সাধারণ জীবনের গল্প ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক

সাধারণ জীবনের গল্প ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৪ ৫ জুন ২০২০  

বাসু চট্টোপাধ্যায়

বাসু চট্টোপাধ্যায়

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কিংবদন্তী পরিচালক এবং চিত্রনাট্যকার বাসু চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মুম্বাইয়ে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুকালে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ খ্যাত এ পরিচালকের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউডে।

রাজস্থানের আজমেরে জন্ম তার। বাবা রেলে চাকরি করতেন। তাই নানা শহরে থাকার সুযোগ মিলেছে। ছোট থেকে তার ভ্রমণ পিপাসু মন, সফর করতে ভালবাসে। রেলওয়ে কোয়াটারে থাকার সুবাধে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মধ্যবিত্ত জীবনযাপন। সেই ছাপই পড়েছে তার সৃষ্টিতে। পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় গল্প বলেছেন সাধারণ মানুষের।

তার বড় হয়ে ওঠা মথুরায়। পরিচালকের মন টানতো সিনেমা। মথুরায় তখন একটাই প্রেক্ষাগৃহ। তিন দিন পর পর ছবি পাল্টে যেত। বাসু প্রায় সব ছবি দেখতেন। মনে মনে স্থির করে ফেলেছিলেন ৭০ এমএম-এর পর্দায় নিজের বানানো ছবি দেখবেন। 

গ্র্যাজুয়েশন পাস করার পর পেয়ে গেলেন মুম্বাই যাওয়ার সুযোগ। মিলিটারি স্কুলে লাইব্রেরিয়ানের চাকরি নিয়ে পা রাখলেন স্বপ্ন নগরীতে। পুঁথি ঘাটার কাজে মন বসলো না। রসদ খুঁজতে যেতে শুরু করলেন ফিল্ম সোসাইটি-তে। সেখানেই ওয়ার্ল্ড সিনেমার সঙ্গে পরিচয়।

লাইব্রেরিয়ানের কাজ ছেড়ে তিনি কার্টুনিস্ট হিসেবে কাজ করতে শুরু করলেন। কিন্তু মনের গভীরে সিনেমা। ছবি বানানোর আগে শিখে নিতে চেয়েছিলেন ফিল্ম মেকিং-এর খুঁটিনাটি। তার এক কবি বন্ধু ছিলেন শৈলেন্দ্র। ছবিতে কাজ করতেন তিনি। বাসু তাকে নিজের ছবির সম্পর্কে আগ্রহের কথা বলেন। শৈলেন্দ্র তখন ‘তিসরি কসম’-এ কাজ করছিলেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে এই ছবিতে বাসুর জায়গা করে দেন তিনি। 

এবার নিজেই ছবি বানাতে পারবেন। ফিল্ম ফিনান্স কর্পোরেশন থেকে টাকা ধার করে প্রথম ছবি ‘সারা আকাশ’ বানান। দর্শক পান একেবারে ভিন্ন স্বাদ। ‘রজনীগন্ধা’, ‘ছোটি সি বাত’, ‘চিতচোর’, ‘খট্টা মিঠা’, ‘চমেলি কি শাদি’-র মতো ছবিতে বার বার মধ্যবিত্তের কথা বলেছেন তিনি। ‘মনজিল’-এ অমিতাভ বচ্চন, ‘চক্রভ্যিউ’-তে রাজেশ খান্না, ‘মন পসন্দ’-এ দেব আনন্দ ও মিঠুন চক্রবর্তীকে ‘শকিন’-এ একেবারে অন্যভাবে ব্যবহার করেছেন বাসু চট্টোপাধ্যায়। আমোল পালেকর, অশোক কুমার, বিদ্যা সিনহা, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতে নিয়মিত অভিনয় করেছেন।

ছোট পর্দাতেও ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ ও ‘রজনী’-তে ফেলেছেন তার সিগনেচার ছাপ। ‘দুর্গা’ ছবির জন্য জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন পরিচালক। বহুবার ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। স্লাইস অফ লাইফ, রিয়্যালিস্টিক ছবি, যার কথা আজ আমরা বলে থাকি, তা বহু বছর আগে করে দেখিয়েছিন, বাসু চট্টোপাধ্যায়। তিনি চলে গেলেন, তবে রেখে গেলেন, আমার আপনার পাশের বাড়ির মাসিমা, মেসোমশাইদের জীবনের মতো কিছু গল্প।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস