Alexa শুভসন্ধ্যা সৈকতে আজ জোছনা উৎসব

শুভসন্ধ্যা সৈকতে আজ জোছনা উৎসব

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ১২ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

রাতের আকাশ। কোথাও কোনো মেঘ নেই, ছায়া নেই। মস্ত বড় একটা চাঁদ উঠেছে। আকাশ থেকে জোছনা গলে গলে মাটিতে পড়ছে। চারদিক আলোয় ঝলমল করছে। এমন আবহে কার ভালো লাগবে না বলুন! আজ ১২ ডিসেম্বর বরগুনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় জোছনা উৎসব।

জেলায় নিয়মিত বাৎসরিক জোছনা উৎসবের নির্ধারিত তারিখ ছিল গত ১৩ নভেম্বর। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে আবহাওয়া প্রতিকূল ও অনেকটা আশংকাজনক হওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। ঠিক কোজাগরি পূর্ণিমা না পাওয়া গেলেও সেই বিশাল আয়োজন এবং ভ্রমণপিয়াসু জোছনাবিলাসী মানুষদের আশাহত না করতে আজ বরগুনার তালতলীতে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে হচ্ছে জোছনা উৎসব।

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এ উৎসবে যোগ করা হয়েছে নানান আয়োজন। বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী যেখানে সাগরে মিশেছে ঠিক সেখানে নবগঠিত তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের স্নিগ্ধ বেলাভূমি ‘শুভ সন্ধ্যার’ বিস্তীর্ণ বালুচরে এবারও ‘পঞ্চম জোছনা উৎসব’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসন।

একদিকে সাগরের সীমাহীন জলরাশি। আরেকদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। একদিকে দীর্ঘ ঝাউবন, আরেকদিকে তিন তিনটি বিশাল নদীর জলমোহনা। সবমিলিয়ে নদ-নদী আর বন-বনানীর এক অপরূপ সমাহার ‘শুভ সন্ধ্যার চর’! আজ চাঁদের আলোয় এখানেই জলজোছনায় একাকার হবে জোছনাবিলাসী হাজারো মানুষ। এ উৎসবকে ঘিরে এরইমধ্যে শুভ সন্ধ্যা সৈকতে বাহারি পণ্যের পসরা সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

শুভ সন্ধ্যা সৈকত

বরগুনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যায়। বরগুনার খাগদন নদী হয়ে বাইনচটকীর স্নিগ্ধ বনভূমির পাশ দিয়ে কুমীরমারা আর গোড়াপদ্মার নয়নাভিরাম বনবনানীর কোল ঘেষে বিকেল পাঁচটার দিকে লঞ্চ পোঁছবে শুভসন্ধার চরে। এরপর সেই স্নিগ্ধ বালুচরে শেষ বিকেলের ঘোরাঘুরির পর রাতভর জোছনার গান, রাখাইন নৃত্য, বাউল সঙ্গীত, মোহনীয় বাঁশির সুর, যাদু প্রদর্শনী, পুঁথীপাঠ এবং কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে জলজোছনায় অবগাহণ হবে সবার। গভীর রাত পর্যন্ত জোছনাস্নাত হয়ে রাত তিনটায় পুনরায় বরগুনার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়বে। সকাল ৬টার মধ্যেই লঞ্চ ভিড়বে বরগুনার ঘাটে।

বিশুদ্ধ খাবার পানির পাশাপাশি নারী ও পুরুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে। মূল স্টেজের পেছনেই থাকছে নারীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগার। স্টেজ থেকে একটু দক্ষিণে ঝাউবন ঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে নারী ও শিশুদের জন্য বিশ্রামাগার। থাকছে র‌্যাব ও পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চাঁদনী রাতে তিন নদীর জলমোহনায় ছোট ছোট ট্রলার ভাড়া করে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানোর জন্য থাকছে ভাড়ায় চালিত ট্রলারের সুব্যবস্থাও।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, বরগুনা জেলা থেকে নৌপথে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের দূরত্ব মাত্র ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার। বরগুনায় রয়েছে নয়নাভিরাম স্নিগ্ধ বনভূমী আশারচর, লালদিয়ারচর, হরিণঘাটার বন, টেংড়াগিরির বনভূমি এবং শুভসন্ধ্যার বীচ পয়েন্টসহ অনেক আকর্ষণীয় বনবনানী ও নদনদীর মোহনা। এসব বনাঞ্চলে রয়েছে হরিণ, বানর, শুকরসহ শতেক প্রজাতির প্রাণীবৈচিত্র। বরগুনার এসব আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা গেলে পর্যটন শিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এখানকার অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে