শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে কাজ করছি: বাকৃবি উপাচার্য

শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে কাজ করছি: বাকৃবি উপাচার্য

বাকৃবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:১২ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান

বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২৪তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আবুল বাশার মিরাজ

ক্যাম্পাস হবে শিক্ষার্থীবান্ধব

শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস তৈরিতে কাজ করছি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি। এমন কিছু উদ্যোগ নিচ্ছি যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও অনুসরণ করতে পারে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলেমিশে নিবিড় পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে করবে। আমি চাই প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর সংশ্লিষ্ট হলগুলোতে সবসময় খোঁজ খবর নিবেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তাদের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাবে। শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যায়, আর আমি সেই কাজটিই করতে চাই। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। 

স্বাস্থ্যবীমার আওয়াতায় আনা হবে সবাইকে

সব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য-বীমার আওতায় আনা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ৫০ ভাগ খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। আগামী বছর থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ২০ টাকা নেয়া হবে। এই সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করে একটি ফান্ড গঠন করবো। একই সময়ে একজন শিক্ষার্থী ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ বহন করা হবে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া না গেলে শিক্ষার্থীরা ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর, প্রভোস্টসহ যে কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণে আলাদা ফান্ড গঠন করা হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কর্নার স্থাপনের জন্য কাজ করছি।

মাদক ও র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস তৈরি করতে চাই

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের অংশগ্রহণে মাদক, গেস্টরুম, র‌্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করা হবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগে কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি করা হবে না। 

যুগপোযোগী কোর্স ক্রেডিট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ১২০-১৩০ ক্রেডিটের বেশি পড়ানো হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্নাতক পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১৮০-১৯০ ক্রেডিট পড়তে হয়। এতে প্রতি সেমিস্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা সেমিস্টার শেষ করতে সময় পান না। সেমিস্টার শেষে যথেষ্ট ছুটি থাকে না। এমনকি পড়াশোনায় বেশি চাপ এবং যথেষ্ট ছুটি না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। তাই র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের প্রথম দিকের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমতা রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের মোট কোর্স ক্রেডিট কমানোর জন্য চেষ্টা করছি। কোর্স ক্রেডিটকে কমিয়ে আধুনিকায়ন করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু অনেক সময় শিক্ষকরা তাদের বিষয়ভিত্তিক কোর্স ক্রেডিট কমাতে চান না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে যুগপোযোগী কোর্স ক্রেডিট ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করছি।

নিরাপত্তার চাদরে পুরো ক্যাম্পাস

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা প্রতিটি হলে সিসিটিভি লাগিয়েছি। এছাড়াও আমাদের ক্যাম্পাসের প্রায় সব জায়গায় সিসিটিভি রয়েছে। হলগুলোতে আগের চেয়ে বেশি মনিটরিং চালু করা হয়েছে। আমরা প্রভোস্ট, হাউজটিউটর মহোদয়দেরকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছি। 

ক্যাম্পাসে আলাদা বায়োডাইভার্সিটি কেন্দ্র 

আমাদের ক্যাম্পাসটি পুরোটিই সবুজে আচ্ছাদিত। কেবল ময়মনসিংহবাসী নয়, যারাই এ ক্যাম্পাসে এসেছে তারাই দেখে মুগ্ধ হয়েছে। ক্যাম্পাসটিকে নিয়ে আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা আছে। সেভাবেই এগোচ্ছি। এ  বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বায়োডাইভার্সিটি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। এটি তৈরির জন্য এরইমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি ও ফসল ব্যবস্থাপনার পদ্ধতির পরির্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তালমিলিয়ে কৃষি উন্নয়ন এবং ফসল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরলস গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম