Alexa সরিষাবাড়ির জল্লাদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা

সরিষাবাড়ির জল্লাদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলা

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ১৭ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউপির পুঠিয়ারপাড়া গ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে সিদ্দিক আলবদর ওরফে জল্লাদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মামলা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত গত ৫ নভেম্বর মামলাটি ঢাকায় স্থানান্তর করে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী-২ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী নিরীহ বাঙালিদের পাকবাহিনীর হাতে সোপর্দ, হত্যা ও হত্যায় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। 

ইজারাপাড়া (গোনারপাড়া) গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী মোছা. জহুরা বেগম বাদী হয়ে গত ১৪ অক্টোবর আমলি আদালতে মামলাটি করেন। 

মামলায় পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক, আটজন মুক্তিযোদ্ধা ও জল্লাদ সিদ্দিকের বড়ভাই আব্দুর রশিদসহ মোট ২৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

এজাহারের সঙ্গে এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ ২০ ফর্দের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোলায়মান কবীর মামলাটি আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ঢাকার বিচারকের কাছে পাঠান।

এদিকে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পর আসামি বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি মুক্তিযুদ্ধের সময় সরিষাবাড়িতে আলবদর বাহিনী গঠন করে নিজে বাহিনী প্রধান হয়ে জল্লাদের ভূমিকা পালন করে। 

বাদীর ভাই আব্দুল কাদের ও আব্দুল হাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর ভোরে সরিষাবাড়ির বাউজি ব্রিজে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের যুদ্ধ হয়। এতে ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এরপর জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা বাদীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।

 এ সংবাদে স্বাধীনতা বিরোধীরা একযোগে বাদীর বাড়িতে হামলা করে। তারপর বাদী, কতিপয় সাক্ষী ও বাদীর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদেরকে ধরে নির্যাতন চালায়। এ সময় আসামি জল্লাদ সিদ্দিক আব্দুল কাদেরকে সরাসরি বুকের বাম পাশে গুলি করে হত্যা করে। একই সময় তার নেতৃত্বে বাদীর বাড়িঘরে লুটপাট করা হয়। 

এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বাদীর নেতৃত্বে পুঠিয়ারপাড় গ্রামের ভোলা সাহা, চান মোহন সাহা, রাধা বর্মন সাহা ও সুরেশ সাহাকে হত্যা করা হয়। গোপিনাথপুর, বয়াসিং গ্রামের তৈয়ব আলী (আগু মণ্ডল), নছর মণ্ডল, সৈয়দ মণ্ডল, আব্দুস ছাত্তার, ইনতুলি মুসল্লিকে হত্যা, তাদের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। 

আরামনগর বাজারের হিরেন্দ্র কুমার প্রামাণিক, কালিপদ কর্মকার, বাদল কর্মকার ও ঝন্টু কর্মকারকে আসামি হত্যা করে। সে শুয়াকৈর গ্রামের আমির হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে নিরীহ বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন, বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, আসামি দেশ স্বাধীনের পর পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যায়। ৩-৪ বছর আগে দেশে ফিরে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠে। অন্যের জমি দখল, তুচ্ছ কারণে নিরীহ লোকদের মারধর, খুন-জখমের হুমকি, মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ পারিবারিক প্রভাব ও অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বারবার সালিশ-বৈঠকে সাবধান করায় উল্টো সে গ্রামের মাতব্বরদের হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়। এসব বিষয়ে ইউএনও অফিস ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রতিকার পাননি এলাকাবাসী।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী-২ জানান, জল্লাদ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে করা মামলাটি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যস্ত করেছেন। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

এদিকে মামলার সাক্ষী (আসামির ভাই) আব্দুর রশিদ অভিযোগ করেন, আসামি বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তার বাড়ির দিকে আসামি সিসি ক্যামেরা বসিয়ে গতিবিধি নজরে রাখছে। তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ