Alexa সাতদিনেই বিশ্বের সাত আশ্চর্য ভ্রমণ!

সাতদিনেই বিশ্বের সাত আশ্চর্য ভ্রমণ!

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:০০ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৫ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইতালির কলোসিয়ামে সায়মন

ইতালির কলোসিয়ামে সায়মন

সব পরিব্রাজকেরই ইচ্ছে থাকে বিশ্বের সাত আশ্চর্য ঘুরে দেখার। কিন্তু এগুলো ঘুরে দেখা অনেক সময় ও অর্থের ব্যাপার। অথচ, মাত্র সাত দিনেই বিশ্বের সাত আশ্চর্য ঘুরে দেখলেন ব্রিটিশ পর্যটক সায়মন উইলসন।

ইতালির রোমের কলোসিয়াম, মিসরের গিজার গ্রেট পিরামিড, জর্ডানের বিলুপ্ত নগরী পেত্রা, ব্রাজিলের ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার মূর্তি, মেক্সিকোর মায়া সভ্যতার বিস্ময়নগরী চিচেন ইৎজা, চীনের গ্রেট ওয়াল ও ভারতের তাজমহল ঘুরে দেখেছেন তিনি। পাঁচ মহাদেশের সাতটি আশ্চর্য উপভোগ করতে বাংলাদেশি মুদ্রায় খরচ হয়েছে ৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। পর্যটক সায়মন উইলসনের যাত্রাপথ-

প্রথম দিন: যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে কলোসিয়াম (১ হাজার ৩০০ মাইল)

তার যাত্রা শুরু হয় ২৮ জুলাই ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে রোমের উদ্দেশে সায়মনের মহাকাব্যিক যাত্রা শুরু হয়। গ্ল্যাডিয়েটরদের স্মৃতিবিজড়িত কলোসিয়াম দু'ঘণ্টা ঘুরে দেখেন তিনি। রোমান সাম্রাজ্যের নিষ্ঠুরতার চরম উদাহরণ হল এই রোমান কলোসিয়াম। হাজার হাজার মানুষের রক্ত, আর্তনাদ ও সংশয় নিয়ে এটি দাঁড়িয়ে আছে ইতালির রোম নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে।

সায়মনের যাত্রাপথ

দ্বিতীয় দিন: ইতালির রোম থেকে গিজার পিরামিড (১ হাজার ৪৬৮ মাইল)

এরপরই তাকে রওনা দিতে হয়েছে মিসরের পথে। হোটেলে পাঁচ ঘণ্টা থাকার পর গিজার পিরামিড দেখতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। মিশরের রাজাদের সমাধিস্থল হচ্ছে পিরামিড। ফারাও রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখা আছে এই পিরামিডের মধ্যে। সায়মন উইলসন কয়েক ঘণ্টা ঘুরে দেখেন জায়গাটি।

তৃতীয় দিন: মিসর থেকে পেত্রা (৪৭০ মাইল)

জর্ডানের পেত্রায় প্রত্নতাত্ত্বিক বিস্ময় দেখে মুগ্ধ হন সায়মন। জর্ডানের দক্ষিণ পশ্চিমে ওয়াদি মুসার পূর্বে হুর পাহাড়ের পাদদেশে খ্রিস্টপূর্ব ৩১২ সনে নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী হিসেবে গড়ে ওঠে পেত্রা। হলিউডের ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য লাস্ট ক্রুসেড’ (১৯৮৯) ছবির শুটিং হয়েছে সেখানে। এদিন জর্ডানে ৪১ পাউন্ডের বিনিময়ে একটি গুহায় রাত কাটান সায়মন।

চতুর্থ দিন: জর্ডান থেকে তাজমহল (২ হাজার ৫০০ মাইল)

দুটি ফ্লাইট ও চার ঘণ্টা ক্যাবে সায়মন গেলেন তাজমহলে। সেদিন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল ৪২ সেন্টিগ্রেড, যা তাকে বেশ ভুগিয়েছে। তিনি বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে অনেক উষ্ণ দেশে বেড়িয়েছি। কিন্তু এমন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গরম কোথাও লাগেনি। একঘণ্টা ধরে ঘেমে ভিজে গিয়েছিলাম। এ কারণে অসুস্থ লাগছিল।’

পৃথিবীর সাত আশ্চর্য

পঞ্চম দিন: ভারতের দিল্লি থেকে গ্রেট ওয়াল (২ হাজার ২৭০ মাইল)

ভারতের আর খুব বেশিক্ষণ সময় অবস্থান করেননি সায়মন। দিল্লি থেকে একটি ফ্লাইটে ও ১২৫ পাউন্ডের রিটার্ন ক্যাব রাইডে চড়ে চীনের গ্রেট ওয়ালে পৌঁছান তিনি। এর মোট দৈর্ঘ্য ২১ হাজার ১৯৬ কিলোমিটার। মঙ্গোলিয়ার দস্যুদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতক থেকে শুরু হয়ে আড়াই হাজার বছর ধরে চলে পৃথিবীর দীর্ঘতম এই প্রাচীর নির্মাণ কাজ। যা আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।

ষষ্ঠ দিন: চীনের বেইজিং থেকে চিচেন ইৎজা (৯ হাজার ৩৪০ মাইল)

চীন থেকে সায়মন পাড়ি জমান মেক্সিকোর চিচেন ইৎজায়। এটি ৬০০ খিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মায়া সভ্যতার উত্তরাংশে অবস্থিত নিম্নভূমির একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। এই প্রত্মতাত্ত্বিক স্থানটি মেক্সিকোর ইউকাতান রাজ্যের তিনুম পৌরসভায় অবস্থিত।

সপ্তম দিন: মেক্সিকো থেকে ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার (৩ হাজার ৯০০ মাইল)

সবশেষে ব্রাজিলের রিও ডি জানেইরোতে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারের সামনে গিয়ে সাত আশ্চর্যের সবই দেখার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয় তার। এরপর ৪ আগস্ট ম্যানচেস্টারে বাড়ির পথে রওনা দেন তিনি। এ যাত্রায় তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে ৯ হাজার ৩০০ মাইল।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে