Alexa সাজেক ঘোরার প্ল্যান: দুই দিন এক রাত

সাজেক ঘোরার প্ল্যান: দুই দিন এক রাত

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৮ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

সাজেক

সাজেক

তুলার মতো মেঘমালা, চারদিকে সারি সারি সবুজ পাহাড়। সবুজের রাজ্যে এ যেন সাদা মেঘের হ্রদ! নিশ্চয়ই ভাবছেন স্বপ্নের মত সুন্দর এরকম দৃশ্য বাস্তবে দেখা যাবে কি? আর দেখা গেলেও হয়ত যেতে হবে বহুদূরে কোনো অজানা দেশে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতেই রয়েছে এরকম এক মেঘপুরী; যার নাম সাজেক ভ্যালি।

সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। বছরের যে কোনো সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। তবে বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত। দুই দিন এক রাতের পরিকল্পনায় গেলে এই লেখাটি আপনার সহায়ক হবে।

প্রথম দিন

সকালেই চলে আসুন খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। শহরের শাপলা চত্বর থেকে মাহিন্দ্রা বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারবেন। এক গাড়িতে করে ১২ থেকে ১৪ জন যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি জীপ মালিক সমিতি নির্ধারণ করেছে মাহিন্দ্রা ও চান্দের গাড়ি ভাড়া।

* খাগড়াছড়ি হতে সাজেক একদিনে আসা-যাওয়া: চান্দের গাড়ি ৫,১০০ ও মাহিন্দ্রা ৫,৪০০ টাকা।

* খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রিযাপন: চান্দের গাড়ি ৬,৬০০ ও মাহিন্দ্রা ৭,৭০০ টাকা।

* খাগড়াছড়ি হতে সাজেক ১ রাত্রিযাপন (আলুটিলা, রিচাং ঝরনাসহ): চান্দের গাড়ি ৮,১০০ ও মাহিন্দ্রা ৯,৭০০ টাকা।

সাজেক ভ্যালী

সাজেক গিয়েই রিসোর্টে উঠে যাবেন। মনে রাখবেন, যাওয়ার তিন-চার দিন আগে রিসোর্ট বুকিং দিয়ে রাখবেন। এরপর ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নেবেন। সাজেকে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট আছে, সব জায়গায় প্রায় একই খাবার। এখানে প্যাকেজ আকারে বিক্রি করে। সাজেকের কাঠফাটা দুপুরের রোদে না ঘোরাঘুরি করে রোদ পড়ার অপেক্ষা করাই ভালো। বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন হ্যালিপ্যাড অথবা কংলাক পাড়া। সেখানে একটু উঁচু টিলায় উঠলেই উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্ত। সাজেকের সন্ধ্যা নামে অপরূপ এক সৌন্দর্য নিয়ে।

সন্ধ্যার তারাভরা আকাশ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ হাওয়ায় চায়ের কাপে চুমুক দিলে আপনার হৃদয়ে যে অনুভূতি আসবে সেটাই হতে পারে সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। রাতে চাইলে বারবিকিউ পার্টি করতে পারেন; সঙ্গে চলবে জমপেশ আড্ডা। মনে রাখবেন খুব বেশি রাত জেগে না থাকাটাই ভালো। কারণ, ভোরে উঠতে হবে তো!

দ্বিতীয় দিন

সূর্য ওঠার আগেই উঠে পড়বেন। রিসোর্ট থেকে যদি সূর্যাস্ত দারুণভাবে দেখা যায় তাহলে ভালোই। নাহয় চলে যেতে পারেন হ্যালিপ্যাডে। সেজন্য উঠতে হবে খুব ভোরে আর চলে যেতে হবে এক বা দুই নম্বর হ্যালিপ্যাডে। সাজেকে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভা সাদা মেঘের উপর যখন ঠিকরে পড়ে তখন আসাধারণ এক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

সচরাচর সাজেক একরাতের বেশি থাকার প্ল্যান নিয়ে কেউ যায়না। তবে বেশি ভাল লেগে গেলে থেকে যেতে পারেন যতদিন খুশি। ফেরার দিনও আপনাকে এসকোর্ট ধরতে হবে। সাজেকে থেকে এগারটার দিকে শুরু হয় এসকোর্ট। খাগড়াছড়ি ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে যাবে। তবে চাইলে দুপুরে বেশি সময় নষ্ট না করে ঘুরে আসতে পারেন আলুটিলা ও শহরের আশে পাশের দর্শনীয় স্থানগুলো থেকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে