‘সহালে খাইলে দুবেলা না খেয়ে থাহি’

‘সহালে খাইলে দুবেলা না খেয়ে থাহি’

আব্দুস ছামাদ, ইসলামপুর (জামালপুর)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৩ ৩ জুলাই ২০২০  

উপজেলার ৭টি ইউপির ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে

উপজেলার ৭টি ইউপির ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে

‘ঘরের চতুর পাশে বুক সমান পানি। কোনো দিকে যাওয়ার উপায় নাইকে। রাতে শুইলে সাপের ভয়ে ঘুমও আসে না। আর ঘরেতো খাওন নাই। সহালে খাইলে বাকি দুই বেলা না খেয়ে থাহি ছাওয়াল-পাওয়াল লয়ে। কেউ আমাগরে খোঁজখবরও নেয় না’।

কথাগুলো জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউপির পশ্চিম বাবনা গ্রামের তিন সন্তানের জননী গোলাপী বেগমের। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বন্যাকবলিত ওই গ্রাম পরিদর্শনে গেলে তিনি এভাবে তার কষ্টের কথা বলেন।

গোলাপী আরো বলেন, আমাগরে তো খাওন নাই, ছাগল-গরুর দিকে চাইলে বুকটা ফাইটা যায়। প্রতি বছরের এমন বন্যার কষ্ট কোনোদিন কি দূর হবে না। বানে কষ্টে শুধু গোলাপী বেগমই পড়েননি। একই গ্রামের মমতা, শেফালী ও আলাউদ্দিনসহ আরো অনেকেই বললেন কষ্টের জীবনের কথা।

আলাউদ্দিন বলেন, গত সাতদিন থাইকা বাড়িঘরে পানি উঠছে, অহন পর্যন্ত কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যান খোঁজখবর লই নাই। এই পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করতাছি, আবার এই পানিই খাই আমরা, তাহলে বুঝেন কত কষ্টে আছি।

জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সামান্য পানি কমলেও কমেনি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ। এদের দুর্ভোগ দিন দিন ভেড়েই চলছে। উপজেলার ৭টি ইউপির ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি উঠায় দুর্গত এলাকায় ব্যহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ।

দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ২৬ মেক্ট্রিক টন জিআর চাল, শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্যের বাবদ নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে ইসলামপুরের চিনাডুলী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, জেলার সাতটি উপজেলার আটটি পৌরসভা এলাকা ও ৪৩টি ইউপিতে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪২ মানুষ বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত জেলার বন্যা কবলিত এলকায় ৬০ মেক্ট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্যার জন্য জুন পর্যন্ত আমাদের তাই বরাদ্দ ছিল। তবে এখন নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় দু-একদিনের মধ্যে আমরা আবার নতুন বরাদ্দ পাব। বরাদ্দ পেলে এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম