অবহেলিত রাব্বি এখন সিঙ্গাপুরের রাইড শেয়ারিং কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার 

অবহেলিত রাব্বি এখন সিঙ্গাপুরের রাইড শেয়ারিং কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার 

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৮ ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:২৬ ২৮ জানুয়ারি ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশ নিতেন। এক্সট্রা সামাজিক ও প্রযুক্তি বিষয়ক কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিসে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। তাই শিক্ষক ও সহপাঠীরা ভালো চোখে দেখেননি। তবে এসবে নিজেকে ব্যস্ত রেখেও প্রথম হয়ে স্নাতক শেষ করেছেন তিনি। তার নাম মশিউর রাব্বি। সফলতার বাঁকে বাঁকে তার জীবনে জড়িয়ে থাকা গল্পগুলো বলছেন শেখ আব্দুর রহিম

ছোটোবেলা থেকে শান্ত স্বভাবের ছিলেন। ডানপিটে আর দুরন্তপনাকে কখনোই ঠাঁই দেননি আপনা চরিত্রে। ভদ্রতার জন্য এলাকা ও শিক্ষক মহলে বেশ প্রশংসনীয়ও ছিলেন। সফলতার সঙ্গে লেখাপড়া আর কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবাসে কর্মজীবন তার।

বলছিলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের কথা। ডাক নাম রাব্বি। বর্তমানে তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি নির্ভর রাইড শেয়ারিং কোম্পানি গ্র্যাবের সিঙ্গাপুর অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছেন।

রাব্বির জন্মস্থান অটোরিকশার শহর বরিশালে। ছোটোবেলা থেকে এখানেই বড় হন। স্কুলবেলা কেটেছে বরিশাল জেলা স্কুলে। পড়াশোনা করেছেন অমৃত লাল দে কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।  

কিন্তু কলেজে পড়াশোনা শেষে বেশ দ্বিধা ছিলো। কোথায় ভর্তি হবেন? মেডিকেল না ইঞ্জিনিয়ারিং কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে? ইচ্ছে ছিল বুয়েটে পড়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার হবেন। কিন্তু পরে পরিবারের পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করেন। এরপর নতুন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তির সুযোগ হয়নি। তবে থেমে যাননি। 

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন। একের পর এক ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হলেও টিকে গেলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি)। ভাগ্যের দরজা খোলা হল কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন এই বিভাগেই। 

এরপর মনের মধ্যে জমে থাকা স্বপ্ন পোষা শুরু হয়। সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কনটেস্টে অংশ নিতেন। ফলাফলে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে নানা সন্মাননা অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি  বিভিন্ন এক্সট্রা সামাজিক ও প্রযুক্তি বিষয়ক কারিকুলাম অ্যাকটিভিটিসে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। কিন্তু তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা কখনোই এসব এক্সট্রা কারিকুলামকে সমর্থন করেনি। এ কারণে তিনি শিক্ষকদের অবহেলার পাত্র ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন উপহাসের পাত্র। আবার এসব এক্সট্রা কারিকুলাম কখনোই কোনো প্রভাব ফেলেতে পারেনি পড়াশোনায়। ২০১৭ সালে ঠিকই তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক শেষ করেন।
  
এ সম্পর্কে রাব্বি বলেন, ছাত্রজীবনে অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে অংশগ্রহণ করতাম। ওই সময় আশপাশের বেশিরভাগ লোকজনই এমনকি অনেক শিক্ষকরাও এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করতেন। তবে আমার আজকের অবস্থানের পেছনে বড় অবদান রয়েছে এ সব প্রতিযোগিতার। সেসব প্রতিযোগিতা থেকেই আমি প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষতা অর্জন করি। আর এই দক্ষতার কারণেই গ্র্যাবের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। 

গ্র্যাবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগদান করার আগে রাব্বি বাংলাদেশের অ্যানোসিস সল্যুশনে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। সেখান থেকে স্বপ্ন ছিল আরো ভালো কিছু করার। পরে হঠাৎ একদিন তিনি গ্রাবের ওয়েবসাইটে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে আবেদন ও রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেন। পরে গ্র্যাবে যোগদানের জন্য মোট সাত ধাপের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে তাকে। পেছনে ফেলতে হয়েছে কয়েক হাজার আবেদনকারীকে।

গ্র্যাবের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তার সফলতা সম্পর্কে জানান, বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলো সিজিপিএ নয়, গুরুত্ব দেয় দক্ষতাকে। তাই তিনি বর্তমান শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিসের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি এ ধরনের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিসে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উৎসাহ এবং সুযোগ সুবিধা প্রদানের আহ্বান জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম