Alexa শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে অগ্রগতি অব্যাহত বাংলাদেশের

শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে অগ্রগতি অব্যাহত বাংলাদেশের

প্রকাশিত: ১৫:৩৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

দৃশ্যত পরিচয়ে সাহাদাৎ রানাকে সাংবাদিক হিসেবেই চেনে সবাই। তবে শুধু সাংবাদিক তিনি নন। গল্প, কবিতা লেখা, সাংগঠনিক দক্ষতাসহ তার রয়েছে নানা গুণ। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজে কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এই সাংবাদিক।

কিছু খবর কিছু সময় আড়ালে চলে যায়। আড়ালে চলে যাওয়ার কারণে সেটা নিয়ে মাতামাতিও হয় কম। তেমনই একটি খবর হলো শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। 

কিন্তু সম্প্রতি এমন ভালো খবর সেভাবে চোখে পড়েনি। অনেকে নিউজ করলেও এ বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে কম। তবে এটা নিয়ে আরো আলোচনা হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ বিষয়ে আগ্রগতি আমাদের জন্য বিশেষ খবর। এর আগে দীর্ঘদিন আমাদের দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার অনেক বেশি ছিল। সরকারের নানামূখি ইতিবাচক কর্মসূচির কারণে আজ আমাদের এই অর্জন। শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০০০ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শিশুমৃত্যু প্রায় অর্ধেক এবং মাতৃমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই আনন্দের খবর। কেননা, এমন একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার ছিল অনেক বেশি। তবে আমরা সেই কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি। এখন প্রায় প্রতি বছরই শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমছে। এটা আমাদের জন্য স্বস্তির খবরও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনই এর প্রমাণপত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এবার বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বিশেষ অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পাওয়া অন্য দেশগুলো হল- বেলারুশ, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, মালাউই, মরক্কো, মঙ্গোলিয়া, রুয়ান্ডা, পূর্ব তিমুর ও জাম্বিয়া। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে কিছু অস্বস্তির খবরও রয়েছে। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমলেও নতুন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে বিশ্বব্যাপী বৈষম্য রয়েছে। এখনও কিছু অঞ্চলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে অনেক দেশ। সেখানে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর তুলনায় নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার প্রায় ৫০ গুণ বেশি। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। বাংলাদেশে এখন মাতৃমৃত্যুর হার অনেকটা কমেছে। সবার কাছে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় উদাহরণ। 

এর আগে আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশ ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৬৩ শতাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এটাও আমাদের জন্য ইতিবাচক খবর। আরও ইতিবাচক খবর গত দুই দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই শিশুর মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সব থেকে সফল দেশ। এমন তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেন এর প্রতিবেদনে। এটাও আমাদের জন্য আনন্দের খবর। কারণ এক সময় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ছিল নিত্য দিনের। তবে সেই সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন এ বিষয়ে আমাদের সাফল্য অনেক। এমন সাফল্যের ঘটনায় আমাদের দায়িত্ব ও কাজ বেড়ে গেলো। প্রথতম আমাদের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি সাফল্যের হারও বাড়াতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হারও। 

শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া চিকিৎসা সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার কারণে শিশু মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দেশে নারীশিক্ষা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুমৃত্যুর হারও কমে এসেছে। কারণ এতে মা শিক্ষিত হওয়ায় তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন বিষয়টি তার শিশুর জন্য ভাল সেটা বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন তিনি। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে হাতে নাতে। মা সচেতন হয়ে দ্রুত শিশুর জন্য করণীয় কি, তা ঠিক করতে পারছেন। 

এছাড়া এক্ষেত্রে সরকারের রয়েছে বড় ধরণের সাফল্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও প্রশংসনীয়। এখন সব হাসপাতালের পাশাপাশি এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে দেশের অসংখ্য কমিউনিটি হাসপাতালগুলো। আগে অজ্ঞতার কারণে মানুষ জানতো না নতুন জন্ম নেয়া শিশুর যথাযথ চিকিৎসার জন্য তাদের কোথায় নেয়া প্রয়োজন। এখন এই বিষয়ে সরকার ব্যাপকভাবে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন মানুষ সচেতন হওয়ার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও খুব সহজেই কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে পারছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রতিবেদন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের তেমনি এক দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জও। কারণ সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শিশুমৃত্যু প্রায় অর্ধেক এবং মাতৃমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এখন শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার আরও কমিয়ে আনার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি নিতে হবে। বিশেষ করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এখন যেসব জায়গার মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি সেখানে যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যেসব মানুষ সেভাবে সচেতন হননি তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। এর ফলে উপকৃত হবে দেশ, সর্বোপুরি দেশের জনগণ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর