Alexa শিকলবন্দীতে সুফির তারুণ্য!

শিকলবন্দীতে সুফির তারুণ্য!

সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪ ১৬ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:১৮ ১৬ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিন বছর আগে সুফি আহমদ ছিলেন ভালো ছাত্র। তবে হঠাৎ তার আচরণে পরিবর্তন দেখা যায় এ তরুণের। এরপর পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন। এলাকার মেয়েদের সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলতে শুরু করলে পরিবার তাকে শিকলবন্দী করে রাখে। তবে তার চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবারের অনীহায় অতিষ্ঠ স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি।

সুফি দিনাজপুর পৌর এলাকার কসবা ফকিরপাড়ার শাহজাহান আহমেদ ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির বড় ছেলে। 

সুফির অত্যাচারের শিকার মুক্তা, শাহানাজ, বাচ্চু, সাগর, নুর ইসলামসহ অনেকে জানান, প্রায় তিন বছর আগে সুফির আচরণ পরিবর্তন হয়। এরপর থেকে স্থানীয়দের সঙ্গে খারাপ ভাষা প্রয়োগ করতে থাকে সে। পরে তাকে শয়নকক্ষে নজরবন্দী করে তার পরিবার। এমনকি ঘরের জানালা দিয়ে সড়কে যাতায়াত করা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে সে। 

তারা আরো জানান, সুফি বাড়ির বাইরে এলেই নারী ও মেয়েদের ওড়না, শাড়ির আঁচলে টান দেয়। মাঝে মধ্যে নারীদের ঢিল ছোড়ে মারে। শুধু নারীরাই নয়, রেহাই পায় না এলাকার কিশোর, পুরুষরাও। সুফিকে চিকিৎসা করাতে পরিবারকে চাপ দিয়েছে স্থানীয়রা। তবে পরিবারকে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। 

সুফির বাবা ও মা বলেন, সুফি ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিল। ২০১৪ সালে এইচএসসি পাসের পর হঠাৎ করে তার মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। আমরা তাকে হোমিও চিকিৎসা করাচ্ছি। সে অনেকটা সুস্থতা বোধ করছে। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।

দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আশরাফুল আলম রমজান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সুফিকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার কথা কয়েকবার বলা হয়েছে। তবে পরিবার এ আহবান অগ্রাহ্য করছে। এতে নিজেরা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি শ্লীলতাহানীর ঘটনার আতঙ্কে কিশোরী, তরুণী, যুবতীরা রয়েছেন।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আধুনিক চিকিৎসা সেবায় অনেক বড় বড় রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সুফি আহমেদকে ভাল পরিবেশে চিকিৎসা দিলে অন্য রোগীদের মতো সেও ভাল হয়ে উঠবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ