শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কারের নামে টাকা লোপাট

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুরডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৪ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৯ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

সংস্কারের নামে ২৫ কোটি টাকা লোপাটে রংপুরের শ্যামা সুন্দরী খাল নগরবাসীর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালের জীর্ণদশা, ময়লা, আবর্জনা ও দূষণে কালো হয়ে গেছে পানি। আবর্জনার স্তুপে বর্তমানে ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবাহ। দখল-দূষণে বিপর্যস্ত শ্যামা সুন্দরী খাল এখন মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

শ্যামা সুন্দরী খাল ঘিরে নির্মিত পার্কটিতে একসময় সবুজের সমারোহ দেখা গেলেও এখন তা বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়া ও খালটির সঙ্গে আশপাশের বাড়ি-ঘরের পয়ঃনিষ্কাশনের সংযোগ থাকায় দুর্গন্ধের কারণে পার্কের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কিলোমিটার শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার, খালের ওপর সেতু নির্মাণ ও খননের জন্য তৎকালীন রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান একেএম আব্দুর রউফ মানিক ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রকল্পিত মূল্যের কাজ ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। ওই সময়ে খালের কিছু অংশের দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ এবং খাল খনন ছাড়াই ৩টি সেতু নির্মাণ করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল তোলেন।

নগর ভবনের একটি সূত্র বলছে, দরপত্র অনুযায়ী শ্যামা সুন্দরী খালের ১২ কিলোমিটার জুড়ে দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ এবং খালের উপর ৩টি সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু সদর হাসপাতালের পেছন থেকে গোমস্তপাড়া হয়ে গ্রান্ড হোটেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার তিন কিলোমিটারে কোনো কাজই হয়নি। এ টাকা কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তৎকালীন এলজিইডি প্রকৌশলীরা। বিষয়টি ধাপাচাপা দিতে প্রকল্পটি রংপুর পৌরসভা থেকে রংপুর এলজিইডি কে সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয়।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে সে সময়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খানের ভাই ও কথিত এক সম্পাদক কাজ না করে এ টাকা আত্মসাত করেছেন।

সুপেয় পানি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এ দুটি কারণে ১৭শ’ শতকে শ্যামা সুন্দরী খাল খনন শুর হয়। ১৮৯০ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর ধরে জমিদার জানকী বল্লভ সেন খাল খনন কাজের সমাপ্তি করেন। সে সময় থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রংপুরের সৌন্দর্য বর্ধনে শ্যামা সুন্দরী খালের অন্যতম ভূমিকায় ছিল।

রংপুর সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক এস এম পিয়াল বলেন, শ্যামা সুন্দরী খাল এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা শুধু লুটপাট হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। অবৈধভাবে খাল দখল, স্থাপনা নির্মাণ প্রতিনিয়ত বাড়লেও কর্তৃপক্ষ নিরব। আগে শ্যামা সুন্দরী খালের প্রস্থ ছিল ১০০ ফুটের বেশি। কিন্তু এখন তা সর্বোচ্চ ৫২ ফুট। সংস্কারের সময় অবৈধ দখলমুক্ত না করায় এ খাল নালায় পরিণত হয়েছে। তারপরও যদি খালটি নির্দিষ্ট নিয়মে খনন করা হতো, তাহলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকত। 

রংপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশীদ বাবু বলেন, শ্যামা সুন্দরী খালটি খননেন জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তা লুটপাট হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, শ্যামা সুন্দরী খাল নিয়ে আমরা ৪শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। এতে খালের উপরে ফ্লাইওভার, ব্রিজ, পানির প্রবাহ ধরে রাখা, এর দুই পাড়ে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম