Alexa শিকলবন্দী সাত বছর

শিকলবন্দী সাত বছর

চয়ন বিশ্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৮ ১৮ মে ২০১৯   আপডেট: ০৯:০৭ ১৯ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নয় বছর আগে রিপন-মোমেনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় এক নবজাতক। বাবা-বা মিলে সন্তানের নাম রাখেন বাদল। তবে তিন মাস পর বদলে যায় বাদলের সব। হঠাৎ বাবা নিরুদ্দেশ হলে বিপাকে পড়েন দাদি ও মা। দুই বছর পর্যন্ত বাদলের সঙ্গে ছিলেন মা। তবে আর্থিক কষাঘাতের কারণে চাকরির ‍উদ্দেশ্যে মা চলে যান ঢাকায়। ফুটফুটে শিশুর দিকে আর ফিরেও তাকাননি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার মৌলভীপাড়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সরুফা বেগম বলেন, দশ বছর আগে সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের মো. রিপন মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কালিসীমার মোমেনা বেগমের বিয়ে হয়। এরপর বাদলের জন্মের তিন মাস বয়সে পরিবার ছাড়ে বাবা রিপন। দাদি শাহানা ও মা কষ্টে বাদলকে বড় করতে থাকেন। বয়স বাড়তে থাকলে বাদলের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি ধরা পড়ে। বাদল কথা বলতে পারতো না। এছাড়া বেশ চঞ্চল সে। এ অবস্থায় দুই বছর বয়সে দাদির কাছে বাদলকে রেখে ঢাকা চলে যান তার মা। এরপর থেকে বাদলের সঙ্গে মায়ের যোগাযোগ হয়নি। তাই অনেকটা দিশাহীন হয়ে পড়েন দাদি শাহানা বেগম। স্বামী বা ছেলে না থাকায় শাহানা বেগম বাদলকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আরো বলেন, অন্যের বাড়িতে ঝি কাজ করেন শাহানা। এই আয় নিয়ে চলতেন তারা। তবে বাদলের চিকিৎসার সামর্থ্য তার নেই। তবে প্রতিবেশী কেউ কেউ আর্থিকভাবে সাহায্য করে বাদলের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু তার উন্নতি হয়নি।
   
আল-আমিন চৌধুরী বলেন, বাদলের দাদি অনেকটা অসহায়। তাকে অন্যের বাড়ি কাজ করতে হয়। যে কারণে নাতিকে নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন তিনি। সরকারি  সহযোগিতা পেলে হয়তো বাদলের একটা গতি হবে।

স্থানীয় মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, শিশুটির দাদিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তিনিও অসহায় হয়ে পড়েছেন। শিশুকে নিয়ে অনেক কষ্ট আছেন তিনি। শিশুটি মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কুলিয়ে উঠতে পারছেন না এই বৃদ্ধা। চিকিৎসার জন্য মাঝে মাঝে কিছু টাকা বাদলের দাদিকে দিয়েছি। একবার নিজে ঢাকা থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনি।

দাদি শাহানা বলেন, নয় বছর আগে রিপন নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এরপর বছর সাতেক আগে ছেলের বৌ চলে যায়। অন্যের বাড়িতে কাজ করে বেঁচে আছি। তবে কারো বাড়িতে প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আবার বাড়িতে রেখে গেলেও এদিক-ওদিক ছুটে যেতো। ফলে সাত বছর ধরে বাদলকে আটক রেখে বাইরে যাই। প্রথমে রশি দিয়ে বেঁধে রাখতাম। বয়স বাড়ার পর আর রশিতে কাজ হয় না। রশি ছিঁড়ে ফেলতো বাদল। এ অবস্থায় কয়েক বছর ধরে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখি। আর্থিক সামর্থ না থাকায় নাতিকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছি না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ্যাডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল করিম বলেন, খবর পেয়ে শিশুটির বাড়িতে ছুটে যাই। প্রথমে শিশুটিকে শিকলমুক্ত করি। এ বিষয়টি খুবই অমানবিক। শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখতে তার দাদিকে পরামর্শ দিয়েছি। এখন সবার সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটির চিকিৎসা ও তার দাদিকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

Best Electronics
Best Electronics