামলায় ২৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দিরাই থানার ওসি কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা হবে এবং আসামিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে বলে আশাবাদী।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী জানান, মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ। শিশু আদালতে আগামী রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য আছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর রায় ঘোষণা হবে।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর জেলার দিরাই উপজেলার কেজাউরা গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তুহিনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। তুহিনের গলা, দুই কান ও যৌনাঙ্গ কাটা ছিল। পেটে বিদ্ধ ছিল দুটি ছুরি। এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম পরদিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। 

এ মামলায় তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা নাসির উদ্দিন, আবদুল মছব্বির ও জমসেদ আলী এবং চাচাতো ভাই সাহারুল ইসলাম ওরফে শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিম। এর মধ্যে নাসির ও সাহারুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

তুহিন হত্যা মামলায় গত ৩০ ডিসেম্বর এ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর আদালতে অভিযোগ গঠন হয় ৭ জানুয়ারি। সাহারুল শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হচ্ছে। এই আদালতেও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এ মামলায় প্রথম গত ১৩ জানুয়ারি তুহিনের মা মনিরা বেগমসহ পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মামলার বাকি সাক্ষীদের সাক্ষগ্রহণ করেন আদালত।

আদালতে তুহিনের মা মনিরা বেগম বলেছেন, ১৩ অক্টোবর রাতে তুহিন তার বাবা আবদুল বাছিরের সঙ্গে একই খাটে ঘুমিয়ে ছিল। তিনি ছিলেন পাশের কক্ষে। গভীর রাতে তুহিনের চাচাতো বোন তাদের ঘুম থেকে ডেকে জানায়, ঘরের দরজা খোলা। তখন তিনি দেখেন তুহিনের বাবার পাশে তুহিন নেই। পরে সকালে জানতে পারেন তুহিনকে কে বা কারা হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে। কে বা কারা তুহিনকে হত্যার করেছে তিনি জানেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর