শিক্ষককে লাঞ্চিত, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৩ 

শিক্ষককে লাঞ্চিত, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৩ 

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ৫ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৮ ৫ জুন ২০২০

শিক্ষককে জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে লাঞ্চিত করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ তিনজনকে গ্রেফতার

শিক্ষককে জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে লাঞ্চিত করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ তিনজনকে গ্রেফতার

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক মাদরাসা শিক্ষককে জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে লাঞ্চিত করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

মাওলানা শহিদুল ইসলাম আলাউদ্দিন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দরিচর-খাজুরিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও অফিস সহকারী । উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বুধবার বিকেলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দরিচর-খাজুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে জুতার মালা পরিয়ে তাকে অমানবিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার হলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। 

পরে উপজেলার দরিচর-খাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী, স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার শহীদ দেওয়ান, সাবেক মেম্বার ইউনুস বয়াতি ওরফে কামরুজ্জামান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুস ছত্তার সিকদারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।  

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা দরিচর-খাজুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী এবং স্থানীয় বজলু আকনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

এদিকে মাদরাসা শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে জুতার মালা পড়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। ওই ভিডিওতে চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ী, সাবেক মেম্বার আব্দুস ছত্তার সিকদার এবং চৌকিদার সহ কয়েকজন রয়েছেন। 

জুতার মালা গলায় ঝুলিয়ে শিক্ষককে লাঞ্চিত, গ্রেফতার ১>>>

মাদরাসা শিক্ষক আলাউদ্দিনের স্ত্রী নাহিদা সুলতানা জানান, গত ২০১৯ সালে উপবৃত্তির তালিকা পাঠানোর সময় এক ছাত্রী মাদরাসায় উপস্থিত না থাকায় নিজের একটি মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে দীর্ঘ দিন ওই নম্বরটি ব্যবহার না করায় মোবাইল কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। অবশ্য নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের উপ বৃত্তির ১৮শ’ টাকা ওই মোবাইল নম্বরে জমা হয়। বন্ধ মোবাইল নম্বরটি সচল করলে উপবৃত্তির টাকা দেখতে পান তিনি। 

ওই টাকা ছাত্রীকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই গত ৩০ মে তাকে মারধর করে সিম কার্ডটি নিয়ে যায় ছাত্রীর খালু সাবেক ইউপি মেম্বার সত্তার সিকদার। এরপর বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষা অফিসার ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দিলে এমন ঘটনা ঘটায় তারা। 

তিনি আরো বলেন, টাকা আত্মসাতের ইচ্ছে থাকলে আমার স্বামী গোপনে টাকা উঠিয়ে ফেলতে পারতেন। তবে তিনি তা করেননি। ওই ছাত্রীর স্বজনদের অবগত করার আগেই অভিযুক্তরা এমন অমানবিক কাজ করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে