শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অব্যাহত রাখা উচিত ডাকসু নির্বাচন

শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অব্যাহত রাখা উচিত ডাকসু নির্বাচন

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৩২ ৩১ মার্চ ২০২০  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)

দীর্ঘ ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হয়। ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া কেন্দ্রীয় সংসদের অন্য ২৩টি পদে জয়লাভ করে ছাত্রলীগ প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ছাত্রলীগের বাইরে অন্য দুটি পদে জয়ীরা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ প্যানেলের। নির্বাচিতরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৩ মার্চ ২০১৯। দীর্ঘ সময় পরে ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আবহাওয়া থেকে রাতারাতি পাল্টে ফেলা কষ্টসাধ্য হওয়ার পরও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ শুরু করে বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যরা। 

স্থিতিশীল অবস্থান তৈরি করে আবারো ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা চেয়েছেন ডাকসু প্রতিনিধিরা। ঢাবি প্রশাসনকে আহবান করেছেন তারা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রক্রিয়াশীল প্রগতিশীল সব সংগঠনও ডাকসু সচল রাখার পক্ষে। 

উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও মনে করেন, বিগত ২৯ বছরের তুলনায় ডাকসু থাকায় এই সদ্য বিদায়ী বছরে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিবেশ অনেকটাই তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেতন হতে পারছে তাদের নিজেদের বিষয়ে। ভিন্ন দলের লোকদের নিজস্ব রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা, নানা উদ্যোগ, তৎপরতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের পক্ষে কণ্ঠ উঁচু করে কথা বলতে পারছে নিজের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় হলেই আওয়াজ তুলতে পারছে। 

নির্বাচিত সম্পাদকদের কাজের বিবৃতি :

গত এক বছরে ডাকসু ও হল সংসদগুলোর বেশকিছু ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সাড়া ফেলেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো– মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রত্যেক হলে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন, উন্নত দেশের আদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন, হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা যাতে সুপেয় পানি পান করতে পারে তার জন্য ফিল্টার স্থাপন, অ্যাপভিত্তিক জো-বাইক সেবা চালু, অ্যাকাডেমিক বিভিন্ন পরীক্ষার ফি কমানো, নিত্য চলমান কয়েকটি বিভাগের সেশনজট নিরসনে পদক্ষেপ, নারীদের জন্য সাইকেল প্রশিক্ষণ, তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে আইটি ফেস্ট করা, প্রত্যেক হলে ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতা করে পরে সেখান থেকে বাছাই করে চ্যাম্পিয়নশিপ ও সার্টিফিকেট প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় চলাচলের জন্য রিক্সা ভাড়া নির্ধারণ করা, নিজস্ব উদ্যোগে সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ ও বইমেলার আয়োজন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬টি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান, যাতে অংশগ্রহণ করে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। 

ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা  নিয়ে একটি বই সম্পাদনা, প্রত্যেক আবাসিক (১৮টি) হলে মুক্তিযুদ্ধের আর্কাইভ তৈরি, বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন এবং প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত ১০০জন অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন তিনি। 

সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন জানান, ৭টি প্রকাশনা, সংক্ষিপ্ত বঙ্গবন্ধু বইমেলা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলা আয়োজন, বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অতিথি রেখে সিরিজ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছে। 

সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র টিএসসি। এখানে চলমান সংগঠনগুলোর সার্বিক প্রয়োজনে সহযোগিতা চাওয়া মাত্রই এগিয়ে এসেছি। 

ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ তানভীর বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি ইভেন্টের আয়োজন করেছি। এছাড়াও ২৮ বছর পূর্বে ডাকসুর উদ্যোগে যেই ক্রীড়া সাময়িকীটি বের হতো সেটি বের করার জন্য কাজ চলমান রয়েছে। 

কাজের কথা জানিয়ে আর্ন্তজাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্নি বলেন, আর্ন্তজাতিক সম্পাদকের পদটি এর আগে ছিলো না তাই পূর্ব কাজের কারও অভিজ্ঞতা নিতে পারিনি। এরপরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে সভা-সেমিনারের আয়োজন করা, ভিন্নধর্মী ‘ডিইউ থিংক’ নামের প্রোগ্রাম আয়োজন করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা উপস্থাপন করেন, একইরকম চারটি ভিন্ন প্রোগ্রামেরও আয়োজন করি। এছাড়াও, ‘ডাকসু ল' পলিটিকস রিভিউ’ নামে একটি নতুন জার্নাল প্রকাশ করেছি, একইনামে ইন্টারনেটে একটি ব্লগও চালু করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বহির্বিশ্বের শিক্ষার্থীরাও সেখানে লিখতে পারবেন।

কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএমলিপি আক্তার ডাকসু ভবনস্থ কলাভবন ক্যাফেরিয়ার খাবার মানের উন্নয়ন, হলগুলোতে খাবারের মূল্য নির্ধারণ, কার্জন এবং মোকাররম ভবনে ক্যান্টিন চালুর উদ্যোগ, কলাভবনের ছাত্রীদের কমনরুমের সার্বিক সংস্কার, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করেছি। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী বলেন, অনলাইনে ফলাফল দেখারসহ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বরপত্র (মার্কশিট) ও মূল্যায়নপত্রের (সার্টিফিকেট) আবেদন অনলাইনে নিয়ে আসা, কয়েকটি হলে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ার্নেসের কর্মশালা, আউটসোর্সিং বিষয়ে কর্মশালা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন ইত্যাদি কাজ করেছি। 

ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক সেবা জো-বাইক চালু, শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী রমজান মাসে বাস ট্রিপ না কমিয়ে যথানিয়মে চালু রাখা। বাসের সেবা সহজে পেতে 'লালবাস' অ্যাপস চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। ক্যাম্পাসের রাস্তাগুলোতে যানজট নিরসনে কাজ চলমান।

সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন জানান, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান, নবীন শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে কর্মসূচি, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষে কাজ, ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ফার্স্ট এইড প্রোগ্রাম করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম