সুনামগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকটে বানভাসি মানুষ

সুনামগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির সংকটে বানভাসি মানুষ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি    ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৩ ১১ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ১১টি  উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দেয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ডায়রিয়া ও পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।   

জানা যায়, ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানি দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গতদের সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দূর করতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকা ও প্রতি উপজেলায় পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। এদিকে জেলার সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের জামতলা এলাকার আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, আমাদের টিউবওয়েল পানির নিচে। জমানো কিছু পানি ছিল সেটা দিয়েই চলছে। টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা সাজিদুর মিয়া জানান, প্রথম দফায় বন্যার পানি ঠিকমতো সরেনি। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফা বন্যায় নাকাল এলাকাবাসী। গত ১০ দিনের ব্যবধানে দু’বার বন্যায় বিশুদ্ধ পানিসহ চরম দূর্ভোগের শিকার হয়েছেন গরীব, অসহায় ও দিন মজুর পরিবার। 

বালিজুড়ি ইউপির ইউপি সদস্য দক্ষিণকূল গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে দক্ষিণকূল গ্রামের সব রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয়রা  শুকনো খাবার সংগ্রহ করে কোনোরকম দিনযাপন করছে।

তাহিরপুর ইউএনও পদ্মাসন সিংহ বলেন, পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরের গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে স্থানীয়রা বিপাকে পড়েছেন। প্রশাসন তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে।

সুনামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, যেখানে টিউবওয়েলের নেই সেখানে আমরা অস্থায়ী টিউবওয়েল স্থাপনের চেষ্টা করছি। পানি সংক্রান্ত যেকোনো অসুবিধায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর জানিয়েছেন, শনিবার সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৩ সেন্টিমিটার ও সুরমা নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। 

সুনামগঞ্জ ডিসি আব্দুল আহাদ জানান, বন্যায় দূর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায়  আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খবর রাখছি।   

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ