Alexa জুমা পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ ইমামের লাশ ঝুলছে আম গাছে

জুমা পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ ইমামের লাশ ঝুলছে আম গাছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ১৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫৭ ১৯ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের একটি আম গাছ থেকে এক ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ ইদিলপুর ইউপির গোবিন্দরায় দেবত্তর গ্রামের একটি আম গাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আবুল কালাম আজাদ একই ইউপির মহিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ীর দূর্গাপুর গাবেরদিঘি এলাকার জামে মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন। 

সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ানোর জন্য তিনি সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দূর্গাপুর গাবেরদিঘি এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। 

শনিবার ভোরে এলাকাবাসী তার বাড়ির কাছের একটি আম গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

নিহতের বড় মেয়ে ফাতেমা বেগম জানান, আটমাস আগে তার বাবা পলাশবাড়ীর উদয়সাগর এলাকার দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নেন। কিছুদিন আগে সেই টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন তাকে ওই টাকার সুদ দিতে হবে। 

বুধবার ওই সুদের টাকার জন্য তাদের বাড়িতে শাহারুল তার সহযোগী শরিফুল ও মিলনসহ আসেন। তারা সুদের টাকা প্রদানের জন্য ইমাম আবুল কালামকে চাপ দেন। কিন্তু ইমাম আবুল কালাম সুদের টাকা দিতে অপারগতা জানান। এতে দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

তারা আরো জানান, দূর্গাপুর গাবেরদীঘি এলাকায় জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে যাবার জন্য বাড়ি থেকে রওনা হন। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় তারা খোঁজ নিয়ে তার ফোনটি বন্ধ পান। এরপর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন জামে মসজিদে যাবার পথে ওই দাদন ব্যবসায়ীরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি ওই রাতেই পলাশবাড়ীর মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডলকে জানানো হয়। 

মহদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডল জানান, বিষয়টি রাতেই পলাশবাড়ী থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে। 

পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডল ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে রাতেই বিভিন্নস্থানে খোঁজখবর নেয়া হয়। এতে ইমাম আবুল কালাম ও দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কোনো সন্ধান পাননি। 

তবে সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ময়নাতদন্তের রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত তার এই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস