Alexa সংসার সামলে ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে চাই: অবনী

সংসার সামলে ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে চাই: অবনী

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:২৮ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:০০ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘মিসেস বাংলাদেশ` প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন মুনজারিন মাহবুব অবনী

‘মিসেস বাংলাদেশ` প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন মুনজারিন মাহবুব অবনী

জন্ম, বেড়ে উঠা ঢাকায়। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করেছেন। ১২ বছর ধরে নৃত্যজগতের সঙ্গে আছেন। দেশে বিদেশে কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ রোববার দিবাগত রাতে মাথায় উঠে ‘মিসেস বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়নের মুকুট। বলছি মুনজারিন মাহবুব অবনীর কথা। মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ডেইলি বাংলাদেশর মুখোমুখি হন অবনী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নাজমুল আহসান

মিসেস বাংলাদেশের মুকুট জয় করলেন, অনুভূতি কেমন?
অনুভূতি অবশ্যই অনেক ভালো। সচরাচর আমাদের আশে পাশের দেশে অথবা ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে বিবাহিত নারীদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো এ ধরনের প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের নারীরাও এগিয়ে যাবে এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত হলে। খুবই ভালো লাগছে প্রথম আয়োজনেই বিজয়ী হতে পেরে।

মিসেস বাংলাদেশে জার্নি কেমন ছিল?
মিসেস বাংলাদেশ নামের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতার কথা জানতে পারি। সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা, সোশ্যাল ওয়ার্ক ও বুদ্ধিমত্তার দিকে নজর দিয়েছিলেন আয়োজক কমিটি। এরপর সব দিক ভেবেই রেজিস্ট্রেশন করি।  সেরা একশো জন বাছাই করা হয়, এরপর অডিশন রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে টপ ত্রিশ বাছাই করে গ্রুপ ডিসকাশনের ব্যবস্থা করা হয়। সেখান থেকে বাছাই করা সেরা বিশ জনকে ফটোশুট রাউন্ড, গ্রুমিং ক্লাস করানো হয়। এ  গ্রুমিং ক্লাস চলে টানা পনেরো দিন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ধাপে নতুন নতুন কাজ করানো হয়েছে। অবশেষে ফাইলান রাউন্ড অনুষ্ঠিত হলো। 

এ যাত্রায় পরিবার থেকে কার অনুপ্রেরণা বেশি ছিল?
পরিবার থেকে আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে এবং অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা রিহার্সেল করানো হতো। আমার ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে তাকে প্রতিদিন রেখে যেতে হতো। এই সময়ে আমার স্বামী সন্তানের যত্নে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেছে পাশাপাশি আমাকে সাহস দিয়েছেন এগিয়ে যাবার। 

আপনিতো এর আগেও বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন?
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ড্যান্স এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিলাম। ১২ বছর ধরে নৃত্যের সঙ্গে জড়িত আছি। তার বদৌলতে ১৯টি দেশে যাবার সুযোগ হয়েছে। সব সময় বিশ্বের দরবারে দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। চীনে অনুষ্ঠিত ২৭তম ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’ প্রতিযোগিতায় ‘মেসেনাট বিউটি’ নির্বাচিত হয়েছিলাম। একইসঙ্গে সেরা আটে ছিলাম। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলাম। সেই সুবাদে বেশ কিছু অ্যাওয়ার্ড জেতার সুযোগ হয়েছে। 

পূর্বে অংশ নেয়া প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা মিসেস বাংলাদেশ'র ক্ষেত্রে কতোটা সহযোগিতা করেছে?
প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন কিছু করার ক্ষেত্রে অনেকটাই সহযোগিতা করে। সব জায়াতেই নতুন কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। কোথায় কী দরকার, কোথায় আমি পুরোপুরি দিতে পারিনি, কী বাকি ছিল সেগুলো জানতে পেরেছি। সেই অভিজ্ঞতা মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। সবাই চায় তার পূর্বের ভুল সংশোধন করে নিজেকে এগিয়ে নিতে। আমি মিসেস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই সুযোগ পেয়েছিলাম। 

আপনিতো র‌্যাম্পে কাজ করেছেন, শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?
নাচের প্রোগ্রাম করার কারণেই র‌্যাম্পের অফার আসে। ২০১৪ সালের দিকে র‌্যাম্পে কাজ করা শুরু করি। দীপিকা পাড়ুকোন, সুস্মিতা সেন যখন ঢাকায় এসেছিল তখন একই মঞ্চে র‌্যাম্পে হাটার সুযোগ হয়েছে। এরপর বেশ কিছু ভালো ভালো ফ্যাশন শোয়ে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছে। দেশের কয়েকটি ফ্যাশন হাউজের ফটোশুট করা হয়েছে। গ্রামীণফোনের বিলবোর্ড ও টিভিসিতে কাজ করেছি। এরপর ২০১৭ সালে আমার বিয়ে হয় তখন থেকেই আবার অনিয়মিত। 

সামনে কি শোবিজে কাজ করবেন?
সামনে কাজ করার ইচ্ছা আছে, তবে বেছে বেছে। কমার্শিয়াল টাইপের কোনো কাজ নয়। সুন্দর গল্পের কিছু কাজ করতে চাই। আর আমি এখন একজন মা। সন্তান ও সংসার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংসার সামলে যতটুকু সময় পাবো ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে চাই। 

মিসেস ওয়ার্ল্ডের জন্য প্রস্তুতি কেমন নিচ্ছেন?
আমি আগে থেকেই জিম করছি, ডায়েট করছি। বাইরের অনান্য দেশের প্রতিযোগীদের মতো আমিও কোনো কিছুর কমতি রাখতে চাইনা। প্রতিটি কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে চাই। কারণ আমি আমার দেশকে বিশ্ব দরবারে রিপ্রেজেন্ট করতে যাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ