‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’

বাজেট ২০১৯-২০

‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’

মীর সাখাওয়াত সোহেল  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০০ ১২ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম বাজেট উত্থাপন আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এটা প্রথম বাজেট। এরই মধ্যে বাজেট উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। দেশের ১১তম অর্থমন্ত্রী হিসেবে ওইদিন বিকেল তিনটায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন আ হ ম মোস্তফা কামাল। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের শিরোনাম দিয়েছেন, ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’।

এরই মধ্যে আ হ ম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন,‘এবার গতানুগতিক বাজেট হবে না। নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হয়েছে বাজেট। সেই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতার বইও।’

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) দুই লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। তবে, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এই প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। 

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। আর ঘাটতি পূরণে  অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে। সেই সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ঋণ নেয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজেটে ভ্যাট আইন কার্যকর করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে। আইন কার্যকর করতে ভ্যাটের একটি স্তর ভেঙে ক্রেতার সুবিধার্থে তিন থেকে পাঁচ স্তরের ভ্যাট কাঠামো তৈরি করার কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে এনবিআরের জন্য নতুন করে দিকনির্দেশনা থাকবে। আর সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমলেও এ বিষয়ে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা থাকবে।

চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আসন্ন বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকারের চেয়ে ৮০ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বেশি।

তবে,বিশাল আকারের বাজেট করতে গিয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি রাখছেন অর্থমন্ত্রী। এই ঘাটতি ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের পাশাপাশি বিদেশি ঋণ ও অনুদান নিয়ে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এরই মধ্যে করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই ভ্যাট আইন কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে দেশের সব বন্দরে স্ক্যানার মেশিন বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বাজেটে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায় বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির আড়ালে অর্থপাচার রোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এসব লক্ষ্য সামনে রেখেই নতুন অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরকে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এর মধ্য থেকে সরকারের আবর্তক ব্যয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৩৪ কোটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া সরকারের মূলধন খাতে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাজেটে উন্নয়নখাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ২ লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি)। এ ছাড়া এডিপি বহির্ভূত বিশেষ প্রকল্প, স্কিম ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে বাকি অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা)কর্মসূচিতে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা।

বিদেশ থেকে অনুদান না পেলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশ। তবে বিদেশি অনুদান পাওয়া গেলে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এই বাজেটে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে