সম্পত্তি লুট করতেই পিতাকে হত্যা

সম্পত্তি লুট করতেই পিতাকে হত্যা

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৪৯ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সম্পত্তি গ্রাস করার উদ্দেশ্যে হাজী উমর আলী নামে এক পিতাকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার ছেলে। হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউপির চাঁনপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

মনির আহমেদ নামে ধৃত এক আসামির বরাতে এ তথ্য দিয়েছেন হবিগঞ্জ এসপি মোহাম্মদ উল্যা। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
 
এসপি জানান, হাজী উমর আলী দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আলাদাভাবে বসবাস শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন প্রথম স্ত্রী পিপি বেগম। বিষয়টি নিয়ে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় উমর আলীর। 

একপর্যায়ে পুরো সম্পত্তি এককভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে পিতা উমর আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে প্রথমপক্ষের সন্তান কাউছার আহমেদ। সে অনুযায়ী পিতাকে হত্যার জন্য সিলেট জেলার জকিগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ দয়াগ্রামের এমাদ উদ্দিনের ছেলে ভাড়াটিয়ে কিলার মনির আহমেদের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা চুক্তি করে কাউছার।

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মামলা আপোষের প্রলোভন দিয়ে উমর আলীকে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউড়াস্থ মনিরের শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি টিলায় নিয়ে যান কাউছার। সেখানে তাকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। 

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে গত ৬ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ থানায় পিতার সন্ধান চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন কাউছার। পরে গত ২১ জানুয়ারি হত্যার স্থল থেকে উমর আলীর কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ।
 
এদিকে গত ২৩ জানুয়ারি সন্দেহপ্রবণ হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত উমর আলীর ভাই মো. নায়েব আলী। মামলায় উমর আলীর ছেলে কাউছার আহমেদ, আল আমীন ও তাদের মা পিপি বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নিশ্চিত হয় কাউছার ও মনির আহমেদ ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পরে মনির ও তার শাশুড়ি সুফিয়া খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এসপি আরো জানান, কাউছারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত এসপি (বানিয়াচং সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ সেলিম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আজমিরীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু হানিফসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম