Alexa সিরিয়ায় অভিযান চলবেই : এরদোগান

সিরিয়ায় অভিযান চলবেই : এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৬ ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৯ ১৬ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতির ডাক ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

এ প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অভিযান থামাতে চাপ দিচ্ছে, আবার নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছে। কিন্তু আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার। আমরা নিষেধাজ্ঞায় ভীত নই।’

সিরিয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও’র শীঘ্রই সফর করার কথা রয়েছে। এর আগ দিয়েই সেখানে সেনা অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলো তুরস্ক।

এদিকে তুরস্কের সেনা অভিযান ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে চুক্তি করায় কুর্দিদের রক্ষায় অগ্রসর হচ্ছে রাশিয়া সমর্থিত সিরীয় সেনাবাহিনীও।

উভয় পক্ষেরই অন্যতম প্রধান লক্ষ হলো ইউফ্রেতিস নদীর পশ্চিমে অবস্থিত মানবিজ শহরের দখল নেয়া। মার্কিন সেনাদের ছেড়ে যাওয়া এ শহরটি দখল করতে তুরস্ক ও সিরীয় সেনাবাহিনী উভয়ই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রাশিয়া-সমর্থিত সিরিয়া বাহিনী দ্রুতই মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়া খালি জায়গা পূরণ করতে অগ্রসর হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে সরকারি সেনাদেরকে শহরটিতে ঢুকতে দেখা গেছে। সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার এক বাসিন্দা।

ওদিকে তুরস্ক-সমর্থিত সিরীয় যোদ্ধারা জানিয়েছে যে, তারা মানবিজের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবে। আর যে সেনারা শহরের ভেতরে ঢুকেছে তারা বেশিরভাগই কুর্দি যোদ্ধা। তারা এখন সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

তুরস্ক সীমান্তের কাছে সিরিয়ার রাস আল-আইন শহরে মঙ্গলবার সকালে প্রচণ্ড বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমেক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এর এক মুখপাত্র প্রচণ্ড লড়াইয়ের খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিমাদের প্রধান মিত্র ছিল এসডিএফ। কিন্তু তুরস্ক কুর্দিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আইএসের’ই শাখা মনে করে এবং তাদেরকে সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার গভীরে সরিয়ে একটি সেফজোন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। সেখানে তারা তুরস্কে আশ্রয় নেয়া সিরীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন করতে চায়। সমালোচকরা বলছেন, এই অভিযানের ফলে কুর্দি জনগণ জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হতে পারেন।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরই সেখানে তুরস্কের হামলার পথ সুগম হয়। এদিকে মিত্র কুর্দিদের এভাবে ত্যাগ করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচনার মুখে তিনি তুরস্ককে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, সেনা অভিযান নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে দেশটির অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।

সমালোচনা ক্রমেই বাড়তে থাকার মুখে সেই হুমকিই এখন বাস্তবায়ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির দুটি মন্ত্রণালয় ও তিনজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সদ্যই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

কিন্তু এ পদক্ষেপের মুখেও তুরস্ক আরেক দফা সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা দিতে অনেক দেরী করে ফেলেছেন এবং তা যথেষ্টও নয়। অমানবিক বিপর্যয় এড়াতে তিনি তুরস্কের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেননি।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী