শিক্ষকের অবহেলায় দৃষ্টি হারালো দুই শিক্ষার্থী

শিক্ষকের অবহেলায় দৃষ্টি হারালো দুই শিক্ষার্থী

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে দৃষ্টি হারিয়েছে একই স্কুলের দুই শিশু শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুরের মালীপাড়া গ্রামীণ একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এ বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে বিচার চাইতে সাহস পাচ্ছেন না ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার।

শিক্ষকদের অবহেলায় দৃষ্টি হারানো দুই শিক্ষার্থী উপজেলার মালীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম এবং রামচন্দ্রপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সোহান।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শাহ আলম ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এবং সোহান সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। দুজনই বিদ্যালয়ে প্রতিদিন কোচিং করতো। গত ১৪ জানুয়ারি শাহ আলম কোচিং করার সময় লিখতে ভুল করায় ও দুষ্টুমি করার অপরাধে শিক্ষিকা রীমা খাতুন তার হাতের কলমটি ছুড়ে মারায় তা শাহ আলমের চোখে লাগে। সেসময় কান্নাকাটি শুরু করলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং বাসায় বিষয়টি বলতে নিষেধ করেন। কিন্তু চোখের ব্যথা বেশি হওয়ায় শাহ আলম আবারো কান্নাকাটি শুরু করলে বাড়ির আশপাশের সহপাঠীরা তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান ও পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার্থে শাহ আলমের মা-বাবাকে চুপ থাকতে বলেন। এছাড়া চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু চিকিৎসায় খরচ বেশি হবে জানার পর চিকিৎসককে বলে ছাড়পত্র নিয়ে নেয়া হয়। এভাবে মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর শাহ আলমের মা-বাবা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে অস্বীকার করেন বিদ্যালয়ের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে বগুড়ায় চক্ষু ডাক্তারের কাছে গেলে চোখ আর ঠিক হবে না বলে শাহ আলমের পরিবারকে জানান চিকিৎসক।

অপরদিকে স্কুল কমিটির লোকজনের চাপে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী দুই শিশুর অভিভাবক। এর ফলে ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই জবাবদিহিও করতে হয়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে।

শিশু শাহ আলম বলে, লিখতে ভুল করায় ম্যাডাম আমার দিকে কলম ছুড়ে মেরে ছিল। সাথে সাথে চোখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এরপর থেকে আর চোখ দিয়ে দেখতে পারছি না।

শাহ আলমের পরিবারের মত একই অভিযোগ করেছেন ওই বিদ্যালয়ের অপর এক শিশু শিক্ষার্থী সোহানের মা আনজুয়ারা বেগম। তার অভিযোগ, একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কলমের আঘাতে তার ছেলে সোহানের এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অনেকদিন চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি তার চোখ। চোখে ঠিকমতো দেখতে না পারায় তাকে স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় ভর্তি করানো হয়েছে সোহানকে।

অপরদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্কুলটির পরিচালক আবু সাঈদ বাদশা ও প্রধান শিক্ষিকা লুৎফা জাহান বলেন, এসব তো পুরোনো কথা। নতুন করে বলার কী আছে। তাছাড়া দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই বলে এসবের দায় প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।

এ ব্যাপারে শাজাহানপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ বলেন, বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছে দায়বদ্ধ না। তাই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ওই শিক্ষককে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা জরুরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ