দূরবীনপ্রথম প্রহর

সুখের চাবিকাঠি

ফাতিমাতুজ্জোহরাডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: সংগৃহীত

সকলেই সুখী হতে চাইলেও কেউ সমানভাবে সুখী হওয়াটা বোধ হয় সম্ভব নয়! কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষকের মতে, সুখে থাকার বিষয়টি নিজের উপরই বর্তায়। মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ সময় নেতিবাচক কিছু ধারণা জন্মায় যেগুলো নিজেকে সুখী ভাবার বিষয়ে বাঁধা প্রদান করে। সে রকম কিছু নেতিবাচক ধারণা সম্পর্কে জেনে নিন-

১. নিজেকে সকলের কাছে পছন্দসই করে তোলার চেষ্টাই হলো ভুল ধারণা। অনেকের মধ্যেই এ ধারণাটি রয়েছে। অন্যের সমস্যা দেখলেও সহজেই এগিয়ে যায় না। ভাবে, আমার তো সমস্যা নয়। এ ধারণাটাই ভুল। সুখী হতে হলে অন্যকে আগে সুখী দেখতে শিখুন।

২. অন্যে কেউ কাজটি পারলে আমি কেন পারবো না? এটি যদি উৎসাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তবে ঠিক আছে। তবে কাউকে হিংসা করে তার মত হওয়ার বাসনা পূরণ হওয়াটা ককনৈা সম্ভব নয়। কারণ অন্য কেউ কাজটি পারলেও হয়ত আপনি পারবেন না আবার আপনি যেটি পারেন তা হয়তো অন্য কেউ পারবে না!

৩. বর্তমানে একনায়কতন্ত্র পরিবারের সংখ্রা বেশি। এসব পরিবার সকলেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। সব ধরণের মতামতের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার বিষয়গুলো পূর্বে থাকলেও বর্তমানে পারিবারিক অনেক সিদ্ধান্তই মেনে নেয়ার ব্যপারগুলো হারিয়েছে। এসব নানা কারণেই আমরা অসুখী হয়ে যাচ্ছি ও মন ভেঙে যাচ্ছে।

৪. অনেকেই অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে থাকেন। সেইসঙ্গে নানা রকম দুচিন্তা করে প্রেশার হাই করে তোলেন। ভবিষ্যৎ না ভেবে বরং এখন যেটা ঘটছে সেটা মোকাবেলা করার চেষ্টা করুন।

৫. বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে অতীত নিয়ে ভেবে দিশেহারা হতে দেখা যায়। অতীত নিয়ে ভেবে কিছুই পাওয়া যায় না বরং নিজের দুঃখ কষ্ট বাড়ে। তাই যা চলে গেছে তা গেছে, যা আছে তাই নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করতে হবে।

৬. মনে কখনো হতাশা জমতে দেয়া যাবে না। সকলেই ভালো আছে, সুখী আছে ও আমি অসুখী এসব চিন্তা বাদ দিতে হবে। এতে শুধু নিজের কষ্ট বাড়বে যাদের কথা ভাবছেন তাদের কিছুই হবে না। আপনি কীভাবে ভালো আছেন, পরে আরো ভালো কীভাবে থাকবেন? সেসব নিয়ে ভাবলে দুঃখের বোঝা নেমে যাবে।

৭. কর্মজীবনে অবসরের বিষয়ে সকলেই ভেবে থাকেন। কিন্তু অবসরে চলে আসলে আপনার মধ্যে একটা দুচিন্তা কাজ করবে। অলস মস্তিষ্ক নানাভাবে পীড়ন দেয়। তাই কখনো অলস বসে থাকবেন না। নানান রকম কাজে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।

৮. অনেকে অন্যের সমস্যায় এগিয়ে না গিয়ে দূর থেকেই দেখেন। এতে কোনো বীরত্ব নেই বা শান্তি আসে না। তার থেকে অন্যের সমস্যা দেখে মোকাবেলা করার চেষ্টা করলে নিজের প্রতি সম্মান বেড়ে যাবে এবং আত্মশীল হবেন। অন্যকে সাহায্য করার মধ্যেই রয়েছে বীরত্ব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস