Alexa সিটি নির্বাচন নিয়ে জাপায় চলছে নিরব প্রস্তুতি

সিটি নির্বাচন নিয়ে জাপায় চলছে নিরব প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৩ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টিতেও চলছে নিরব প্রস্তুতি। এবারের নির্বাচনে দলটি ঢাকার দুই সিটিতেই প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন পার্টির একাধিক শীর্ষনেতা।

সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড ও ইউনিট কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন দুই সিটির শীর্ষনেতারা।

জাপা নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মিলন বিগত ডিসিসি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। তবে, তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দক্ষিণে একজন প্রার্থীর নাম শুনা গেলেও উত্তরে একাধিক প্রার্থী জাপা থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জাপা সূত্রে জানা গেছে। তারা হলেন, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নগর উত্তর জাপার সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সেন্টু, পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় এবং সঙ্গীত শিল্পী সাফিন আহমেদ।

উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সেন্টু ও জয়কে মাঠে দেখা গেলেও সঙ্গীত শিল্পী সাফিন আহমেদকে পার্টির কোনো কর্মসুচি বা কর্মকান্ডে চোখে পড়ে না। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনু্ষ্ঠিত উত্তর সিটি মেয়র নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও আশানুরূপ ভোট পাননি তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে জাপার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্নস্থানে সারাবছরই বড় আকারের পোষ্টার লাগিয়ে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত তিনি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে হাজী মিলন বলেন, পার্টির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী নির্বাচন করার জন্য আমাকে অনুরোধ করছেন। তাদের আগ্রহের কারণেই আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাপার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সফিকুল ইসলাম সেন্টু নির্বাচিত কাউন্সিলর। তার নিজস্ব কিছু ভোট ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া তিনি পার্টির নগর উত্তরের সাধারন সম্পাদক হওয়ায় পুরো উত্তর সিটিতেই তার পদচারণা রয়েছে। পার্টি থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়। বনানীর স্থানীয় এই তরুণ ব্যবসায়ীর পার্টিতে রয়েছে ক্লিনইমেজ। গত কয়েকমাসে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়েছেন।

নির্বাচনের বিষয়ে হাসিবুল ইসলাম জয় বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রয়াত পল্লীবন্ধু এরশাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। পার্টিও ঐক্যবদ্ধ। দল যদি উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকবো এবং ভোটের মাঠে লড়াই করে জাতীয় পার্টিকে আরো সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাল্লাহ।

এ প্রঙ্গগে পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জনগণের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সব নির্বাচনেই জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রার্থী দিতে চাই। আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি মেয়র ও প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দল সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও দেশ এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাবো।

এ বিষয়ে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনীমুখী দল। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে পার্টি। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণে আমাদের শক্তিশালী মেয়র প্রার্থী রয়েছে এবং একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য একাধিক প্রার্থী এরইমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এস