সবজির দাম বাড়তি
Best Electronics

সবজির দাম বাড়তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫০ ১৫ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

কাঁচা সবজির দাম গত সপ্তাহেই ছিল বাড়তি। সেই রেশ না কেটে এ সপ্তাহেও চড়া সবজির বাজার। এর মধ্যে তিনটি সবজির কেজি ছুঁয়েছে প্রায় ১০০ টাকা। বাকিগুলোর বেশিরভাগের কেজি অথবা পিস ১০০ টাকার কাছাকাছি।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, কচুক্ষেত, উত্তরা, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, শান্তিনগর, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ক্রেতারা বলছেন, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে অধিকাংশ সবজির দাম। 

বাজারে এখন সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন আশা বরবটি। গত সপ্তাহের মতো বাজার মানভেদে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। দামের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে পটল ও করলা। বিভিন্ন বাজারে পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে করলা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

বরবটি, পটল, করলার মতো স্বস্তি মিলছে না ঢেঁড়স, কচুর লতি, লাউ, ফুলকপি, শিম, ধুন্দুলের দামেও। সবজিগুলোর দাম ১০০ টাকা না হলেও প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি দুটির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে।

শিমের দাম গত সপ্তাহের মত ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি থাকলেও লাউ, ফুলকপি ও ধুন্দুলের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। আর ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেগুন, মুলা ও শালগম। গত সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর শালগম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

তবে চড়া দামের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, পাকা টমেটো, শশা ও গাজর। পেঁপে আগের মতই ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। গাজর পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দাম কমার তালিকা রয়েছে দেশি পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি। তবে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতই ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

পেঁয়াজ ও মরিচে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মাংসের দামে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি কম। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা বয়লার মুরগির দাম নতুন করে বাড়েনি। আগের সপ্তাহের মতো বাজার ভেদে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি।

বয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে লাল লেয়ার মুরগি ও পাকিস্তানি ককের। লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। আর পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি আগের মতোই ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। এই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি। টেংরা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

সবজির দামের বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, শীতের সবজি শেষ হয়ে আসায় ফুলকপি, শিম, লাউয়ের দাম বেড়েছে। আর পটল, বরবটি, ঢেঁড়স বাজারে নতুন আসায় দাম একটু বেশি। কিছুদিন গেলে এগুলোর দাম কমে যাবে। তবে অন্যান্য সবজির দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে

Best Electronics