Alexa সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক

সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক

প্রকাশিত: ১৪:৫০ ২১ আগস্ট ২০১৯  

শাকিলা নাছরিন পাপিয়া পেশায় শিক্ষক। জুরাইন আদর্শ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে রয়েছে। লেখালেখিও করেন নানা বিষয়ে। এরইমধ্যে একটি উপন্যাস ও একটি প্রবন্ধের বই বের হয়েছে। যা দিয়ে স্থান করে নিয়েছেন পাঠক হৃদয়ে।

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরই শুরু হয়ে যাবে ভর্তিযুদ্ধ। সময়ের প্রয়োজনের পরিবর্তীত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনতে হয় নীতি নির্ধারণ পরিকল্পনায়।

বাড়ছে জনসংখ্যা। চাপ পড়ছে শিক্ষায়। বর্ধিত জনসংখ্যা এবং দেশের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ রেখে আমাদের উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা উচিত।

এই তো সেদিন, রূপা নামের মেয়েটি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে নিজের বসবাসের স্থান ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়েছিল। কী হলো? নিরাপত্তাহীন এ দেশে কিছু মানুষরূপী হায়েনার লালসার শিকার হয়ে লাশ হয়ে পড়ে রইল রাস্তায়।

এদেশে এখন বাস, গাড়ি নিরাপদ নয়। রাস্তা থেকে টেনে তোলা হয় প্রাইভেট কারে। জ্যামে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।এমনই এক অবস্থায় কয়েক মাস পরই লাখ লাখ শিক্ষার্থীকেউচ্চ শিক্ষার জন্য সারা দেশের সব কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌঁড়াতে হবে। এখন প্রযুক্তির কল্যাণে সারা পৃথিবী হাতের মুঠোয়। বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিমিষের সধ্যে যোগাযোগ করা যায় সহজেই।

দেশ মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশের মর্যাদা লাভ করেছে। তাহলে, ভর্তির জন্য এই যে মান্ধাতার আমলের ছোটাছুটি এটা কেন?

দেশের প্রতিটি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি, বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে একই প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়া এখন সময়ের দাবি। আমাদের ভাবার সময় এসেছে কেন এই সমন্বিত পরীক্ষা প্রয়োজন।

 মেধা সারাদেশ ব্যাপী যখন একই প্রশ্নে পরীক্ষা হবে তখন মেধা সঠিকভাকে নির্ণয় করা সম্ভব হবে। দেশের বিভিন্ন জেলঅয় বিভিন্ন ধরণের প্রশ্নহলে, একেক বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রশ্নএকক রকমের হলে মেধা যাচাই সঠিকভাবে হওয়া সম্ভব নয়।

আর্থিক সাশ্রয়

এইচ এস.সি পরীক্ষঅ শুরু হবার পূর্বেই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো তাদের কোচিংয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পরীক্ষা শুরু হয়েছে এপ্রিলে অথচ ঢাকায় এসে শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে ভর্তি হয়ে গেছে ডিসেম্বরে। ফলাফল কী হবে তা না জেনেম পরীক্ষা কেমন হবে তা না জেনেই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় এ কোচিং সেন্টারগুলো ছয় মাস আগে থেকে শুরু করেছে ভর্তি প্রক্রিয়া।

একদিকে কোচিং সেন্টার অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার এ কোচিং বাণিজ্যের কাছে অসহায় অভিভাবক পুরোটা অন্ধকারে থেকেই তাদের সন্তানকে ভর্তি রেছে কোচিংয়ে।

বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সময়ের অপচয়। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া এবং পর্যাপ্তসময় প্রয়োজন। দেখা যায় আজ এক জেলায় ভর্তি পরীক্ষা তো কাল অন্য জেলায় ভর্তি পরীক্ষা। অনেক সময় ঘুরে ঘুরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক উভয়ের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। যদি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় তা হলে সময়ের অপচয় এবং হয়রানির হাত থেকে মুক্তি মিলবে।

নিরাপত্তা

অজানা অচেনা একটি জায়গায় পরীক্ষা দিতে গিয়ে হোটেলে থাকা একদিকে যেমন আর্থিক দন্ড অন্য দিকে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অজানা অচেনা একটি শহরে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় ঝুঁকির ব্যাপার। হোটেল, রাস্তাঘাট, বাহন কোথাও নিরাপত্তা অনুভব করে না শিক্ষার্থীরা। ফলে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী শিক্ষর্থী একাধিক জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে না।

সড়ক দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর আমাদের অবাক করে না। এটা যেন নৈমিত্তিক একটা ব্যাপার হয়ে গেছে আমাদের জীবনে। রাস্তায় বের হবার পর নিরাপদে সুস্থভাবে ঘরে ফিরলে সেটা আমাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার বিশেষ আশীর্বাদ। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষার জন্য এই যে ছোটাছুটি এটা এক ধরণের আতংক বহন করে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য। যানজট, দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে দেখা যায় অনেক সময় সঠিক সময়ে অনেকে পরীক্ষা হলে পৌঁছাতে না পারায় পরীক্ষয় অংশ নিতে পারে না।

অন্যান্য

মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রটা ধনী গরীব সবার। ভাবতে হবে সবার কথা। সেই সঙ্গে আছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা। ব্যপারটা অনিয়ম রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে যুগের এবং সময়ের চাহিদাই ভাবতে হবে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষর কথা। রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধানুযায়ী যোগ্য স্থানে পৌঁছে দেবার।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নানামূখী সমস্যার কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রকেই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে সততা এবং নিষ্ঠা বজায় রেখে।

যে দেশে এ প্লাস বিক্রী হয় তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকায় সে দেশে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির খবর নিলে হয়তো কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেড়িয়ে আসবে। সুতরাং মেধার সঠিক মূল্যায়ণের জন্য, একটি মেধাবী, আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন উন্নত প্রজন্ম তৈরির জন্য সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা এখন সময়ের দাবি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা যদি সমন্বিতভাবে সারা দেশে একই প্রশ্নে এক যোগে হতে পারে তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রে এটা যে অসম্ভব নয় এটা তো প্রমাণিত। দেশের সকল বিত্তের সকল মানুষের কথা মাথঅয় রেখেই ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর