Alexa সাত কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস

সাত কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস

শাহাদাত নিশাদ, তিতুমীর কলেজ  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৭ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৬ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

আমার ইচ্ছা নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা। এখন থেকে চেষ্টা থাকবে নিজেকে যতটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। প্রথমবারের মত বাবা-মাকে ছেড়ে আসতে খুবই কষ্ট হয়েছে। তবুও বাবার কৃষি কাজের মাধ্যেমে উপার্জিত টাকার মূল্য দিতে চাই। এমনটিই জানালেন নোয়াখালী থেকে আসা নাঈমুল ইসলাম। তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সরকারি তিতুমীর কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। 

শুধু নাঈমুল নয়, তার মতো ২১ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৯-২০ সেশনের প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন। 

এদিন উৎসবের আমেজে প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলাদাভাবে রজনীগন্ধা, গোলাপ দিয়ে বরণ নেয় নিজ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এসময় সাত কলেজে আলাদা আলাদা ভাবে শিক্ষকরা নিজ কলেজের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং কলেজের সব নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে নবীনদের প্রতি নির্দেশনা দেন।

মাঘের প্রথমার্ধের এই দিনে বেলা বাড়তে বাড়তে কুয়াশার চাদর ভেদ করে আধো ভেজা সূর্যটাও হেসেছিল। সেই হাসির ছোঁয়া লেগেছে সরকারি তিতুমীর কলেজের নতুন ৫ হাজার ৬৮০ স্বপ্নচারীর উদীপ্ত প্রাণেও। সেই নবীন প্রাণের উদ্দীপনা ছুঁয়ে গেছে ১১ একর তিতুমীরের  চত্বরে। নবীনদের পদ চারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন জীবনের শুরুর দিনে কথা হয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবীণ শিক্ষার্থী নওশীন এর সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রত্যাশা ছিল, অনেক সুন্দর একটা ক্যাম্পাস হবে, অনেক বড় একটা ক্যাম্পাস হবে। যেমনটি ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস এসে দেখলাম তেমনই। অনেক সাজানো আর সুন্দর ক্যাম্পাস আমাদের। চারদিকে সবুজের কোলাহল। এমন একটা ক্যাম্পাস পেয়ে আমি সত্যি উচ্ছ্বসিত আর গর্বিত।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী তানভীর ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনের অনুভূতি অন্য রকম। ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। যেমনটি ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক আনন্দের। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাকি দিনগুলোও এভাবে সহপাঠী, বড় ভাই-বোনদের সঙ্গে আনন্দে কাটবে।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে কুমিল্লা থেকে পড়তে এসেছেন সুমাইয়া সুলতানা। তিনি বলেন, স্বপ্ন পূরণ করতে এই ক্যাম্পাসে পা রেখেছি। সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে আর বড় প্লাটফরম হয় না। প্রথম দিকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম। অবশেষে ভাগ্যক্রমে চান্স হয় সাত কলেজে। তারপরেও আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী হতে পেরে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম