শুঁটকি মেলায় টাকার মূল্য নেই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৩ ১৫ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৮ ১৫ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কুলিকুন্ডা গ্রামে বিশাল মাঠ। সেই মাঠে পয়লা বৈশাখে বসে শুঁটকি মেলা। তবে এ মেলায় টাকার কোন মূল্য নেই। শুটকি কিনতে হয় যেকোন পণ্যের বিনিময়ে।

সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কৃষকসহ নানা প্রান্ত থেকে ক্রেতারা শুটকি ক্রয় করছেন। বিনিময়ে চাল, পেয়াজসহ নানা পণ্য বিক্রেতাকে দিচ্ছেন। এছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলের মানুষ উৎসবেও মেতে উঠেছেন।

স্থানীয় আলমাস আলী বলেন, শত বছরের ধরে এ মেলা পয়লা বৈশাখে হয়। তিনশত বছর ধরে এ মেলা হচ্ছে। মেলায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত  আলু, ডাল, সরিষা, পেঁয়াজ, কাঁচা আম, গম, রসুনসহ নানা জাতের পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি ক্রয় করেন। তবে এ মেলা সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত হয়। পরে অর্থের বিনিময়ে কিনতে হয়।

নতুন প্রজন্মের দর্শনার্থী এ্যামিলি জাহান বলেন, এ মেলার কথা অনেক আগে শুনেছি। তবে প্রথমবার মেলায় এসে উৎফুল্ল। কুলিকুন্ড গ্রামে না আসলে মেলার ব্যপকতা বুঝতে পারতাম না ।

ক্রেতা চৌধুরি সুমন বলেন, পুঁটি, বোয়াল, শোল, গজার, বাইম, টেংরাসহ নানা জাতের শুঁটকি পাওয়া যাচ্ছে। ১২ টাকা কেজি দরে শোল শুটকি ক্রয় করেছি। আরো কিনতে মেলায় ঘুরে দেখছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নন্দনপুরের ক্রেতা ইয়াকুব আলী বলেন, প্রতিবছরই এ মেলায় আসি। এবার মেলা থেকে বাইম, টেংরাসহ নানা জাতের শুঁটকি কিনেছি। দাম বড় বিষয় নয়। পছন্দের শুটকি কেনায় স্বস্তি। বেশ ভাল লাগছে।

এদিকে, মেলায় দোকানিরা নানা জাতের শুঁটকির মাধ্যমে পসরা সাজিয়েছেন। নরসিংদির শুটকি ব্যবসায়ী কানু দাস ও অমল দাস বলেন, মেলায় বোয়াল, শোল, গজার, বাইম, পুঁটি, টেংরাসহ নানা জাতের শুঁটকি বিক্রি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা পেয়েছি। মেলায় দেশি মাছের শুঁটকির প্রাধান্য বেশি। এছাড়া ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ডিমও বিক্রি হয়েছে।

নবনির্বাচিত নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফয়েজ চিশতি বলেন, আদিকালে কুলিকুন্ডা অঞ্চলে জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস ছিলো বেশি। অর্থের প্রচলন তেমন ছিলো না। সেসময় পণ্যের বিনিময়ে শুটকি কেনা-বেচা হতো। এখন পয়লা বৈশাখে এ মেলা হয়। পরের দিন পর্যন্ত চলে। আগামীতে এ মেলার ব্যাপকতা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

অন্যদিকে, প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন এ শুটকি মেলাকে কেন্দ্র করে বসেছে লৌকজ মেলা। মেলায় স্থানীয় কুমারদের হাতের তৈরি মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলস, ঝাঁঝর, থালা, ঘটি, বাটি, পুতুল ও প্রদীপসহ অন্যান্য সামগ্রী স্থান পেয়েছে। নাগরদোলায় মাতোয়ারা মেলায় আসা শিশুরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ