Alexa সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী ব্রিটেনের নারী এমপিরা

সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণে অনাগ্রহী ব্রিটেনের নারী এমপিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৬:১৭ ৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে ২০১৭ সালে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশটির রেকর্ডসংখ্যক নারী রাজনীতিবিদ পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। তবে মাত্র দুই বছর পরেই এ রাজনীতিবিদদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন না।

এরকারণ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তারা জানায়,এ সময়ের মধ্যে তাদের নানা ধরনের ‘নোংরা-কটূক্তিমূলক আচরণ’ এবং ‘ভীষণ অমানবিক নিপীড়ন’-এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।

আসন্ন ১২ ডিসেম্বর ব্রিটেনের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে ৫৭ এমপি ঘোষণা করেছেন যে তারা এবারের নির্বাচনে দাঁড়াবেন না। এমপিদের এ নির্বাচনের মধ্যে ১৮ জনই নারী ছিল।

জানা যায়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে ৬৫০ এমপির মধ্যে ৩২% বা ২১১ জন নারী, যা সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি সারাহ ওল্লাস্টন বলেছেন যে, অবসর গ্রহণের বয়সে থাকা পুরুষদের তুলনায় কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে যাওয়া এই নারীরা অনেক কম বয়সী এবং প্রতিনিধি হিসেবে কম সময় ব্যয় করেছেন। বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল নারীকে তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মৃত্যু ও ধর্ষণের হুমকির শিকার হচ্ছেন পার্লামেন্ট নারী সদস্যরা

অ্যামনেস্টি ইউকে'র হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনে সর্বশেষ নির্বাচনের সময় নারী এমপিরা ২৫ হাজারেরও বেশি আপত্তিকর টুইট পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি এসেছে লেবার পার্টির ডায়ান অ্যাবোটকে লক্ষ্য করে। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

পার্লামেন্টে নারীদের ইতিহাস নিয়ে লেখালেখি করেছেন লেবার এমপি রেচেল রিভস। তার মতে, গালাগালি, মৃত্যু এবং ধর্ষণের হুমকি ‘নারী এমপিদের জন্য নিত্যদিনের ঘটনা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবং এই সমস্যা পার্টির সীমা অতিক্রম করেছে।

রিভস বলেন, ‘আমি যখন আমার বইয়ের জন্য থেরেসা মে’র সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তখন তিনি বলেছিলেন যে, এরা হলো সেসব ছোকরা যারা প্রতি রাতে পানশালার কোণায় বসে নিজেদের বিয়ারের সঙ্গে গজগজ করে, এখন তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই একই কাজ করতে পারছে।’

তিনি আরো বলেছেন, নারী এমপিদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন এবং শত্রুতা নতুন কিছু নয়। তিনি ইতিহাসের কথা মনে করেন বলেন, ১৯১৯ সালে প্রথম নারী এমপ ন্যান্সি অ্যাস্টার কীভাবে তার আসনটি গ্রহণ করেছিলেন। সেখানে যাওয়ার জন্য ন্যান্সি অ্যাস্টারকে তার চেম্বারের পুরুষ সহকর্মীদের ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপকে ধাক্কা দিতে যেতে হয়েছে।

‘তবে আমি মনে করি বর্তমানে যা ঘটছে তা দেখলে তিনি হতবাক হয়ে যেতেন’, রিভস টুইট বার্তায় এমন মন্তব্য করেন। ‘এখন এটা নিশ্চিত করার সময় এসেছে যে আমরা সাধারণ নির্বাচনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এগিয়ে যেতে পিছ পা হবো না।’

হাউস অব কমন্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে।

সূত্র : বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/মাহাদী