Alexa সন্তানের মুখ না দেখেই বিদায় নিলেন ছিদ্দিকুর

সন্তানের মুখ না দেখেই বিদায় নিলেন ছিদ্দিকুর

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১০ ১০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১০:১৫ ১০ অক্টোবর ২০১৯

ছিদ্দিকুর রহমান (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ছিদ্দিকুর রহমান (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

দরিদ্র পরিবারকে কিছুটা সচ্ছলতার মুখ দেখাতে এক বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান।

কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসছেন তিনি। তিন সন্তানের জনক ছিদ্দিকুরের এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার। তার মা-বাবার আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে কোনাবাড়ী গ্রামের। 

পারিবারিক সূত্র জানায়, ছিদ্দিকুর রহমান কোনাবাড়ীর আব্দুল জব্বারের ছেলে। ছয় ভাই, তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। গত বছর দুই কন্যা সন্তানের জনক হিসেবে দেশ ছাড়লেও গর্ভবতী স্ত্রী রোকসানা বেগম কিছুদিন পর আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ছোট সন্তানের মুখ আর দেখা হয়নি ছিদ্দিকুরের।

গত মঙ্গলবার সকালে তার সহকর্মী এরশাদুল্লাহ মালয়েশিয়া থেকে ফোন করে জানান, ছিদ্দিকুর রহমান মারা গেছেন।

তিনি পরিবারকে জানান, প্রতিদিনের মতোই ডিউটি শেষ করে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান ছিদ্দিকুর রহমান। সকালে ডিউটির সময় হয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সহকর্মীরা তার কক্ষে যান এবং তার নিথর দেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। 

গতকাল ছিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা-বাবা, ভাই-বোন ও শিশুসন্তানদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। স্ত্রী রোকসানা বেগম স্বামী হারানোর বেদনায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। 

ছিদ্দিকুরের ছোট ভাই আবুল বাশার জানান, ভাইয়ের লাশ দেশে আনার জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাউন্সিলর (শ্রম) বরাবর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক জনশক্তি অফিসসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে। দ্রুতই তার লাশ আনার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম/জেএস