সিনহা হত্যা: তিন প্রত্যক্ষদর্শীকে হুমকি, একজন নিখোঁজ

সিনহা হত্যা: তিন প্রত্যক্ষদর্শীকে হুমকি, একজন নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬ ১৪ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করার ঘটনার তিন প্রত্যক্ষদর্শীকে হুমকি দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, ওই দিনের ঘটনা গণমাধ্যমে বর্ণনা করায় তাদের এ হুমকি দেয়া হয়। এরইমধ্যে ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী নিখোঁজ হয়েছেন। আর বাকি দুইজন রয়েছেন চরম আতঙ্কে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শামলাপুরের বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম বলেন, সিভিল ড্রেসে ও পুলিশের পোশাকে কয়েকজন এসেছিল। তারা আমাকে বলেছেন, মসজিদের ইমাম সাব, আপনার এটা নিয়ে কিসের এতো কিছু। আপনি এ রকম ইয়ে করবেন না, ইয়ে করলে মানি আপনাকে এ রকম এ রকম করা হবে। এটা স্বাভাবিক।

‘এ রকম এ রকমের’ ব্যাখ্যা জানতে চাইলে শহিদুল ইসলাম বলেন, এটা কি করা হবে সেটা পরিপূর্ণভাবে বলেনি তারা।

সিনহা ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শামলাপুরের রোহিঙ্গা মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আমিন। ঘটনার একদিন পর থেকে তার খোঁজে পাচ্ছে না পরিবার।

মুয়াজ্জিনের স্ত্রীর দাবি, এ পর্যন্ত চার বার আমিনের খোঁজ করেছে পুলিশ। তিনি জানান, ঈদের দিন পিঠা খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন আমিন। আর বাড়িতে ফেরেননি। তার খোঁজ এখনো পাননি তিনি। পুলিশ বাড়িতে এসে ভিডিও করেছে। এ সময় তার স্বামীকে না পেলে সমস্যার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অটো-রিকশাচালক কালাম। তিনি জানান, রাতে তার ঘরে ঢুকে তিনি কালাম কিনা জানতে চায় পুলিশ। পরিচয় দিতেই ঘটনার সাক্ষীর ব্যাপারে জানানো হয়। সাক্ষী দেয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়। গালমন্দ করার পাশপাশি ঘরের দরজা ভেঙেছে পুলিশ।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনার পর তাদের বাড়িতে যে পুলিশ কর্মকর্তা গিয়েছিলেন তিনি এসআই অরুন কুমার চাকমা। তবে তার সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীরা ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করেন বাহারছঁড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী। গুলির পর সিনহার মৃত্যু হয়। একইসঙ্গে সিনহার ভ্রমণচিত্র নির্মাণের সহকারী সাইদুল ইসলাম সিফাতকে আটক করে পুলিশ।

পরদিন ভ্রমণচিত্র নির্মাণের জন্য এক মাস ধরে সহকারীদের নিয়ে অবস্থান করা হিমছড়ির নীলিমা রিাসোর্টে অভিযান চালায় রামু থানা ও হিমছড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। সেখানে ভিডিও করে অভিযানকারী দল। তখন মাদক আইনে সিনহার আরেক সহকারী শিপ্রা রানী দেবনাথকে আটক করা হয়। এরপর রিসোর্ট থেকে সিনহার ল্যাপটপ ও তিনটি হার্ডডিস্ক গায়েব হয়। অভিযানের ভিডিওতে সিনহার ল্যাপটপের সামনেই বসে শিপ্রা কথা বলেন। এছাড়া অভিযানের সময় এক পুলিশ সদস্য সিনহার সিপিউ নাড়াচাড়া করার মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়ে। 

অন্যদিকে পুলিশের জব্দ তালিকায় সিনহার ল্যাপটপ ও তিন হার্ডডিস্ক উল্লেখ করা হয়নি। রিসোর্টের অভিযানের ভিডিওতে গুলিও উদ্ধার দেখা যায়। তবে জব্দ তালিকায় গুলি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ