শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ নিয়ে যা বললেন জবি উপাচার্য

শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ নিয়ে যা বললেন জবি উপাচার্য

জবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:২৭ ৪ মে ২০২০  

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

করোনার থাবায় বিপাকে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরাও। হল না থাকায় মেসেই শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়। আর শিক্ষার্থীদের এসব খরচ চলে টিউশনির টাকা দিয়েই। 

কিন্তু লকডাউন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে টিউশনিও বন্ধ হয়ে গেছে। একদিকে টিউশনি বন্ধ ও অন্যদিকে মেস মালিকদের ভাড়ার জন্য চাপাচাপিতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

সম্প্রতি জবি শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়ি ভাড়া মওকুফের জন্য ফেসবুক গ্রুপ খুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে মুঠোফোনে নানান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আহসান জোবায়ের।

আপনি তো জানেন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা মেসে থাকে, এই ব্যাপারে কথা বলার জন্যই কল দিলাম।

-আমাদের যে টোটাল ছাত্র সংখ্যা সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা মেসে থাকে তাদের সমান। অতএব আমাদের ছাত্ররা শুধু মেসে থাকে এটা না। আমাদের শুধু হল নেই তাই সবাই মেসে থাকে, কিছু বাড়িতে থাকে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ হাজার ছাত্র অর্ধেক হলে থাকে আর অর্ধেক মেসে থাকে। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে থাকা ছাত্রের সংখ্যা আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের টোটাল ছাত্রের সংখ্যা সমান।

কিন্তু স্যার আমরা তো তাদের তুলনায় অধিক অবহেলিত।

-এ কথা বললে তো তারাও অবহেলিত। আমি তোমাকে জাস্ট জিনিসটা জানাইলাম, ধারণা দিলাম তোমাকে, এই আর কি। এবার আসল কথা বলো, কি জানতে চাও?

স্যার, একটা বিষয় জানাতে চাই যে, যশোরে এরইমধ্যে মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের ৬০% ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে।

-তাহলে তো ঢাকার জেলা প্রশাসনও দিবে হয়তো!

স্যার, জেলা প্রশাসন তো দিবে বুঝলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আপনার কিছু কর্তব্য তো রয়েছে।

-আরে বাবা, এখন তো মেসভাড়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। আর মেসে এখন কেউ নাইও। মেস ভাড়া দিতে তো আমরা নিষেধ করেই দিয়েছি। এরপরেও কেউ মেস ভাড়া চাইলে আমাদেরকে জানাবে। আমরা পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নিবো। যখন স্বাভাবিক অবস্থা হবে, তখন বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। ঠিকাছে?

আচ্ছা স্যার।

-এখন মেসভাড়া সমস্যা না, আমি মনে করি। বেঁচে থাকাটাই আসল সমস্যা। যারা খাবার পাচ্ছে না বা আর্থিক সমস্যায় আছে এরকম প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে হেল্প করেছি। নিজে টাকা পাঠাইছি অথবা ইউএনও, টিএনও এবং পুলিশকে বলেছি তারা খাবার পৌঁছিয়ে দিয়েছে। এটা হলো আপাতত সংকট। মেসভাড়া নিয়ে যদি তোমাকে কেউ বিরক্ত করে আমাকে ঠিকানা দেও আমি পুলিশ পাঠিয়ে ওই মালিককে বলাইয়া দেই যে মেসভাড়া এখন দিতে পারবে না এবং চাওয়ারও সুযোগ নেই। ক্লিয়ার?

জ্বি স্যার,ক্লিয়ার।

-আর মেসভাড়া নিয়ে যেটা হবে সেটা ঢাকা ভার্সিটিসহ অন্যান্য ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের যা হবে তোমার জন্যও তাই হবে। ওকে?

ঢাকা ভার্সিটির যেটা আমাদের জন্যও সেটা স্যার?

-যশোরে এরকম করতে পারলে আমাদের জন্য করতে পারবে না ক্যান? সরকার সে ব্যবস্থা নিবে। মেস তো ব্যক্তি মালিকানাধীন। এক্ষেত্রে তাদেরকে আমরা কি করতে পারি? আমাদের পক্ষে তো অর্ডার দেয়া সম্ভব না। সরকার এটার ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা রিকুয়েস্ট করতে পারি সর্বোচ্চ। পরিস্থিতি শেষ হলে আমরা সেটা নিয়েও কথা বলবো। আর এই সমস্যা তো পুরা বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে। এই মেসের সমস্যাগুলো। তাই না?

জ্বি স্যার

-তাহলে ব্যক্তি মালিকানায় আমরা অনুরোধ করতে পারি যে, যারা দরিদ্র তাদের ভাড়াটা মওকুফ করেন। কিন্তু সরকার নিষেধ করতে পারে, আমরা পারি না।

স্যার কিন্ত ‘সেমিস্টার ফি’ এর দিক দিয়েও তো কিছু পদক্ষেপ আপনারা নিতে পারেন।

-এখন তো কেউ সেমিস্টার ফি দিচ্ছে না। যখন সময় আসবে, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিবো। আমি এখন বলতেছি, সবাই নিরাপদে থাকুক। আমাদের কোনো ছাত্র আটকা পড়ে আছে, খাবার পাচ্ছে না এমন কিছু হলে আমাকে জানিও। বুঝতে পারছো?

অবশ্যই স্যার

-কবে এ পরিস্থিতি দূর হবে সেটা নিয়েও কেউ শিওর না। তাই আপাতত এখন যদি আমাদের কেউ অসুস্থ বা সংকটে পড়ে এটা সমাধান করাই আমাদের উদ্দেশ্য। মেস ভাড়া, সেমিস্টার ফি এগুলো নিয়ে ক্যাম্পাস খোলার পরে আলোচনা করা যাবে। সরকারের সঙ্গেও করা যাবে আর আমাদের কিছু নিজস্ব ফান্ড, শিক্ষক সমিতির এক দিনের বেতন, আমাদের যেসব অভ্যন্তরীণ প্রোগ্রামে ছাত্রদের একবেলা খাওয়ানোর ১৫০/২০০ ছাত্রের তালিকা আছে সেগুলা হয়তো আরও বড় করবো এরকম আরও অনেক প্ল্যান রয়েছে। কিন্তু এখন যেটা অপ্রয়োজনীয় সেটা নিয়ে আলোচনা করা বা ঘাটাঘাটি করার মোটেও দরকার নেই। আর মেসের ভাড়া এটা সেটা কেউ চাচ্ছেও না। যদি চায় আমাদেরকে জানাও, আমি প্রক্টরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিবো। পুরো জাতির যা হয় আমাদেরও তাই হবে। ওকে?

জ্বি,স্যার। আসসালামু আলাইকুম। ভালো থাকবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম