Alexa সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে গবেষণার সুযোগ

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে গবেষণার সুযোগ

সিলেট প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৯ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৬ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার পর গবেষণার সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী।

রোববার অস্থায়ী কার্যালয়ে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গবেষণা, সেবার মান, সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের নিমিত্তে ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮’ পাস করা হয়। এরপর সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি চার বছর মেয়াদে আমাকে প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর ভাইস-চ্যান্সেলর পদে যোগদানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের জন্য সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গোঁয়ালগাও মৌজার ৫০.২২ একর হাজরাই মৌজার ৩০.০৯ একরসহ সর্বমোট ৮০.৩১ একর ভুমি ১৩৮.১৫ কোটি টাকা মূল্যে অধিগ্রহণের অনুমতিপত্র পাওয়া গেছে। ডিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করে সার্বিক কাজটি দ্রুত এগিয়ে নিতে যথারীতি কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ডিপিপি ও মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য স্থাপত্য অধিদফতরের দুইজন স্থপতি, গণপূর্ত অধিদফতরের দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলী ও একজন কনসালটেন্ট নিযুক্ত হয়েছেন। তাদের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।

ডা. মোর্শেদ বলেন, সিলেট বিভাগের সব মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন শাখা যাচাই বাছাই করেছে। এতে দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ, চারটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, একটি সরকারি নার্সিং কলেজ, তিনটি বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজসহ ১১টি স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অধিভুক্তি করেছে।
অধিভুক্ত নার্সিং কলেজসমূহের মধ্যে দুটি কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ সমূহের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা শেষ হওয়ার পরপরই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে।

উপাচার্য ডা. মোর্শেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গঠনের বিষয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ‘২০১৮ এর ধারা ’১৯ অনুযায়ী সিন্ডিকেট গঠনের নিমিত্তে সদস্য মনোনয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব দফতরে পত্র দেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের ৩৪ সদস্যের মধ্যে পাঠানো পত্র অনুযায়ী মনোনীত ও পদাধিকার বলে সদস্যসহ এখনো মোট ২১ জন সদস্যের মনোনয়ন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ১৯ (খ), ধারা ১৯ (জ), ধারা ১৯ (ত), ধারা ১৯ (ন) এ মনোনীত সদস্য প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো মনোনয়ন পাওয়া যায়নি। সদস্যদের মনোনয়ন পাওয়া গেলে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরইমধ্যে সিন্ডিকেট সভা আহবানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর ধারা ২১ অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকায় আপাতত অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের দ্বারা একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়া অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, সংবিধি প্রণয়ন কমিটি, নৈতিকতা কমিটি, শৃঙ্খলা বোর্ড ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর এবং বিষয়ভিত্তিক কো অর্ডিনেটর নিযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদে প্রশাসনিক অনুমোদনক্রমে আটজন ডিন নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ