Alexa আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা!

আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা!

গাজীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:০৩ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৫ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

সরকারি পর্যায় থেকে আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা করার যে ডাক আসছে তাতে মাওলানা সা’দ পন্থীদের কোনো আপত্তি নেই বলে তারা জানান।

তারা বলেন, মুসলিম বিশ্বের চলমান পরিস্থিতিতে কোনো অনৈক্য কাম্য নয়। বরং দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তাবলিগ জামাতের ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা করার পক্ষে আমরা প্রস্তুত আছি।

এদিকে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু  হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার বাদ ফজর থেকে।  ৫৫তম আসরের এ পর্বকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথম পর্বের মতো এ পর্বেও সতর্ক নজরদারি ও সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি। 

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন শুক্রবার থাকায় ময়দানেই জুমার নামাজের জামাত হবে। এটিই এ বছরের জন্য বিশ্ব ইজতেমার শেষ জুমার নামাজের জামাত।

গত রোববার শেষ হওয়া ইজতেমার বর্জ্য অপসারণ করে ময়দানকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। দেশি-বিদেশি তাবলিগ সাথীরাও এরইমধ্যে আসতে শুরু করেছেন ময়দানে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, তাবলিগ সাথীরা নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন। 

সিটি করপোরেশনের টঙ্গী কঞ্জারভেন্সি শাখার প্রধান আরিফ হোসেন জানান, তাদের তিন শতাধিক পরিচ্ছন্নকর্মী সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা তিন দিন ইজতেমা ময়দানে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তাদেরকে দিয়ে ময়দানের টয়লেটগুলোও পরিষ্কার করানো হচ্ছে। এসব কাজ আয়োজকদের করার কথা থাকলেও তাদেরকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।

সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন বলেন, মেয়রের নির্দেশে আমরা রাত দিন চেষ্টা করে ময়দান আবার প্রস্তুত করছি। ভেকুর সাহয্যে ময়দানের কর্দমাক্ত জায়গায় বালু ফেলে সমতলকরণের কাজ শেষ করা হয়েছে এরইমধ্যে। এতে আমাদের সিটি করপোরেশনের কোনো লাভ না হলেও গুনাহ মাফ ও সওয়াবের আশায় আমরা কাজ করছি। আজ থেকে মুসল্লিরা ময়দানে সামিয়ানার নিচে অবস্থান নিয়ে বয়ান শুনতে কোনো অসুবিধা হবে না। 

বয়ান : ফজরের নামাজের পর থেকে ইজতেমা মাঠে ঈমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর বয়ান হবে।

নিরাপত্তা : গাজীপুর  মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রথম পর্বে চেয়ে ২য় পর্বে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের কামরায় বিশেষভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রাফিক ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।  

সিটি কর্পোরেশনের ২৪ ঘণ্টা সেবা: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমায়ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন আগত মুসল্লিদের ২৪ ঘণ্টা সেবাদান করবে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম পর্বে যেসব সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে তা দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায়ও অব্যাহত থাকবে। বিদেশি মুসল্লিদের প্রতি সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে যাতে তাদের কোনো প্রকার বিঘ্ন না ঘটে। তাদের অজু গোসলের জন্য রাখা হয়েছে গরম ও ঠান্ডা উভয় প্রকার পানির ব্যবস্থা। প্রথম পর্বের পর ইজতেমা মাঠের ভেতর কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও সিটি কর্পোরশেনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দিন রাত কাজ করে তা ব্যবহারের উপযোগী করে তোলেন ২য় পর্ব শুরুর আগেই।

বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা: প্রথম পর্বের মতো ২য় পর্বেও বিপুল পরিমাণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজতেমা মাঠে আগত মুসল্লিদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ বিতরণ করবে। বৃহস্পতিবার থেকেই তারা নিজ নিজ ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ, ইবনেসিনা, যমুনা ব্যাংক, সিটি কর্পোরেশন, র‌্যাব, সিভিল সার্জন কার্যালয়, ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান।

ইজতেমার  প্রথম আয়োজন শুরু হয় ১৯৪৬ সালে কাকরাইল মসজিদে। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজি ক্যাম্পে। ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকার ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অজু,গোসল ও পয়ঃনিস্কাশনের জন্য তিনতলা পাকা বিল্ডিং করে দিচ্ছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ