সিলিন্ডারে গ্যাস নেই তারপরও জ্বলে চুলা

সিলিন্ডারে গ্যাস নেই তারপরও জ্বলে চুলা

মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেন্ট্রাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৯ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৬ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিলিন্ডারে গ্যাস না থাকলেও দিন রাত জ্বলছে রান্নার চুলা। তাও একটি-দুটি না এক একটি হোটেলে চারটি চুলা জ্বলে। কি অবাক হচ্ছেন! এমনই ঘটনা ঘটছে রাজধানীর উত্তরা জুড়ে।

এমন অবৈধ সংযোগ নেয়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে রাজধানীর উত্তরায়। সরকারি সিদ্ধান্তে গত দু’বছর থেকে আবাসিক ভবনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই বাসা-বাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ।

জানা গেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড থেকে অভিযান চালিয়ে এসব সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহ খানেক পরেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুনরায় অবৈধ সংযোগ নেয় বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান মালিকরা। রাতের আঁধারে লাখ টাকার বিনিময়ে এসব সংযোগ দেয়া হয়।

সম্প্রতি উত্তরার আব্দুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি রেস্টুরেন্টে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিতাসের কর্মকর্তারা। এর কয়েকদিনের মধ্যে আবার এখানে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া হয়।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানেও সেখানে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। যে জায়গা থেকে গ্যাসের লাইন নেয়া হয়েছে, তার সামনে দুটি বড় গ্যাস সিলিন্ডার রাখা। তার নিচ দিয়ে কৌশলে অবৈধ সংযোগ নেয়া হয়েছে। তাই সিলিন্ডারে গ্যাস না থাকলেও চুলা বন্ধ হয় না। উত্তরার আব্দুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ডে ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট ও আল্লাহর দান রেস্টুরেন্টে এই কৌশলে ৪টি করে চুলা চলে অবৈধ সংযোগে।

এ বিষয়ে জানতে ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেনের মোবাইলে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর দান রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সুরুজ হোসেন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তিতাস থেকে অভিযান চালানোর পর থেকে আমরা সিলিন্ডার ব্যবহার করি। আগে আমাদের মালিক নুরু ভাই সারোয়ার নামে একজনকে ২০-২৫ হাজার টাকা দিতেন। আমার জানা মতে এখন কোনো টাকা দেন না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট ও আল্লাহর দান রেস্টুরেন্টের মালিক তিতাসের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া সারওয়ারকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে পুনরায় গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। এছাড়া প্রতিমাসে ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্টের মালিক ৩৫ হাজার টাকা এবং আল্লাহর দান রেস্টুরেন্টের মালিক ২৫ টাকা সারওয়াকে দেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সারওয়ারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে, উত্তরা তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, গত অক্টোবরে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কয়েকশ’ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম আব্দুল্লাহপুরের ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট এবং আল্লাহর দান রেস্টুরেন্ট।

রাজধানীর কুড়িলে তিতাস গ্যাস শাখার ডিজিএম প্রকৌশলী রতন চন্দ্র দে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে যাবে। সারোয়ারের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিতাস কুড়িল শাখায় সারোয়ার হোসেন নামে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নেই।

উত্তরার তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের ম্যানেজার জানান, অবৈধ গ্যাস লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চলমান। এ অভিযানে প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে। এরইমধ্যে জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত অবৈধ গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এস/এসআই/এসএএম