Alexa শিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষার্থীরা সবকিছুই পাবে: নোবিপ্রবি ভিসি 

শিক্ষা ও গবেষণায় শিক্ষার্থীরা সবকিছুই পাবে: নোবিপ্রবি ভিসি 

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৮ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

২০০৬ সালের ২২ জুন প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বর্তমানে সাত হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আছেন তিন শতাধিক শিক্ষক ও ৪ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। আরো আছে ৬টি অনুষদ, ২টি ইনস্টিটিউট ও ২৮টি বিভাগ। সম্প্রতি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভিসি প্রফেসর ড. দিদার-উল-আলম এর সঙ্গে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন পাঠান। 

ভিসি পদে দায়িত্ব নেয়ার পর কোন বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন?
-শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামোর প্রতি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করা। এছাড়া নতুন যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো বন্ধ হয়েছিল এগুলোর গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরেও ওয়াইফাই চালু হয়নি, ওয়াইফাই চালুর সম্ভাবনা আছে কি?
-আগামী ২ মাসের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াইফাই সার্ভিস চালু হবে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে। শিক্ষার্থীরা সুবিধামতো ওয়াইফাই চালাতে পারবে। 

দায়িত্ব পালনের পর নোবিপ্রবিকে কতটা গবেষণামুখী করতে পেরেছেন?
-বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণমুখী করার চেষ্টা করছি। সম্প্রতি ৯০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা বাজেট দেয়া হয়েছে। 

গবেষণা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে কিনা?
-গবেষণার খাতে এখন প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আছে। প্রতিটি গবেষণার প্রজেক্ট অনুযায়ী ইউজিসি থেকে বরাদ্দ আসে।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
-আগামী জানুয়ারি মাসে আব্দুল মালেক উকিল হল চালু হবে। দুই মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল চালু হবে সেই সঙ্গে খাদিজা হলের ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধু হলে উঠানো হবে। খাদিজা হল ছাত্রদের দেয়া হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা থেকে ১ ঘন্টা পর পর বাস ছাড়লেও ৩টায় বাস ছাড়া হয় না। এতে অনেক শিক্ষার্থী ভাড়া দিয়ে যেতে হয় এ সমস্যা সমাধান কোনো করণীয় আছে কি?
-তিনটায় বাস নেই, আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানতাম না এখন জানলাম, খুব শিগগিরই পরিবহন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনটায় বাস চালু করা হবে।

সম্প্রতি ক্যাম্পাসে নোয়াখালীর কৃতি সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন এর স্মৃতি রক্ষার দাবি উঠেছিল। বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি আছে কি?
-বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নাম হবে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন গ্রন্থাগার। এটা আগামী রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে নিশ্চিত করা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফটকে সিসিটিভি ক্যামেরা নাই এ ব্যাপারে কবে ব্যাবস্থা নিবেন? 
-বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হওয়ার সঙ্গে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও সিসিটিভি ক্যামেরার অন্তর্ভুক্ত হবে। বর্তমানে বঙ্গমাতা হল সিসিটিভির আওতাভুক্ত আছে বাকি হলগুলো চালু হওয়ার সঙ্গেই সিসিটিভির আওতাধীন করা হবে। 

শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্যাফেটেরিয়া যথেষ্ট নয় এক্ষেত্রে আরো ক্যাফেটেরিয়া ও সঙ্গে ভর্তুকি প্রয়োজন এ ব্যাপারে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?
-বর্তমানে যে ক্যাফেটেরিয়া আছে এটাকে সংস্কার করা হবে। সঙ্গে আরেকটা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া হবে। কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার কাজ চলছে।

নতুন কোনো বিভাগ খোলা হচ্ছে কিনা?
-পদার্থ, রসায়ন, গণিত, প্রাণীবিদ্যা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জন্য আবেদন করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এসব বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে কোনো চাপ বা প্রভাবের মুখে পড়ছেন কিনা?
-এখন পর্যন্ত কোনে চাপ আসেনি তবে কোনো রিকুয়েস্ট আসলে সেটা আমরা সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করি কিন্তু কারো চাপ নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেইনি। 

নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছেন কি?
-শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আগের থেকেই আছে তবে এটাকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছি। 

শিক্ষার্থীদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?
-সবাই অন্তত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি পর্যন্ত ভালোভাবে পড়াশোনা করবে বিশেষ করে ছেলেরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে মেয়েদের থেকে অনেক পিছিয়ে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে প্রথম সারিতে ছেলেদের নাম খুবই কম। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যা চাইবে আমরা তা দিবো। যদি কেউ অপরাধমূলক কাজ করে সেটার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
-বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সুন্দরভাবে চলবে সবকিছু পাবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা যে কোনো পরিকল্পনা নিতে প্রস্তুত। প্রত্যেকটি বিভাগের সঙ্গে আমরা খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণামুখী করে তোলাই হচ্ছে আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম