সুজালো  চাকমা যশ’র কবিতা

সুজালো  চাকমা যশ’র কবিতা

কবিতা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ১০ এপ্রিল ২০১৯  

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

মুখোশ 

কিছু চঞ্চল নপুংসক মাছি 
সুস্থ মাছের উপরে ঘুরছে
মৌমাছির ভাব ধরে...
এসব রহস্য ধরতে গেলে
উড়ে যায় ক্ষুধিত হিংস্র শাদা বক । 
***

এমন করে যায়

এসো মাংসাশী সিলিং আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে 
শরীরের মৃত্যু পারফিউমের ঘ্রাণ ছড়ায় বোতামের  ভাঁজে ভাঁজে 
তোমার চোখে কৃষ্ণচূড়া রং এ ভিজে যাচ্ছে হৃৎপিন্ডের সমস্ত শিরায়-উপশিরায় 
এসব ভিজে গেলেও তুমি ঠোঁট  মেলাও 
পৃথিবীর সমস্ত গাছের ডালে ডালে...
***

আগুনের আঁচড় 

তীব্র সময়ের স্রোতে ক্রমশ 
ভেসে যাচ্ছি অসুখের ড্রয়ারে
অথচ দ্যাখো পাথরের সাথে পাথরের ঠোঁট এক হয়ে গেলে আগুন উঠে মগজে
কী অদ্ভুত বৃহৎ বালুকণার মত জগতে 
ন্যানো সেকেন্ডের বুকে আঁচড়ে না পড়তে পড়তেই ডুবে যাবো গহ্বরে...
***

বৃক্ষের বীজানু স্বভাব

কিছু বিষাক্ত মাকড়সা 
কচি পাতা চিবিয়ে মগজকে অর্ঘ ভাবছে
তাই জানালা ক্রমশ বন্ধ হয়ে যায়…
পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষের পাতা ডালপালা থেকে অশ্রু হয়ে ঝরে গেলে 
শিকড়ে জন্মায় ক্ষুধার্ত উইয়ের ঢিবি... 
গ্রাস করে সবুজ কান্ডের শিরা উপশিরা...
সেই বৃক্ষ যেখানে সম্যক আবিষ্কার সেখানে ভাবনার হাত থেকে অসংখ্য পাতা ঝরে গেলে 
অস্থি হয়ে গতাসু পাখি স্বয়ং নিজেকে খুঁজে পৌঁছে যায় নির্বাণের থরে থরে...
শেষ হয়ে আবার শুরু হয় জীবন; 
আসন্ন আগামী অথবা অদেখা অতীত 
সবই আসলে অনাগত...
গর্ভস্থ: প্রাণীর ভ্রূণ ভূমিষ্ঠ হবার আগেই জেনে যায়
সে কবি; বিপ্লবী নাকি গণতান্ত্রিক সমাজের বাধ্যগত ক্রীতদাস হতে যাচ্ছে...
পাখির ডানা ঝাপটানো মৃদু হাওয়ায় বৃক্ষের রং বদলে হয়ে যায় জলের মত স্বচ্ছ... 
অথচ জলের অভাবে রক্ত স্বল্পতায়
মানুষের দেহে বাসা বাঁধে অনায়াসে নিরাময়  সক্ষম 
পূরনো সব বাধ্যগত  রোগ। 
কেবল বৃক্ষের মায়াজালে  স্মরণীয় ছায়াতলে সেরে যায় দুরারোগ্য সব বিষণ্ণ ব্যাধি।
***

নীরন্ধ্র দাগের শরীর

শীত ও বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে 
গাছ সম্পূর্ণ একা হয়ে যায় 
ঠিক তেমনি...
বিষণ্ণতা এলে মানুষ সম্পূর্ণ অবিন্যস্ত ও
অমিতাচারের পথে চলে যায়...
এই অবিন্যস্তের জীবনের সাথে মুখোমুখি হয়ে 
ডান হাতে অগ্নিদন্ড আর বাম হাতে
 এক পেগ স্মৃতি আবিষ্কার করি। 
তাই আমি ও বিষণ্ণতাকে বারবার আহ্বান করি
কারণ বিষণ্ণতা জন্তুর মত হলে ও
নতুন কিছু জন্ম দিতে 
ঈশ্বরের মত সহায় হয়।
***

পূর্ব প্রস্তুতি

প্রতিটি রাত আঙুলে শেষ হয়ে গেলেই 
তৈরি হয় আমাদের অনুভূতিমালা 
এই মালার ভিতরে লুকিয়ে থাকে 
রহস্যময় গণিতের যোগ বিয়োগের সূত্র 
আমাদের ক্ষণস্থায়ী সময়ে 
যদি মিলে যায় এই সূত্র
তবে আমরা নতুন গন্তব্যে চলে যাই। 
***


সার্বভৌম অন্ধকার 

ক্যানভাসে ভিজে যাচ্ছে রাতের প্রগাঢ় ব্যথা 
আহত মাছেরা মদের গ্লাসে ডুবে বিভোর।
সেখানে তাদের আত্মা গলে তরল হয়ে যাচ্ছে।
অচেনা রোদের হাত ধরে তারা বাষ্পরথে 
চলে যাচ্ছে আকাশে আকাশে...
মিশে যাচ্ছে মেঘে, চাঁদ ও জোছনা হয়ে।
তবু সার্বভৌম মাকড়শা তার বিষাক্ত শরীরে ফণা ঝরিয়ে দিলেও সেই আত্মাদের কণ্ঠস্বর ভেসে আসে  'তবুও ফ্রিদা বেঁচে ছিলো অন্ধকার জ্বালিয়ে বুকে'।
***

বিলীয়মান জলের সংসার

পাখিরা গত হয়ে যাচ্ছে শূন্যে 
আর গাছেরা দৃশ্যে...
রাস্তায় পা রাখতে না রাখতেই
পৌঁছে যায় নরকের দেশে.... 
সেখানে গিয়ে দেখি অসংখ্য অসংখ্য ক্ষুধার্ত কাক 
কচু পাতায় জমে থাকা শিশিরের জলে স্নান  করছে 
আর তারা একেকটি জলকণা ধুলাবালি হয়ে  মাটিতে মিশে যাচ্ছে।

***

ফোঁটা ফোঁটা গল্পের রঙ

রামধনুর মত রাঙা শহরে 
কিছু বৃক্ষ আছে          
 তারা অতীতকে ভুলে যেতে চায়...
কিন্তু পারে না। 
তাদের সাথে কথা বলতে গেলে    
 ইতিহাসের গল্প শোনায়।
এই গল্পে রয়েছে 
আমার মা - ও মায়ের চোখে  
বাঁধের কয়েকটি জলের ফোঁটা।
সেই কয়েকটি জলের ফোঁটায়;     
 তৈরি হয়েছে নতুন শহর
 যার একেকটির নাম মিজোরাম, ত্রিপুরা আর... অরুণাচল প্রদেশ। 
এই শহরে আমরা ধীরে ধীরে  বড় হতে থাকি                     
সেই সাথে ক্রমাগত
রামধনুর মত রাঙা
শহরের নতুন নতুন গল্প শুনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস