সাত মাসের শিশুকে স্কুলে ভর্তি, এলাকায় তোলপাড়!

সাত মাসের শিশুকে স্কুলে ভর্তি, এলাকায় তোলপাড়!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৬ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:৪৯ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মার বিয়ে হয়েছে মাত্র দুই বছর। বিয়ের এক বছর চার মাস পর জন্ম নেয় জুয়াইরিয়া নীল। তবে পাঁচ বছর বয়স দেখিয়ে সাত মাসের শিশু জুয়াইরিয়াকে স্কুলে ভর্তি করার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের সভাপতির পদ পেতে বাবা এমন কাণ্ড করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার রাউৎভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে। ওই শিশুর বাবার নাম বিল্লাল হোসেন। তিনি জনতা ব্যাংক টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সুবচনী শাখার ব্যবস্থাপক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাউৎভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্ট্রি খাতার শিশু শ্রেণির ২৮ নম্বর ক্রমিকে বিল্লাল হোসেনের মেয়ে জুয়াইরিয়া নীলের নাম দেখা যায়। জুয়াইরিয়ার প্রকৃত জন্ম তারিখ লুকিয়ে রেজিস্টার খাতায় লেখা হয় ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক হতে হবে। এতে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে মেয়েকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন বিল্লাল হোসেন।

ওই শিশুকে স্কুলে ভর্তির ব্যাপারে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার বলেন, জুয়াইরিয়াকে আমি ভর্তি করিনি। শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তাকে ভর্তি করেছেন।

শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষিকা সাবিনা আক্তার ওই শিশুকে ভর্তি করান। তবে শনিবার তার নাম রেজিস্ট্রার খাতা থেকে কেটে দেয়া হয়েছে।

রাউৎভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম হুমায়ূন কবির বলেন, আমার অনুপস্থিতির সুযোগে বিল্লাল হোসেন ও কাইয়ূম শেখ বিদ্যালয়ে আসেন। ওই সময় সহকারী শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শিশু জুয়াইরিয়া নীলকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। পরে খোঁজ নিয়ে দেখি ওই শিশুর বয়স মাত্র সাত মাস।

ওই শিশুর অভিযুক্ত বাবা জনতা ব্যাংক টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সুবচনী শাখার ব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ১৫ মাসের মেয়েকে আমি বিদ্যালয়ে ভর্তি করাইনি। এছাড়া আমার সভাপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। যেসব লোকেরা আমাকে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানাতে চাইছে, তারা হয়ত মেয়ের নাম বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার খাতায় লিখিয়েছে। এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বলেন, সাত মাসের শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করার বিষয়টি লজ্জাজনক। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে বিল্লাল হোসেন নিজের আর্থিক প্রভাব দেখিয়ে নিয়ম ছাড়া সাত মাসের শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করায় এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ