Alexa ‘অসুস্থ সন্তান জন্ম নেবে’ জেনেও দশ মাস গর্ভে রেখেছেন মা

‘অসুস্থ সন্তান জন্ম নেবে’ জেনেও দশ মাস গর্ভে রেখেছেন মা

সাদিকা আক্তার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৮ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৪০ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গর্ভকালীন ২৮ সপ্তাহের সময় ডাক্তার তার মাকে বলেছিলেন বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলতে। কারণ বাচ্চাটির সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়, সে জন্ম নিলেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকা কষ্টসাধ্য হবে। তবুও নিজের জীবন বাজি রেখে সেই মা সন্তানকে পেটে রেখেছেন শেষ পর্যন্ত। 

বাচ্চাটি ঠিকই নির্দিষ্ট সময় পর জন্মায়। তবে আর পাঁচটি স্বাভাবিক শিশুর মতো নয়। আজ সেই বাচ্চাটির বয়স আট বছর। নাম তার এফিয়া আয়েয়ি। এই মা ও মেয়ের বসবাস ঘানার কেপ কোস্টে। অস্টিওজেনেসিস রোগে আক্রান্ত সে। তার শরীরের হাড়গুলো খুবই নরম। এজন্য হাঁটা চলা তো দূরের কথা সামান্য হাত নাড়ালেই হাড়গুলো ভেঙে যায়। চিকিৎসকের মতে, তার শরীরের হাড়গুলো বিকশিত হয়নি। বিশ্বের ২০ হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত।

এফিয়া আয়েয়িঅস্টিওজেনেসিস ইম্পারফেক্টা ফাউন্ডেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই রোগটি জন্মগত ত্রুটির ফলেই হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শরীরের হাড়গুলো অত্যন্ত নমনীয় থাকায় রোগীর সামান্য নড়াচড়ার ফলেও হাড় ভেঙে যায়। অনেকেই এফিয়ার মাকে দোষারোপ করে থাকেন যে, তার কারণেই মেয়েটি আজ এতো কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছে।

কারণ সে যদি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চাটিকে নষ্ট করত তাহলে এফিয়াকে এমন কষ্ট সহ্য করতে হত না। এ বিষয়ে এফিয়ার মা বলেন, আমি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। সে অনুসারে কখনো একটি জীবনকে হত্যা করার অধিকার আমার নেই। এজন্য আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও মেয়েকে গর্ভে রেখে জন্ম দিয়েছি। ২০১১ সালের ২ সেপ্টেম্বর এফিয়া জন্ম নেয়।

দাঁড়াতেও পারে না সেতার মুখ দেখার আগেই আমার মা বলেছিলেন, তোমার মেয়ে দেখতে যেমনই হোক না কেন তাকে অবশ্যই মন থেকে ভালোবাসতে হবে। আমিও এক মা, আর মায়ের মন কেমন হয় তা একমাত্র মায়েরাই জানেন। আমার মেয়েকে দেখার পর থেকে যেন আজো অব্দি মনে হয় সে ছাড়া আমার প্রিয়জন আর কেউই নেই। একটু নড়লেই এফিয়ার হাড় ভেঙে যায়। তীব্র ব্যথায় কাতরায় মেয়েটি। আবারো ব্যান্ডেজে মোড়ানো হয় তাকে।

এভাবেই তার আট বছর পার হয়েছে। তবুও সে বসেই নাচতে, গাইতে এমনকি পড়ালেখা করতেও পছন্দ করে। তার চুল নিয়ে যেন জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। চুল বড় করার প্রচেষ্টা থাকে তার মধ্যে। এফিয়া নিজেই বলে, আমার চুল অনেক সুন্দর। আমি কখনো চুল কাটাই না। কারণ চুলগুলো আমার খুব পছন্দের। আমি নাচতেও অনেক পছন্দ করি। যদিও আমি হাঁটতে বা দাঁড়াতে পারিনা। অবশ্য আমি দাঁড়ানোর উপায় শিখছি।

বসে বসেই নাচ ও গান করে সেঅস্টিওজেনেসিস ইম্পারফেক্টা রোগটি আসলে কী?

একে ব্রিটল বোন ডিজিজও বলা হয়। এই রোগটি শরীরের হাড় কেন্দ্রিক। মানব শরীরের ভীতই হলো ২০৬টি হাড়। অস্টিওজেনেসিস ইম্পারফেক্টা ডিজিজে আক্রান্তদের হাড় স্বাভাবিকদের মতো বিকশিত হতে পারেনা। এটি জিনগত সমস্যা। হাড়ের বিকাশ ঘটতে শরীরে টাইপ ১ কোলেজেন ও প্রোটিন উপাদান আবশ্যকীয়। আর এই উপাদানগুলোই অস্টিওজেনেসিস ইম্পারফেক্টা ডিজিজে আক্রান্তদের শরীরে উৎপাদিত হয় না। আক্রান্তদের অনেকেই কানে না শোনা, হৃদরোগ বা মেরুদণ্ড বিকল সমস্যায় ভুগতে পারে। 

সূত্র: ঘানাওয়েবডটকম

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস