সবজিতে আমজাতের বাজিমাত

সবজিতে আমজাতের বাজিমাত

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২১ ১৫ আগস্ট ২০২০  

সবজি চাষে আমজাতের সাফল্য

সবজি চাষে আমজাতের সাফল্য

দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন মো. আমজাত খান নামে এক কৃষক। লাউ, করলা, আর শসা চাষ করে মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় ফলন পেয়েছেন তিনি। এতে অভাবনীয় সাফল্য পান আমজাত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায় সবজি চাষ করেন আমজাত খান। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে সবজি বিক্রি। অধিক ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় তিনি বেশ খুশি। আমজাত হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হরমুজ আলীর ছেলে।

উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর কীটনাশক ও বীজের ব্যবসা শুরু করেন আমজাত। কিন্তু সফলতা না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ২০০৭ সালে নিজের ইচ্ছা আর পরিশ্রমকে কাজে লাগিয়ে বাড়ি সংলগ্ন পৈত্রিক জায়গায় করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, গাজর, শিম, টমেটো, পুঁইশাক, শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেন।

সবজি চাষে সফলতা পেয়ে নিজের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় জমি ইজারা নিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি চাষ করেন আমজাত। আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষেই ভাগ্য বদল করেন তিনি। এরইমধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। এছাড়া সফল সবজি চাষি হিসেবে ২০১৪-১৫ সালে জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে দুইবার পুরস্কার পেয়েছেন। 

এদিকে দেড় মাস আগে আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায় ৪৫ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে সবজি চাষ করেন আমজাত খান। এতেও সফল হন তিনি।

তারাগন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, লাউ, করলা, শসাসহ অন্যান্য সবজিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমজাত। তিনি কয়েকজন শ্রমিকও রেখেছেন। মাচায় সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে এসব সবজি। দৃষ্টিনন্দন সবজি বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন লোকজন। 

কৃষক আমজাত খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও বন্যা থাকায় নিচু এলাকায় সবজি চাষ করা যায় না। তাই উঁচু জমিতে চাষ করতে আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায় আসা হয়। সেখানে লাউ, শসা, করলার পাশাপাশি তরমুজ চাষ করা হয়। গাছ লাগানোর ৩৮ দিনের মধ্যেই এসব সবজি বিক্রির উপযোগী হয়।

আমজাত বলেন, জমি তৈরি করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহর মধ্যেই চারা গজিয়ে ওঠে। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও মাচা তৈরিসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে সবজি বিক্রি। প্রতিদিন ১৫০টি লাউ, একশ কেজিরও বেশি শসা ও ৩০-৩৫ কেজি করলা বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে একটি লাউ ৪০, শসা কেজিপ্রতি ১৫-২০ ও করলা কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে প্রতিদিনই সবজির পরিমাণ বাড়ছে। প্রায় তিন মাস বিক্রি করা যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে খরচ বাদে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এক লাখ টাকারও বেশি আয় হবে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারো মাসই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। উপজেলায় কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দেয়া হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া দাম ভালো পাওয়ায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর