সিরাজগঞ্জে ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি 

সিরাজগঞ্জে ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৭ ১৫ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৪:২৪ ১৫ জুলাই ২০২০

বন্যাকবলিত কাজিপুর, বেলকুচি, সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার দেড় লাখ মানুষ

বন্যাকবলিত কাজিপুর, বেলকুচি, সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার দেড় লাখ মানুষ

অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে বিপদ সীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার পানি। ফলে অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। পানি বৃদ্ধির কারণে প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ।

বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্ট এলাকায় পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ৬৮ ও কাজিপুর উপজেলা পয়েন্টে বিপদ সীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলার বন্যার অবস্থা অবনতি হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং নানা ধরণের ফসল। পানিবন্দী অনেক মানুষ বাঁধ ও উঁচু স্থানে ঝুপড়ি ঘর তুলে অবস্থান নিয়েছেন।

পানি বাড়ায় নদী-তীরবর্তী কাজিপুর উপজেলার ক্ষুদবান্ধি, সিংগড়াবাড়ি ও শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে বন্যাকবলিত জেলার কাজিপুর, বেলকুচি, সদর, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার দেড় লাখ মানুষ।

এদিকে, সদর উপজেলার শিমলায় পাউবোর ক্ষতিগ্রস্ত শিমলা স্পারটির আরো প্রায় ৫০ মিটার পাকা কংক্রিট অংশ গত সোমবার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে তিনবার ধসে পড়ল স্পারটি। ৫০ মিটার মাটির ও ৫০ মিটার পাকা কংক্রিট অংশসহ ঘূর্ণাবর্তের কারণে ১০০ মিটার নদীতে চলে যায়। পানির মধ্যে বাকি ৫০ মিটার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।

জেলার প্রায় ৮০ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ওপর ভাঙনের ঝুঁকি ঠেকাতে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে সদর, কাজীপুর ও এনায়েতপুরে ১১টি স্পার ও গ্রোয়েন নির্মাণ করা হয়। সময় মতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় অধিকাংশই ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে।  

পাঁচটি উপজেলার ৩৫টি ইউপির ২৪০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও এক হাজার ৬৮০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার ৫৫০ হেক্টর ফসলি জমি, ৩০টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ও পাঁচটি আংশিক, ৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৭ কিলোমিটার আংশিক, তিনটি ব্রিজ ও কালভার্ট সম্পূর্ণ ও সাতটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এ ছাড়া ৩৫টি ইউপির ২৪০টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার পরিবারের এক লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুুর রহিম জানান, বন্যার্তদের মাঝে ২৬৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২৫৮ টন জিআর চাল, সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য দুই লাখ ও শিশুখাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং ৩০ হাজার শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে