Alexa সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জবানবন্দিতে পিলে চমকানো তথ্য

সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জবানবন্দিতে পিলে চমকানো তথ্য

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:১৪ ৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:১৫ ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের মুরাদ মোল্লার মেয়ে গার্মেন্টস কর্মী রিনা খাতুন হত্যার পিলে চমকানো তথ্য উদঘাটন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রলোভন দেখিয়ে রিনা খাতুনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ব্রিজের নিচে ফেলা দেয়া হয়। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর মূল আসামি রুবেলসহ দুইজনকে গ্রেফতারের পর তাদের জবানবন্দিতে এমন তথ্য বের হয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি রুবেল মিয়া ও তার সহযোগী প্রাইভেটকার চালক ইমারতকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও। 

গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাট নামক স্থানের খিরু নদীর ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে রিনা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানা পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালতে দেয়া রুবেল ও তার সহযোগীর জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের পিলে চমকানো বর্ণনা।

পিবিআই ময়মনসিংহের অ্যাডিশনাল এসপি আবুবকর ছিদ্দিক আসামিদের বরাত দিয়ে জানান, রিনাকে রুবেল তার গ্রামেরবাড়ি কিশোরগঞ্জ তাড়াইলের শিকান্দরনগর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেটকার যোগে ঢাকা থেকে নিয়ে আসে। প্রথমে রিনাকে ত্রিশালের বালিপাড়া ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। পরে আবার গাড়ি নিয়ে চলে আসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চেলেরঘাট এলাকায় খিরু নদীর ব্রিজের পাশে। সেখানেই শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশটি ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে তারা আবার ঢাকাতে চলে যায়। 

গত ২৫ নভেম্বর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই)। দায়িত্ব পাওয়ার পর অতি অল্প সময়ের মধ্যে ডিসিস্ট ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলে পিবিআইয়ের কাছে। তারা জানতে পারেন উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশটি মাগুরা সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের মুরাদ মোল্লার মেয়ে রিনা খাতুনের। তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। 

ওই ঘটনায় নিহত রিনার বাবা মো. মুরাদ মোল্লা বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মাগুরা জেলার সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের মো. মুরাদ মোল্লার মেয়ে রিনা খাতুন সাত বছর আগে ঢাকায় এসে একটি গার্মেন্টসে কর্মী হিসেবে কাজ করছিল। চাকরির করার সময় কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার সেকান্দর নগর গ্রামের সবুজ হাওলাদারের ছেলে মো. রুবেলের সঙ্গে প্রেমেরে সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং প্রায় চার বছর আগে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের তিন বছর পর স্ত্রী রিনা জানতে পারে তার স্বামী রুবেলের আগের আরো একজন স্ত্রী রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়াই প্রায় আট মাস আগে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরে স্বামী রুবেল মিয়া বিভিন্ন সময় খুন, জখমসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২৩ অক্টোবর বিকেলে রুবেল চলমান বিচ্ছেদের বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে রিনাকে বাসা থেকে নিয়ে আসে রুবেল। 

২৪ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় মামলা করার প্রায় দেড়মাস পর পিবিআই ময়মনসিংহের অ্যাডিশনাল এসপি আবুবকর ছিদ্দিক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে গত বুধবার রাতভর সন্দেহমূলক স্থানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়া এলাকা হতে মামলার মূল আসামি রুবেল মিয়া ও তার সহযোগী ইমারতকে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতার রুবেল মিয়া কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার শিকান্দরনগর গ্রামের মৃত সবুজ হাওলাদারের ছেলে ও ইমারত মোল্লা ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি দীতপুর গ্রামের মানিক মোল্লার ছেলে। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ