সালাউদ্দিনের প্রতিপক্ষ বাদল রায়

সালাউদ্দিনের প্রতিপক্ষ বাদল রায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১৪ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ বছর ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের(বাফুফে) নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসছে এপ্রিলে ফের বাফুফে নির্বাচনে সভাপতি পদে দাঁড়াবেন দেশসেরা সাবেক এ ফুটবলার। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গত দুই বছর ধরে মাঠে ছুটে বেড়ানো সাইফ স্পোর্টিংয়ের চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন। কিন্তু কোন কিছু বুঝতে না দিয়ে সরে দাঁড়ালেন তিনি। ফাঁকা মাঠেই গোল দেয়ার সুযোগ ছিল কাজী সালাউদ্দিনের। তবে সে গুড়ে বালি দিলেন সাবেক আরেক ফুটবলার বাদল রায়। কেউ সভাপতি পদে নির্বাচন না করলে তিনি নির্বাচন করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন কাজী সালাউদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সভাপতি পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার বাদল রায়। 

বাদল রায় বলেন, ‘সভাপতি পদে কেউ যদি নির্বাচন না করলে আমিই দাঁড়াবো।’

এক সময়ের মাঠ কাঁপানো এই ফুটবলার সালাউদ্দিনকে আর সময় দিতে চান না বলে  জানান, ‘ওনাকে আর সময় দেয়া যাবে না। অনেকের মতো আমিও চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক। আসুন সব‌াই মিলে একজনকে নিয়ে আসি আমরা। আশা করছি কেউ না কেউ দাঁড়াবে। সভাপতি পদে নতুন কেউ প্রার্থী না হলে আমি নিজেই প্রার্থী হবো।’

যদিও শারীরিকভাবে খুব একটা সুস্থ নন বাদল রায়। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি।  তিনি কি বাফুফে সভাপতির মতো একটা পদে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন? 

এমন প্রশ্নের উত্তরে বাদল রায় বলেন, ‘দেখুন, এটা ঠিক নতুন জীবন নিয়ে এসেছি আমি। এখন দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া প্রতিবাদ করতেই আমার জন্ম। ফুটবলের খারাপ কিছু আমার সহ্য হয় না। ৩৮০ উপজেলায় হান্টিং করলাম। অনেক পরিকল্পনা করেছিলাম। এনিয়ে বসতে বলেছি সালাউদ্দিন ভাইকে। একাডেমি করার প্রস্তাবও ছিল আমার। কিন্তু দুঃখ লাগছে সেটিও হারালাম। কাজী সালাউদ্দিনের সাংগঠনিক দক্ষতা একেবারেই নেই। শুধু চেয়ারটা উপভোগ করছেন তিনি। কাজের জন্য আমি এখনও ফিট।’

তরফদার মো. রুহুল আমিনের সিদ্ধান্তটাও ভালো লাগেনি বাদল রায়ের। তার বিশ্বাস কেউ তাকে বসিয়ে দিয়েছে। বাফুফে সভাপতি এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বলছিলেন, ‘দেখুন, ফুটবলে তরফদার সাহেব আসলেন। তিনি শেখ কামালকে স্মরণ কর‌ে টুর্নামেন্ট করলেন। সালাউদ্দিন সাহেবকে কখনও শেখ কামালের নাম নিতে শুনিনি। অথচ উনি নাকি কামালের বন্ধু। তরফদারকে সমর্থন করি কারণ তিনি এগিয়ে এসেছেন। অর্থ দিচ্ছেন, তাকেই তো সমর্থন করব আমরা। নাকি যিনি ধ্বংস করেছেন তাকে করব? কিন্তু তরফদারের সিদ্ধান্তে আমি প্রস্তুত ছিলাম না। ফুটবল তো মরে গেছে, কবর দেয়া বাকি। এ অবস্থায় তরফদারকে বসিয়ে দিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাদল রায় জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমি বহু আগেই মায়ের আসনে বসিয়েছি। ওনার কারণে আমার পুনর্জন্ম হয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকব অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে যাব।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস