‘বন্যা আমগোর যাতায়াতের সাঁকোটি ভাইঙ্গা লয়া গেল’

‘বন্যা আমগোর যাতায়াতের সাঁকোটি ভাইঙ্গা লয়া গেল’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৯:৩০ ৭ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘বন্যা আমগোর যাতায়াতের সাঁকোটি ভাইঙ্গা লয়া গেল। আমরা এহন ৮ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতে পাচ্ছিনা। বন্যা আমগোর ফসল খাইল, ঘর-বাড়ি ডুবাইল। এহন সাকোটি ভাইঙ্গা লইল’। এ্যাহানটাই একটা সেতু হলে আমগো কষ্ট দুর অইবে’।

এভাবেই বলছিলেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্যা কবলিত ভুক্তভোগী সবুজ মিয়া, সুরুজ মিয়া, আব্দুর রহিমসহ আরো অনেকে। অবিরাম বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রৌমারীর জিঞ্জিরাম নদীর তীরবর্তি এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা  দিয়েছে। 

এতে দুর্ভোগে পড়েছে আট গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। উঠতি ফসলাদি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে এখানকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এতে রৌমারী উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এখানকার  ২৫ হাজার মানুষের। 

উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল এই বাঁশের সাঁকোটি। বন্যার পানির তোড়ে বাঁশের সাঁকোটির কিছু অংশ ভেসে গেছে। এর সঙ্গে প্রায় ৪০০ ফিট রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় রৌমারী উপজেলার খাঁটিয়ামারী, রতনপুর, চর বামনেরচর, মোল্লার চর, বেহুলার চর, সুতির পাড়, বোল্লাপাড়া, মাঝিপাড়া-সবুজপাড়া গ্রামের মানুষ যাতায়াত বঞ্চিত হচ্ছে।   

বন্যায় এই বাঁশের সাঁকোটি বিধ্বস্ত হওয়ায় এখানকার কৃষক কৃষিপন্য বাজারজাতকরণ, ধান, শাক-সবজি, বাজারে আনা নেয়ায় সমসা হচ্ছে।অতি প্রয়োজনে উপজেলা শহরে যেতে অনেককে ব্যবহার করতে হচ্ছে ডিঙ্গি নৌকা।

২০০৫ সালে সড়কের মাঝিপাড়া (সবুজপাড়া) গ্রামের পূর্ব পাশে আলমের বাড়িসংলগ্ন খালের ওপর এলজিইডির অর্থায়নে একটি স্লুইসগেট ও খালের বাকি অংশ মাটি ভরাট করে সড়ক মেরামত করা হয়। পরের বছরই বন্যায় গেটটি অক্ষত থাকলেও সড়কের মাটি ভরাট অংশটুকু ভেঙে যায়। ২০১৪ সালের আবারো একই জায়গায় দুইবার মাটি ভরাট করে পুন:মেরামত করা হলেও প্রতি বছরের বন্যায় সড়কের ওই অংশটুকু ভেঙে যায়। 

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুঃখ লাঘব হবে জিঞ্জিরাম নদীর তীরবর্তি ৮ গ্রামের মানুষের। কৃষিপন্যসহ বিভিন্ন মালামাল কেনাবেচা, চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় কাজে তারা রৌমারী উপজেলা শহরের যোগাযোগের পথ সুগম হবে। ফিরে আসবে স্বস্তি।

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু বলেন, এবারের বন্যায় বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় ৮ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের কষ্ট বেড়েছে। আমি এখানে একটি সেতু নির্মাণে অনেক দফতরের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। 

রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মামুন খান জানান, সাঁকো ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি ভালো করে জেনে ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

ইউএনও আল ইমরান জানান, বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁশের সাঁকোর বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সাঁকোর স্থানে পানির স্রোত তীব্র হওয়ায় এখানে একটি বড় স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। করোনা ও বন্যার কারনে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগ শেষ হলেই এর কার্যক্রম শুরু করা হবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ