সিনহা হত্যা: আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

সিনহা হত্যা: আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৫ ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৩ ৯ আগস্ট ২০২০

কক্সবাজার জেলা কারাগার

কক্সবাজার জেলা কারাগার

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব। শনিবার দুপুর ২টার পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারের ফটকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।

এছাড়া সাতদিন করে রিমান্ডে নেয়া তিন আসামি টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া ইনচার্জ লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে রোববার র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

র‌্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানান, শনিবার দুপুর থেকে চারজনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে। ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে কক্সবাজারের এসপির ফোনালাপের বিষয়টি র‍্যাবের নজরে এসেছে। ফোনালাপটি যাচাই-বাছাই ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, সিফাত ও শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলায় পৃথকভাবে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তাদের জামিনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। আদালতের সিদ্ধান্তে সিফাত ও শিপ্রাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তাদের উধাও হওয়া ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক উদ্ধারে র‍্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মেজর মেহেদী হাসান জানান, পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় তার বোনের করা মামলায় যে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বাকি দুইজনের বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, মেজর সিনহা হত্যা মামলা খুবই স্পর্শকাতর। এ মামলার তদন্তে র‍্যাব সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করবে। মামলা সংশ্লিষ্ট সব বিষয়কে সমন্বিতভাবে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদ্ধার বিষয়টি সামনে রেখেই তদন্ত এগিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।

কক্সবাজারের জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানান, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেয়া সাত আসামির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র কারাগারে পৌঁছেছে। এরপরই চার আসামিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাবের তদন্ত দল। রোববার সাতদিন করে রিমান্ডে নেয়া আসামিদের র‌্যাব হেফাজতে নেয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আদালতে র‌্যাবের করা রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে তিনজনকে সাতদিন করে রিমান্ড দেন আদালত। বাকি চারজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরে এ আদেশ পরিবর্তন করে আদালত। এ সময় বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ওইদিন প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর তদন্তকেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সাতজনকে একসঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি দুই আসামি শেষ মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করেননি। প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার আদালতে নেয়া হয়।

৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ খান।

এ ঘটনায় বুধবার কক্সবাজারে টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে ওসি প্রদীপ ও মো. লিয়াকতসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু এবং র‌্যাব-১৫ কে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

সূত্র জানায়, আদালতের আদেশ মতে মামলাটি বুধবার রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা। এ মামলায় নিহত সিনহা রাশেদ খানের সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর/জেএস/এইচএন