Alexa শিলপাটা ধার কাটিয়েই চলে সংসার

শিলপাটা ধার কাটিয়েই চলে সংসার

মো. মোশারফ হোসেন, নকলা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২২ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

পাটা খোদাই করছেন শফিকুল ইসলাম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাটা খোদাই করছেন শফিকুল ইসলাম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শেরপুরের নকলার চন্দ্রকোনা ইউপির রামপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে শিলপাটা ধার কাটানোর কাজ করে আসছেন। এতে যা আয় আসে তা দিয়েই চলে তার সংসার।

শফিকুল পাটাতে খোদাই করে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন মাছ, ফুল-ফল ও প্রাণির চিত্র। যা যেকোনো মানুষকে আকৃষ্ট করে। তাই কেউ কেউ তাকে চিত্রশিল্পী বলেও ডাকেন।

বর্তমানে তিনি নকলা পৌর বাজারের তাপস বণিকের দোকানে চুক্তিতে এ কাজ করছেন। তার সংসারে রয়েছেন মা-বাবা, তিন ছেলে ও এক মেয়ে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সাল থেকে এ পেশায় নিয়োজিত। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি পাটা ধার কাটতে পারি। এতে ৮শ’ থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তা দিয়েই ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচসহ সংসারের অন্যান্য ব্যয় বহন করি।

খোদাই করে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন মাছ, ফুল-ফল ও প্রাণির চিত্র। ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, মাসিক আয় হওয়ার কথা ২২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু মাসব্যাপী কাজ না থাকায় মাসিক আয় হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

শফিকুল বলেন, আয়ের লক্ষ্যে ও কাজের প্রয়োজনে দেশের প্রায় সব জেলা ঘোরার সুযোগ হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। মানুষের মুখরোচক খাবার তৈরিতে সহায়তা করলেও আমার জীবনমানের রুচির কোনো প্রকার পরিবর্তন ঘটাতে পারিনি। তবে এতে কোনো দুঃখ নেই, যদি আল্লাহ সুস্থ রাখেন এ কাজ করেই বাকি জীবন কাটাবো।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল, আলম, জমিলা বিবি, জোসনা বেগমসহ অনেকে জানান, আধুনিকতা ও যান্ত্রিকতার দাপটে গৃহস্থালি আগেকার বিভিন্ন আসবাবপত্রের বিলুপ্তি ঘটলেও শিলপাটা বিলুপ্তির কোনো সুযোগ নেই। এটি আজীবন থাকবে।

তারা জানান, প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর শিলপাটা কাটাতে হয়। নাহলে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, হলুদ, আদাসহ মুখরোচক বিভিন্ন মসলা পিষতে কষ্টকর হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর