Alexa শীতে ঘোরার সেরা জায়গা: কুয়াকাটা

শীতে ঘোরার সেরা জায়গা: কুয়াকাটা

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৫০ ১২ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৪ ১২ নভেম্বর ২০১৯

কুয়াকাটা

কুয়াকাটা

শহর ছেড়ে প্রশান্তির জন্য যেতে পারেন সাগর তীরে। দেশে বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে, এরমধ্যে কুয়াকাটা একেবারেই ব্যতিক্রম। স্বকীয়তার কারণে কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগর কন্যা। কোলাহল মুক্ত, নেই মানুষের গাদাগাদি। আপন মনে নিজের মতো করে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আর লঞ্চে গেলে জার্নিটাও উপভোগ করতে পারবেন।

ঢাকা থেকে আমরা ছয়জন রওনা দিলাম সাগর কন্যার উদ্দেশ্যে। সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার পর সবাই গেলাম ছাদে। জোসনা রাতে লঞ্চের ছাদে বসে ভেসে ভেসে যাচ্ছি এগিয়ে। সে এক অন্য রকম অনুভূতি। জোসনার আলো যেন ঢেলে পড়ছে। আর নদীর পানি চিক চিক করছে। হিমেল হাওয়ায় জমে উঠল আড্ডা। ভোর চারটায় পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে নেমে অটোতে করে বাস স্ট্যান্ড গেলাম। সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা। নেমেই বন্ধুদের কেউ কেউ বলছিল পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মতো হবে হয়তো! কয়েকটা হোটেল দেখে ওয়েস্টার্ন হোটেলে চার বেডের একটা রুম নিলাম। হোটেলটা বিচ থেকে খুবই কাছে।

বিকেলে সৈকতে গেলাম। সাগরের উত্তাল ঢেউ ও গর্জনে পার্থিব সবকিছু ভুলে অসাধারণ অনুভূতি কাজ করলো। কক্সবাজারের মতো এখানে ফুটবল খেলা নিয়ে কোনো ‘ঝামেলা’ নেই। বেশি ভালো লেগেছে কুয়াকাটায় মানুষ গিজগিজ করে না। আর যে বিষয়টি উল্লেখ্য, কক্সবাজারের সমুদ্রের পানি অনেক নোনতা; যার ফলে কিছুক্ষণ পানিতে লাফালাফি করলেই চোখ-নাক জ্বলে। কিন্তু কুয়াকাটার পানিতে লবন অনেক কম। আমরা প্রায় তিন ঘণ্টা পানিতে ছিলাম। এদিন সন্ধ্যা আর রাত সৈকত-মার্কেটে কাটিয়ে দিলাম।

কুয়াকাটা ঘোরার জন্য মোটর সাইকেল সবচেয়ে ভালো মাধ্যম

কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আমরা সেখানে গিয়ে পরদিন ভোরবেলা গিয়ে উপভোগ করলাম সূর্যোদয়। দৃশ্যটি এতটাই সুন্দর ছিল, লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না! এরপর বাইক ভাড়া করলাম অন্যান্য জায়গাগুলো ঘোরার জন্য।

প্রথমেই গেলাম রাখাইন পল্লী। যার মুখেই আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির আছে; যেখানে ৩৬ ফুট লম্বা একটি মূর্তি আছে। রাখাইন পল্লীটা অনেক ব্যাতিক্রম ও চমৎকার লেগেছে। ওদের ঘর বাড়ি, জীবনযাপন সত্যিই অন্যরকম মনে হলো। বাড়ির আঙিনা ছোট ছোট গাছে ভরা, টিনের দোতলা ঘর, ঘরের সামনে ওদের বানানো জামা কাপড়ের দোকান ইত্যাদি। সেখান থেকে গেলাম ঝাউবন সংলগ্ন কুয়াকাটার শেষভাগে। যেখানে গিয়ে মনে হলো, আমি সেন্টমার্টিন আছি! সৈকত পাড় পুরোটা ঝাউ গাছে ভরা, আরেক পাশে কিছুটা নিস্তব্ধ সাগর। ভাগ্য ভালো হলে চোখে পড়বে লাল কাঁকড়ার ঝাঁক।

ঝাউবন থেকে একটু এগিয়ে গেলেই বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও এক পাশের সমুদ্র আপনাকে মুগ্ধ করবেই। হয়তো মনের অজান্তেই গাইতে থাকবেন- ‘এই পথ যদি না শেষ হয়...।’ সেখান থেকে ছোট একটা নদী পার হলেই গঙ্গামতীর চর। সেখানেও এক পাশে সাগর, আরেক পাশে বিচিত্র রকমের গাছ। এরপর গেলাম লেবুর চর ও তিন নদীর মোহনা। তিন নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে ফাতরার চর দেখা যায়; যেটি সুন্দরবনের একটি অংশ। শীতকালে কুয়াকাটা বীচ থেকে বোটে করে সেখানে যাওয়া যায়।

লাল কাকড়া

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি  দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক বাসে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় যেতে পারবেন। ভাড়া ৫০০-৫৫০, সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘণ্টা।

খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছাড়ে। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘণ্টা। আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে আসতে পারবেন। রাতের ট্রেনে আসলে সকাল ৭ টার বিআরটিসি বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবিনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে বাসে কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারবেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চগুলো বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ছেড়ে দেয়।

কুয়াকাটার সূর্যাস্ত

থাকার ব্যবস্থা

কুয়াকাটায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। ভালো মানের হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে- হোটেল নীলঞ্জনা, হোটেল বি-ভিউ, হোটেল গোল্ডেন প্যারেজ, হোটেল বীচ-ভেলী, হোটেল ফ্যামিলী হোমস, কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজ, হোটেল সাগর কন্যা, হোটেল আল হেরা, হোটেল আকন, হোটেল সি-গার্ডেন ও হোটেল স্মৃতি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে/টিআরএইচ